প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৪ | ৯:৪৯ অপরাহ্ণ আপডেট: ১৫ মার্চ ২০২৪ | ৯:৫৭ অপরাহ্ণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের রাউজানে দীর্ঘ ১৭ বছর পর বাড়িতে এসেই স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পিটুনিতে মারা যাওয়া উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ন আহবায়ক ও প্রবাসী বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আবু মুছার (৪৫) বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।ঘরের কোন পুরুষ সদস্যকে না পেয়ে দুর্বৃত্তরা মহিলাদেরকে বের করে দিয়ে গেইটে তালা লাগিয়ে দিয়েছে।
শুক্রবার(১৫ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে ৩০-৪০ জন সশস্ত্র লোক রাউজান পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের ঢেউয়া হাজীপাড়া এলাকায় মুছাদের বাড়িতে গিয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
জানা যায়, মুছা হত্যার ২৬ দিনের মাথায় গত ১৩ মার্চ তার ছোট ভাই মনিরুজ্জামান চট্টগ্রাম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি শাহাজাহান ইকবালসহ ১৪ জনকে আসামী করা হয়েছে। সেই মামলার জেরে মুছার পরিবারের উপর হামলা হয়েছে।
মুছার শ্বশুর নুরুল আজগর বলেন, আমার জামাইকে প্রকাশ্যে ইকবালের নেতৃত্বে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল।সেই ঘটনায় আমরা থানায় মামলা করতে চাইলেও পুলিশ মামলা নেয়নি।বাধ্য হয়ে গত বুধবার চট্টগ্রাম কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেই মামলার কারণেই তারা বাড়িতে হামলা করেছে।পরে ঘরের পুরুষদেরকে না পেয়ে মহিলাদেরকে বের করে দিয়ে তালা মেরে দিয়েছে।এখন বাড়িতে কেউ নেই।’
তিনি বলেন, ‘সেদিন এতোগুলো মানুষের সামনে আমার জামাইটাকে মেরে ফেললো।কেউ কথা বললো না।পুলিশও কোন ব্যবস্থা নেই নি।উল্টো আমাদেরকে হয়রানি করেছে।এখন এলাকার সবার সামনে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে এসে বাড়িতে হামলা করেছে। ঘর থেকে সবাইকে বের করে দিয়ে তালা দিয়েছে।আমরা পুলিশকে জানিয়েছিলাম।পুলিশ এসে কিছু না বলে চলে গেছে।আমরা এখন কোথায় যাবো,কার কাছে বিচার দিবো।’
এদিকে মুছার বাড়িতে হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন বলেন, ৯৯৯ নাম্বারে ফোন দিয়ে আমাদেরকে মুছার বাড়িতে হামলার বিষয়টি জানানো হয়েছে।পরে সেখানে ফোর্স পাঠিয়ে কাউকে পাইনি।আর তালা লাগানোর বিষয়টি আমি জানিনা। খোঁজ নিয়ে বলতে হবে।
প্রসঙ্গত, নিহত আবু মুছা রাউজান উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ন আহবায়ক। স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী বলে পরিচিত। গত বিএনপি জোট সরকার ক্ষমতা ছাড়ার পরই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ভয়ে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে পাড়ি দেন। সেখানে ব্যবসা বাণিজ্যের পাশাপাশি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন তিনি।এরমধ্যে কয়েকবার দেশে আসলেও ভয়ে আর গ্রামের বাড়ি রাউজানে যাওয়া হয়নি।সর্বশেষ ১৭ বছর পর ওমান থেকে এসে গত ১৬ই ফেব্রুয়ারি পিতা-মাতার কবর জিয়ারত করতে গ্রামে গিয়েই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মারধরের শিকার হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান তিনি।এই ঘটনার জেরে গত ১৩ মার্চ নিহতের ভাই বাদী হয়ে ১৪ জনকে আসামী করে চট্টগ্রাম আদালতে মামলা দায়ের করেন।আদালত এই মামলাটি আমলে নিয়ে উক্ত তারিখ এবং সময়ে রাউজান থানায় এই সংক্রান্ত কোনো নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে কিনা জানতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।’
