নিজস্ব প্রতিবেদক
ভারত মহাসাগরে জলদস্যুদের হাতে জিম্মি বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহকে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে সোমালিয়ার গ্যারাকাড উপকূলে নোঙর করা হয়েছিল। পরে সেখানে আরেকটা সশস্ত্র গ্রুপের হাতে তাদেরকে সোপর্দ করা হয়।এখন সেখান থেকে নাবিকসহ জাহাজটিকে অন্যদিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
জানা যায়, আজ শুক্রবার সাড়ে ৩টার দিকে জাহাজের মালিকপক্ষের কাছে ই-মেইলে এ বার্তা দেন চিফ অফিসার ক্যাপ্টেন মো. আতিক উল্লাহ খান।সেখানে তিনি বলেন, জলদস্যুদের নির্দেশে আবার বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহর নোঙর তুলে ফেলা হয়েছে। এবার জাহাজটিকে দস্যুদের নতুন কোনো সুবিধাজনক স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
আতিকুল্লাহ বলেন,বৃহস্পতিবার জাহাজটি সোমালিয়ার উপকূল গারাকাতে নোঙর করা হয়েছিল। একদিন বিরতির পর আবার চলতে শুরু করেছে । শুক্রবার সকালে জলদস্যুদের নির্দেশে নোঙর তুলে ফেলা হয়েছে। এরপর জলদস্যুরা জাহাজটি চালাতে নির্দেশ দেয়। বর্তমানে জাহাজটি গারাকাত উপকূল থেকে উত্তরদিকে অগ্রসর হচ্ছে।
বিষয়টি স্বীকার করে জাহাজটির মালিকপক্ষ কবির গ্রুপের মিডিয়া অ্যাডভাইজার মিজানুল ইসলাম বলেন , ‘আমরা বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ব সূত্রে জানতে পেরেছি যে জাহাজটির নোঙর তুলে ফেলা হয়েছে এবং সেটিকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে কোথায় নেয়া হচ্ছে সেটা জানা সম্ভব হয়নি।
এদিকে বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ক্যাপ্টেন শাখাওয়াত হোসেন শুক্রবার রাত ৮ টার দিকে বলেন,জাহাজটি গতকালের নোঙর পয়েন্ট থেকে প্রায় ৪০ -৫০ মাইল উত্তর দিকে আরও সরে গেছে।এই মুহুর্তে এটি গোদবজিরানের উপকূল থেকে প্রায় ৪ মাইল দূরে নোঙর করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এরমধ্যে জলদস্যুদের সাথে আমাদের কোন যোগাযোগ হয়নি।তবে।নাবিকদের সাথে কথা হয়েছে।তারা ভালো আছেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাতে জিম্মি এমভি আব্দুল্লাহ জাহাজকে উদ্ধারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নেভাল ফোর্সের পাশাপাশি ভারতীয় নৌবাহিনীও প্রচেষ্টা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ।এই বিষয়ে তারা শুক্রবার (১৫ মার্চ) একটি বিবৃতি দিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয় , সাহায্যের আবেদন পেয়ে ‘বিপদগ্রস্ত’ জাহাজটির কাছে প্রথমে তাদের একটি নজরদারি বিমান গিয়েছিল। কিন্তু ওইদিন (১২ মার্চ) বিমানটি নাবিকদের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেনি। মূলত এমভি আব্দুল্লাহ থেকে কোনো উত্তর দেওয়া হয়নি তাদের।এরপর ১৪ মার্চ তাদের যুদ্ধজাহাজ ছিনতাই হওয়া জাহাজটিকে অবরুদ্ধ করে। ওই সময় নাবিকদের অবস্থান ও পরিস্থিতি নিরূপণ করে যুদ্ধজাহাজটি। কিন্তু দস্যুদের কিছু করা সম্ভব হয়নি।
প্রসঙ্গত, জাহাজ ও জিম্মি নাবিকদের উদ্ধারে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ।এরমধ্যে এগিয়ে এসেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নেভাল ফোর্স (ইইউএনএভিএফওআর)। তারা এমভি আব্দুল্লাহকে পর্যবেক্ষণে রেখেছে।বাংলাদেশের এই জাহাজকে উদ্ধারে তাদের এই পুরো কার্যক্রমের নাম দেয়া হয়েছে অপারেশন আটলান্টা।এরমধ্যে জলদস্যুদের সাথে তাদের গুলিবিনিময়ও ঘটেছে।
