নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশজুড়ে বিএনপির-জামায়াতের ডাকা ৫ম দফা অবরোধের প্রথম দিনে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা।
বুধবার (১৫ নভেম্বর) অবরোধের সমর্থনে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক নাজিমুর রহমানের নেতৃত্বে দুপুরে আগ্রাবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করে নেতাকর্মীরা।এদিন দুপুরে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন ও আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে বাকলিয়া এক্সেস রোডে মহানগর বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল, মহানগর বিএনপি’র সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হালিম স্বপনের নেতৃত্বে লালখান বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল, বায়েজিদ থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ জাকারিয়া সেলিমের নেতৃত্বে জালালাবাদ বালুছড়া এলাকায় মিছিল ও সড়ক অবরোধ, মহানগর যুবদলের সহ সভাপতি ফজলুল হক সুমনের নেতৃত্বে সাগরিকা পি.সি রোডে পাহাড়তলী থানা যুবদলের মশাল মিছিল, চবি ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শহিদের নেতৃত্বে লালখান বাজার ও কাজীর দেউড়ি সড়কে মিছিল, মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সালাউদ্দীন কাদের আসাদ ও জাহেদ হোসেন জোসির নেতৃত্বে মশাল মিছিল বহদ্দারহাট মোড়ে, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড়ের বড়পুল এলাকায় মহানগর ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের মিছিল, চান্দগাঁও বাহির সিগনাল এলাকায় চান্দগাঁও থানা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক ও শ্রমিক দলের মিছিল, কোতোয়ালী থানা এলাকায় থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃবৃন্দসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল ও সড়ক অবরোধ করে।
অবরোধকে কেন্দ্র করে মহানগর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির আরও ৩০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতারে বিষয় নিশ্চিত করেছে বিএনপির চট্টগ্রাম মহানগরে দপ্তরে দায়িত্বে থাকা ইদ্রিস আলী।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার পাহাড়তলী থানায় এবং বুধবার কোতোয়ালি থানায় আরো দুইটি নতুন মামলা দায়ের করা হয়। এই নিয়ে মহানগরে এখন মোট ১৮ মামলা। কোতোয়ালির মামলায় দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এনামুল হক এনাম ও সাবেক মন্ত্রী মরহুম জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা সহ ৬০/৭০ জনকে আসামী করা হয়। পাহাড়তলী থানার মামলায় মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী সহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়।
এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি ও আহবায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক নুরুল আলম রাজুকে মঙ্গলবার বিকালে বাকলিয়া নোমান কলেজ থেকে বাসায় আসার পথে বিনা কারণে গ্রেফতার করে বাকলিয়া থানা পুলিশ। তাছাড়া পতেঙ্গা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম, থানা যুগ্ম সম্পাদক আবু তাহের ও পতেঙ্গা থানা সেচ্ছাসেবক নেতা ইলিয়াছকে পতেঙ্গা থানা, দক্ষিণ আগ্রাবাদ ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা কামাল সুমনকে বড়পোল থেকে ডিবি পুলিশ, বায়েজিদ থানা ছাত্রদলের সদস্য মো: শাকিল ও মো. রাশেদকে বায়েজিদ থানা, সরাইপাড়া ওয়ার্ড যুবদল নেতা আল আমিন, মো. হৃদয় ও ইকবাল হোসেনকে পাহাড়তলী থানা, দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ড যুবদল নেতা সাইফুল ইসলাম বাবুকে ইপিজেড থানা, শুলক বহর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মো. আলমগীর, মো. আলম সওদাগর ও থানা যুবদলের সদস্য আমজাদ হোসেনকে পাচঁলাইশ থানা পুলিশ গ্রেফতার করে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) বিকেলে অবরোধের সমর্থনে লালদিঘির পাড় এলাকায় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে মিছিল বের করার সময় কোতোয়ালি থানা পুলিশ অতর্কিত হামলা চালিয়ে মিছিল ভন্ডুল করে দেয়। ঘটনাস্থল থেকে কর্ণফুলী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাজী মো. ওসমান, দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদুর রহমান, পদুয়া ইউনিয়ন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম, সাতবাড়ীয়া ইউনিয়ন এলডিপির সভাপতি শামসুল আলম ও সহ সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, বোয়ালখালী উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক শাহাদাত হোসেন, উত্তর সাতকানিয়া উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মো. শহীদুল্লাহ, চর পাথরঘাটা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, চন্দনাইশ পৌরসভা যুবদলের সদস্য সচিব শহীদুল ইসলাম, কর্ণফুলী উপজেলা ছাত্রদল নেতা সাখাওয়াত হোসেন মিশু, বিএনপি নেতা মাহবুবুর রহমান, মো. ইছহাক সহ ১২ জনকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।
সকাল থেকে নগরীতে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে, সকালে নগরের একে খান মোড়ে একটি যাত্রীবাহি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।নগরের বাহিরে সাতকানিয়া কেরানিরহাটও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে সরকারের পদত্যাগ, কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানসহ গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মী ও আলেম-ওলামার মুক্তির দাবিতে নগরীর কোতোয়ালী, সদরঘাট, বাকলিয়া ও চান্দগাঁও থানাসহ নগরের বিভিন্ন স্থানে সড়ক, নৌ ও রেলপথ অবরোধ করে পিকেটিং ও বিক্ষোভ মিছিল করে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা।
