নিজস্ব প্রতিবেদক
অনেকটা ঢাকঢোল পিটিয়ে চাকরি পাওয়া প্রতিবন্ধী সেই তরুণ চাকরিচ্যুত হলেন ৬ মাস পরই। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স পাস করা রায়হান কর্মহীন হয়ে ফের অসহায়। চাকরির বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি লাইভে এসে দাবি করে বলেন , সস্তা বাহবা নিতেই আইসিটি মন্ত্রনালয়ের অধীন প্রকল্পে স্বল্পসময় দেয়া হয়েছিলো চাকরি।
আক্ষেপ করে রায়হান বলেন, ছোটবেলায় হারিয়েছি দুই হাত। বাবা নেই। মা আর স্ত্রীকে নিয়ে ছোট্ট সংসার। আইসিটি মন্ত্রণালয়ে পাওয়া ২৫ হাজার টাকা বেতনের চাকরিতে ভালোই চলছিল তিনজনের সংসার। গর্ভাবস্থায় থেকে মা সংগ্রাম করেছেন। প্রতিবন্ধী ছেলেকে পড়িয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। চাকরি পাওয়ার পর মা স্বপ্ন দেখেছেন সবাইকে গর্ব করে বলতেন আমার ছেলেও পারে। কিন্তু হঠাৎ করেই শুনি আমার চাকরি আর নেই। স্বপ্ন দেখা মায়ের সামনে কীভাবে দাঁড়াব আমি! প্রতিবন্ধী এটি কি আমার অপরাধ? অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন রায়হান।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) থেকে স্নাতকোত্তর রায়হান কল্পনাও করেনি তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক তার হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেবেন! সেই স্বপ্নও সত্যি হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু সাত মাস না যেতেই বেকার। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে আইসিটি মন্ত্রণালয় থেকে তাকে অব্যাহতির বিষয়টি জানানো হয়। হঠাৎ চাকরি হারিয়ে রায়হানের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা।
গতকাল সোমবার বিকালে রায়হান জানান, তার নিয়োগে সারাদেশের মানুষ খুশি হয়েছিল। চাকরির ৬ মাস না যেতেই গত ১ জানুয়ারি চিঠি পাঠিয়ে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। অথচ রায়হান যে প্রজেক্টে কাজ করেছে, সে প্রজেক্টে বাকি কারও চাকরি যায়নি। রায়হান বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিয়োগ দিচ্ছে এটি আমাকে বলেনি। যদি বলত আমি অন্য চাকরির চেষ্টা চালাতাম। আমার দোষটা কোথায়, অপরাধ কী? আমি প্রতিবন্ধী এটি কি আমার অপরাধ?’ তিনি আরও বলেন, ২৫ হাজার টাকা বেতন পেতাম; টানা দুই মাস বেতন পাইনি। মাঝখানে খুব অসুস্থ ছিলাম। চিকিৎসার টাকা ছিল না। চাকরি যাওয়ার পর বিষয়টি সিনিয়রদের জানিয়েছি। তারা জানিয়েছেন প্রজেক্ট শেষ, তাই আমার চাকরিও নেই। অনেকবার পলক (আইসিটি প্রতিমন্ত্রী) স্যারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি; কিন্তু পারিনি। তিনি বিষয়টি জানলে হয়তো আমার অবস্থা এমন হতো না।
বাহার উদ্দিন রায়হান কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার লক্কারচরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। ২০০৪ সালের ৩০ অক্টোবর পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে দুই হাত হারান। সেখানে থেমে যাননি তিনি। মুখে কলম আটকে কনুইয়ের সাহায্যে পরীক্ষা দিয়ে এসএসসি, এইচএসসি এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর করেছেন। কিন্তু হাত না থাকার অজুহাতে রায়হান চাকরি পাচ্ছিলেন না। পরে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক আইসিটি বিভাগে তাকে চাকরি দেন। এনহ্যান্সিং ডিজিটাল গভর্নমেন্ট অ্যান্ড ইকোনমি প্রকল্পের সব প্রশিক্ষণে সমন্বয় করার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমসের (পিএমআইএস) ‘প্রশিক্ষণ সমন্বয়ক’ পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন।
এদিকে রায়হানের হঠাৎ চাকরিচ্যুতের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে ।তার চাকরিচ্যুতির বিষয়ে নেটিজনরা বিভিন্ন মন্তব্য করছে।
