বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

হালাল উপার্জন করা ফরজ

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৩ | ৯:২৩ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৩ | ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ

ইসলাম ডেস্ক

বৈধ ও হালাল উপার্জনের উপর নির্ভর করা এবং অবৈধ ও হারাম উপর্জন বর্জন করা মুসলিসমর উপর ফরজ ইবাদত।শুধু তাই নয়, এর উপর নির্ভরকেরে তার অন্যান্য় ফরজ ও নফল ইবাদত আল্লাহর কাছে কবুল হওয়া বা না হওয়া । বিষয়টির গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন না হওয়ার কারণে অনেক মুসলিম এ বষেয়ে কঠিন বিভ্রান্তির মধ্যে নিপতিত । অনেক ধর্মিক মানুষ  রয়েছেন যারা সুন্নাত, মুস্তাহাব ইত্যাদির বিষয়ে মোটও সচেতন নন। কুরআন-হাদিসের দৃষ্টিতে এটি বক- ধার্মিকতা ছাড়া কিছুই নয়। আল্লাহ বলেন: ‘হে রাসূলরা, তোমরা পবিত্র বস্ত হতে আহার কর এবং সৎকর্ম কর । তোমরা যা কর সে বিষয়ে আমি অবহিত ‘।

অবৈধ উপার্জন থেকে আত্মরক্ষার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা নিজেদের  মধ্যে েএকে  অপরের অর্থ -সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না এবং মানুষের  ধনসম্পদ জেনেশুনে অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করার জন্য তা বিচারকদের কাছে পেশ করো না’ সূরা নিসার ২৯ আয়াতে এরশাদ করা হয়েছে –’হে মুমিনরা,তোমরা নিজেদের মধ্যে েএকে অপরের  অর্থ -সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না; তবে তোমাদের পরস্পর রাজি হয়ে  ব্যবসা  করা বৈধ’।

 

কুরআন ও হাদিসে বিশেষভাবে নিষিদ্ধ অবৈধ লেনদেনের মধ্যে অন্যতম হলো ,ওজনে বা মাপে কম দেওয়া, ভেজাল দেওয়া ,ধোাঁকা দেওয়া,ফাঁকি দেওয়া,সরকার বা জনগণের সম্পদ গ্রহণ করা,সুদ গ্রহণ বা প্রদান করা,ঘুস গ্রহণ বা প্রদান ইত্যাদি। সূরা মুদাফফিফীন এর প্রথম আয়াতে এরশাদ করা হয়েছে , ‘জাহান্নামের ভয়াবহ পরিণাম তাদের জন্য যারা মাপে ও পরিমাপে কম দেয়, এভাবে কুরআন করিমে বারবার পূর্ণরূপে ওজন, মাপ ও পরিমাপ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে েএবং সব ধরনের ফাঁকি , কমতি বা কম প্রদানের কঠিন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়েছে। এরূপ করলে পৃথিবীতে  কঠিন গজব ও আখেরাতে কঠিন শাস্তির কথা ঘোষণা করা হয়েছে।রাসূলুল্লাহ ( সা.) বলেছেন: ‘যখন কোনো সম্প্রদায়ের মানুষ মাপে -ওজনে বা পরিমাপে কম বা ভেজাল দিতে থাকে , তখন তারা দুর্ভিক্ষ, জীবনেযাত্রার কঠিন্য  ও প্রশাসনের বা ক্ষমতাশীলদের  অত্যাচারের শিকার হয়্।’যে কোনো ধরনের ধোঁকা দেওয়া বা প্রকৃত অবস্থা গোপন করার নামই গিশশ।বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে রাসূলুল্লাহ (সা.) গিশশ বা প্রবঞ্ঝনা থেকে  নিষেধ  বকরেছেন। হাদিসে ’রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি আমাদের  ফাঁকি বা ধোঁকা দেবে আমাদের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।’কুরআন ও হাদিসে নিষিদ্ধ িএকটি বিষয় হলো গুলুল! সব ধরনের অবৈধ উপার্জনকেই গুলুল বলা হয় । আল্লাহ বলেন,’কোনো নবির পক্ষে অসম্ভব যে তিনি অবৈধভাবে কিছু  গোপন করে গ্রাস করবেন এবং কেউ অবৈধভাবে কিছু গোপন করে তাহলে কেয়ামতের দিন সে তা নিয়ে আসবে। অতঃপর প্রত্যেককে যা সে অর্জন করেছে তা পূর্ণ মাত্রায় দেওয়া হবে। কাদেরদ প্রতি কোনো জুলুম করা হবে না।’

 

অবৈধ উপার্জনের অন্যতম পদ্ধতি ঘুস। যে ব্যক্তি  কোনো কর্মের জন্য বেতন ,সম্মানি  বা ভাতা গ্রহণ  করেন , সেই কাজের জন্য ‘সেবা গ্রহণকারী  ‘ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা অন্য কারও থেকে কোনো ধরনের হাদিয়া বা বকশিশ বা বদলা নেওয়াই ঘুষ।এ ছাড়া নেতা ,কর্মকর্তা , কর্মচারী, বিচারক প্রমুখকে তাদের কৃপাদৃষ্টি আকৃষ্ট করার জন্য যে হাদিয়া প্রদান করা হয়  তা-ও ঘুস বলে হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রহ.) বলেন,ঘুষ গ্রহীতা ও ঘুষদাতাকে লানত অভিশাপ করেছনে রাসূলুল্লাহ (সা.)।

 

অবৈধ উপার্জনের অন্যতম হলো রিবা বা সুদ । ঋণ হিসেবে প্রদত্ত অর্থের ওপর সময়ের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণই ইসলামী শরীয়তে সুদ । এ ছাড়া একই জাতীয় দ্রব্যের লেনদেন কমবেশি করাও ইসলামে সুদ বলে গণ্য। কুরআন ও হাদিসে অত্যন্ত কঠিনভাবে সুদ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এর কঠিন শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সূরা বারা এর ২ ৭৫-২৭৯আয়াতে এরশাদ  করা হয়েছে, ‘যারা সুদ খায় তারা সেই ব্যক্তির মতো দাঁড়াবে যাকে শয়তান  স্পর্শ করে পাগল করে। তা এজন্য যে, ‘তারা বলে ব্যবসা তো ‍ সুদের মতো ।’ অথছ আল্লাহ ব্যবসাকে বৈধ করেছেন এবং সুদকে  অবৈধ করেছন।’ মহান আল্লাহ আমাদের হারাম উপার্জন থেকে বাঁচার তৌফিক দান করুক ।

 

 

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares