বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

হাটহাজারীর ‘ফজলুল কাদের চৌধুরী আইডিয়েল কলেজ’র পাঠদান বন্ধ করে দিয়েছে শিক্ষাবোর্ড

প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২২ | ৬:৫৯ অপরাহ্ণ আপডেট: ২৩ ডিসেম্বর ২০২২ | ৭:২৯ অপরাহ্ণ
হাটহাজারীর ‘ফজলুল কাদের চৌধুরী আইডিয়েল কলেজ’র পাঠদান বন্ধ করে দিয়েছে শিক্ষাবোর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

হাটহাজারীর রহিমপুরে অবস্থিত ফজলুল কাদের চৌধুরী আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফজলুল কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ থাকায় তার নামে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান বন্ধ করে দিয়েছে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড।

গত বুধবার (২১ ডিসেম্বর) প্রতিষ্ঠানটির কলেজ শাখার সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দেয় চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড। চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটির কলেজ শাখায় ভর্তি ও পাঠদানসহ সব কার্যক্রম বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়।একইসাথে স্কুল শাখার কার্যক্রম বন্ধের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে বলে জানানো হয়।

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক জাহেদুল হক সাম্পান নিউজকে বলেন, ‘ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে যুদ্ধাপরাধীদের নাম বাদ দেয়ার আদালতের একটি নির্দেশনা আছে।আমরা এই প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষকে কলেজের নাম পরিবর্তনের জন্য অনেকবার চিঠি দিয়েছি।কিন্তু তারা ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়ে আমাদের কথা শুনেন নি।তাই বাধ্য হয়ে আমাদেরকে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হয়েছে। তারা এখন থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি, পাঠদান, পরীক্ষার নিবন্ধনসহ কোন কার্যক্রম চালাতে পারবে না।

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক অধ্যাপক বিপ্লব গাঙ্গুলি বলেন, ‘বিভিন্ন শর্তে একটি প্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি দেয়া হয়।আর সেটি ৩ বছর পর পর নবায়ন করতে হয়।আর আমাদের দেয়া নির্দেশনা মানলে সেই স্বীকৃতি আর নবায়ন করা হয় না।এই প্রতিষ্ঠানকে তাদের নাম পরিবর্তনের জন্য নির্দেশনা কয়েকবার দিয়েছি।কিন্তু ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়ে তারা সেটি করেনি।এখন কলেজ শাখার পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।আমরাও এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো।নবম শ্রেণিতে নিবন্ধন এবং এসএসসি পরীক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে। এতে শিক্ষার্থীদের সাময়িক সমস্যা হতে পারে।তবে আদালতের নির্দেশনা হচ্ছে , কোন রাজাকারের নামে প্রতিষ্ঠান থাকা যাবে না।তাই আমাদের কিছুই করার নেই।তবে তারা যদি নাম পরিবর্তনের নির্দেশনা মানেন,তাহলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে।’

এদিকে শিক্ষাবোর্ডের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির দাতা সদস্য আব্দুর রহমান চৌধুরী বলেন, তারা বলেছেন আমরা নাম পরিবর্তন না করায় এটির পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।আমরা তো তাদের কথামতো নাম পরিবর্তন করে ‘ফাতেমা জব্বার চৌধুরী স্কুল এন্ড কলেজ ‘ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটি লিখিতভাবে তাদেরকে জানিয়েছি।তবে এটা তারা মানছেন না।তারা বলছেন নাম পরিবর্তন করতে হলে বোর্ডকে ৫০ লাখ টাকা দিতে হবে।কিন্তু এতো টাকা কোথায় থেকে দিবো। এটা তো একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান। প্রয়োজনে সেই টাকা জোগাড় করতে আমাদেরকে সময় দিতো।কিন্তু তারা সেটি না কারণে তারা পাঠদান বন্ধ করে দিয়েছেন।যে কারণে এতোগুলা ছাত্রছাত্রীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

আব্দুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘ শিক্ষাবোর্ড বলছে ফজলুল কাদের চৌধুরীর পরিবারের কারো নামে প্রতিষ্ঠানের নাম রাখা যাবে না।তাদের কাউকে পরিচালনা কমিটিতে রাখা যাবে না।তাহলে এই প্রতিষ্ঠান চলবে কিভাবে।এটি তো এমপিও ভুক্ত হয়নি।চৌধুরী পরিবারের অনুদানের টাকায় এটি পরিচালিত হয়। তার মানে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দিতে হবে।এককথায় বলি, শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই সরকার এই সুনামধন্য প্রতিষ্ঠানটিকে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে।

উল্লেখ্য, সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীর বাবা পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সাবেক স্পীকার ফজলুল কাদের চৌধুরীর নামে হাটহাজারী উপজেলার রহিমপুরে ১৯৯০ সালে ‘ফজলুল কাদের চৌধুরী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করেন তার ছেলে সাইফুদ্দিন কাদের চৌধুরী। তবে ২০১৫ সালে এই প্রতিষ্ঠানটিকে উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নীত করা হয়।আর এটির নতুন নাম দেয়া হয় ফজলুল কাদের চৌধুরী আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ।

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares