বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

৭ জানুয়ারি বাঁশখালীতে এমপি মোস্তাফিজ সাম্রাজ্যের পতন হলো যেভাবে

প্রকাশ: ৯ জানুয়ারি ২০২৪ | ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ৯ জানুয়ারি ২০২৪ | ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ
৭ জানুয়ারি বাঁশখালীতে এমপি মোস্তাফিজ সাম্রাজ্যের পতন হলো যেভাবে

আবু রোহামা,বিশেষ প্রতিনিধি 

কথায় কথায় গায়ে হাত তোলা ও গালি দেয়ার কারণে বেশ আলোচিত ছিলেন চট্টগ্রামের বাঁশখালী আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী।আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে অশ্রাব্য গালিগালাজ, মুক্তিযোদ্ধাকে পিটুনি, সাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মিছিল, পুলিশকে মেরে ফেলার হুমকিসহ নানা অভিযোগে বিভিন্ন সময় আলোচনায় থাকতেন সরকার দলীয় এই এমপি।আর সেই প্রভাবশালী মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী এবার নিজেই হামলার শিকার হয়েছেন। প্রতিপক্ষের হামলায় ফেঁটে গেছে তার মাথা।ভাঙচুর করা হয়েছে তাঁর গাড়ি।একইসাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হুমকি দেয়ার ঘটনায় ভোটের দিন বিকেলেই তাঁর প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

ভোটের দিন (রবিবার). বিকেল পৌঁনে ৩টার দিকে বাঁশখালীর উত্তর সরল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে যান নৌকার মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। সাথে সাথে তাকে ঘিরে ধরে অবরুদ্ধ করে রাখেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজিবুল হকের অনুসারীরা। এক পর্যায়ে মোস্তাফিজের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এসময় ঢিলের আঘাতে তাঁর মাথা ফেটে যায়। এ সময় তার অনুসারীদেরকেও ধাওয়া দেওয়া হয়। পরে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া -পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ঈগল প্রতীকের প্রার্থী মুজিবুর রহমানের সমর্থকরা উত্তর সরল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাই করছিলেন। খবর পেয়ে এমপি সাহেব সেখানে যান। এ সময় ঈগল প্রতীকের লোকজন তার ওপর হামলা চালায়। তিনি আহত হয়েছেন। তার একটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।

যদিও ঈগল প্রতীকের প্রার্থী মুজিবুর রহমান সিআইপি’র মিডিয়া সমন্বয়ের দায়িত্বপালন করা সাংবাদিক ফারুক আব্দুল্লাহ বলেন,’উত্তর সরল স্কুলে একেবারেই শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন চলছিলো। তবে হঠাৎ নৌকা প্রতীকের প্রার্থী লোকবল নিয়ে কেন্দ্র দখল করতে আসেন।এতে স্থানীয়রা বাঁধা দিলে ঝামেলা তৈরি হয়।লোকজন এমপির গাড়িও ভাংচুর করেছে।’

 

এদিকে এই ঘটনার আধা ঘন্টা পরই সবচেয়ে বড় দুঃসংবাদ পান এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী।নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরকে হুমকি ধমকি দেয়ার ঘটনায় তার প্রার্থীতা বাতিল করা হয়েছে।যদিও এর আগেই স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মুজিবুর রহমান ভোটের মাঠে এগিয়ে আছেন বলে বিভিন্ন জায়গায় চাউর হয়েছিল।

রবিবার বিকাল ৪টায় ইসি সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর প্রার্থিতা সর্বসম্মতিক্রমে কমিশন বাতিল করেছে। তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে ভীতি প্রদর্শন করেছেন।এছাড়া তাঁর বিরূদ্ধে মামলাও করা হয়েছিল। সবদিক বিবেচনায় নিয়ে ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে বাঁশখালীতে নৌকার প্রার্থী মোস্তাফিজের অনুসারী কয়েকজন নেতার বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ।এই খবর জানার পর বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফায়েল আহমেদকে ফোন দিয়ে পুলিশের হাত কেটে ফেলার হুমকি দেন এমপি মোস্তাফিজ।এছাড়া তিনি ওসিকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধমকি দিতে থাকেন।এসময় এমপির এসব কথার জবাবে ওসি তোফায়েলকে অসহায়ত্ব প্রকাশ করতে শোনা যায়।আর ওসির সাথে এমপির এই কথোপকথন নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে মানবজমিন।এছাড়া ভোটের দিন দুপুরেও থানায় এসে ওসিকে শাসিয়ে যান মোস্তাফিজুর রহমান। এই দুই ঘটনার আলোকে ভোট গণনা শুরুর কিছুক্ষণ আগেই মোস্তাফিজুর রহমানের নৌকার প্রার্থীতা বাতিল করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রবিবার সকাল ১১টার দিকে নৌকার প্রার্থীর সমর্থক আবদুল গফুর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলে আশকারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।আর ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত করেন দায়িত্বরত প্রিজাইডিং কর্মকর্তা। খবর পেয়ে থানায় ছুটে আসেন মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী।এসেই তিনি ওসিকে ধমক দেন ও ক্ষোভ ঝাড়তে থাকেন।একপর্যায়ে ওসি তোফায়েলও এমপির সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।পরে থানা থেকে বের হয়ে যান এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী।

এদিকে সন্ধ্যায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, বাঁশখালী আসনে  বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন  ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজিবুর রহমান সিআইপি। তিনি পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৪৯৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল্লাহ কবির লিটনের প্রাপ্ত ভোট ৩২ হাজার ২২০।আসনটিতে ভোট বাতিল হয়েছে ৩৬ হাজার ৯৬৮টি।এগুলোর অধিকাংশই প্রার্থিতা হারানো নৌকা প্রতীকের মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর।

 

 

 

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares