বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

সোমালিয়ার গ্যারাকাড উপকূলে এমভি আব্দুল্লাহ, ইউ বাহিনীর সাথে দস্যুদের গুলিবিনিময়

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৪ | ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ১৫ মার্চ ২০২৪ | ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ
সোমালিয়ার গ্যারাকাড উপকূলে এমভি আব্দুল্লাহ, ইউ বাহিনীর সাথে দস্যুদের গুলিবিনিময়

নিজস্ব প্রতিবেদক 

ভারত মহাসাগরে জলদস্যুদের হাতে জিম্মি চট্টগ্রামের কবির গ্রুপের জাহাজ ‘এমভি আবদুল্লাহ’ সোমালিয়ার গ্যারাকাড উপকূলের অবস্থান নোঙর করেছে।পথিমধ্যে এই দস্যুদের সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি যুদ্ধজাহাজের গুলিবিনিময়ও হয়েছে।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ক্যাপ্টেন শাখাওয়াত হোসেন দ্যা নিউজকে জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে জাহাজটি গ্যারাকাড উপকূলে নোঙর করেছে।এরপর নাবিকদেরকে হয়তো অন্য কোথাও সরিয়ে নেয়া হবে।’

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১ টার দিকে জাহাজের এক নাবিক অপরিচিত একটি হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার থেকে ফোন দিয়ে জানান ‘গতকাল রাতে (বুধবার দিনগত রাত) নেভির একটা জাহাজ আমাদের উদ্ধার করার চেষ্টা করে। এরা (জলদস্যুরা) আমাদের দেয়নি। ওরা (উদ্ধারে আসা জাহাজ) বাইরে থেকে ফায়ার করেছে। তখন জলদস্যুরা বলছে আমরা (বাংলাদেশি নাবিকরা) হোস্টেজ (জিম্মি) আছে। ওরা (উদ্ধারে আসা জাহাজ) যদি হামলা করে, তাহলে আমাদের মেরে ফেলবে।’

জিম্মি নাবিক বলেন, ‘এরপর ওরা সরে গেছে। ওরা (উদ্ধারে আসা জাহাজ) ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে থেকে আমাদের অনুসরণ করছে। আমাদের ক্যাপ্টেনকে বলছে, ওরা আমাদের ফলো করছে, ২০ ন্যাটিক্যাল মাইল দূরে দূরে থাকছে। যথাসম্ভব ওরা কাছে আসতে পারবে না।’

মার্চেন্ট নেভির ক্যাপ্টেন আতিক ইউএ খান জানান,’বুধবার রাতে এমভি আব্দুল্লাহ’র চীপ অফিসার ক্যাপ্টেন আতিক উল্লাহ অপরিচিত হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট থেকে অডিও পাঠিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, গত রাতে সবার মোবাইল সিজ করা হয়েছিল। সবাইকে ব্রিজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়নি। সবাই যেহেতু কো-অপারেশন করছে, জলদস্যুরাও ভালো আচরণ করছে। সবাইকে সেহেরি করানোও হয়েছে।’

বৃহষ্পতিবার বিকেলে এমভি আব্দুল্লাহ জাহাজের মালিকপক্ষ কবির গ্রুপের মিডিয়া এডভাইজার মিজানুল ইসলাম দ্যা নিউজকে বলেন, আজ সকাল ৯ টার দিকে নাবিকদের সাথে কথা হয়েছে।দস্যুরা মোবাইল নিয়ে ফেললে বিশেষ কায়দায় তাদের একজনের সাথে আমাদের কথা হয়েছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি এরমধ্যে গ্যারাকাড উপকূলে পৌঁছেছে।এরপর হয়তো দস্যুরা হয়তো তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে কথা বলবেন।তবে এখনও তাদের সাথে কোন যোগাযোগ হয়নি।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে কবির গ্রুপের নিকেলবাহী ভেসেল ‘জাহাজ মণি ‘ অপহরণ করেছিল জলদস্যুরা।পরে সেটাকে নিয়ে যাওয়া হয় সোমালিয়ার গ্যারাকাড উপকূলে।এরমধ্যে ১০০ দিন পর ২৮ কোটি টাকা মুক্তিপণ দিয়ে নাবিকসহ জাহাজটিকে ফিরেয়ে এনেছিল চট্টগ্রাম ভিত্তিক এই শিল্প গ্রুপটি।

 

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares