নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রেমের সম্পর্কের সুবাদে ১২ বছর আগে পটিয়ার তরুণী রনি আক্তার সাথীকে বিয়ে করেছিলেন ফটিকছড়ির যুবক সালাহউদ্দিন (৪০)। বিয়ের পর তাদের সংসারে একটা কন্যা সন্তান আসে। তবে সন্তান জম্মের পর ধীরে ধীরে মতিভ্রম হয় স্বামী সালাহ উদ্দিনের।এক পর্যায়ে স্ত্রীর অগোচরে নতুন করে আরেকটি বিয়ে করেন।আর যৌতুকের জন্য আগের প্রেম করে বিয়ে করা ১ম স্ত্রী সাথীর উপর চালাতে থাকেন বিভিন্নভাবে নির্যাতন। এই ঘটনায় শেষ পর্যন্ত কারাগারে যেতে হয়েছে স্বামী সালাহউদ্দিনকে।
বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর ) শুনানী শেষে চট্টগ্রামের বিজ্ঞ মূখ্য মহানগর হাকিম ( সিএমএম) রবিউল আলম তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সালাহ উদ্দিন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার রোসাংগিরী ইউনিয়নের লালি বাপের বড়ির সেকান্দরের ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে চট্টগ্রামের পটিয়ার মেয়ে রনি আক্তার সাথীকে ফটিকছড়ি উপজেলার রোসাংগিরী ইউনিয়নের লালি বাপের বাড়ির সেকান্দরের ছেলে সালাহউদ্দিন ঘটা করে বিয়ে করে। মূলত প্রেমের সূত্রেই তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছু দিন পর থেকেই সালাহউদ্দিন সাথী আক্তারকে তার বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনতে চাপ দিতে থাকেন। কিন্তু বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনতে না পারায় সাথীর ওপর নেমে আসে অমানুষিক অত্যাচার ও নির্যাতন। স্বামী, শাশুড়ি ও শ্বশুর মিলে বহুবার তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন।যৌতুক দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে সালাহউদ্দিন সাথীর চুলের মুঠি ধরিয়া টানা হেঁচড়া করিয়া বাসায় রেখে পালিয়ে যায় সালাহ উদ্দিন।
একপর্যায়ে ভুক্তভোগী গৃহবধূ সাথী গত ২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর মহানগর হাকিম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশ দেন। মামলাটি তদন্ত করে ডিবি কর্মকর্তা মোঃ শাহজালাল চৌধুরী আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।এরমধ্যে হাইকোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক সালাউদ্দিন গত ৬ অক্টোবর হাকিম আদালতে জামিনের জন্য গেলে আদালত তাকে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বাদী রনি আক্তার সাথীর আইনজীবী এডভোকেট মোঃ হাসান উদ্দীন বলেন, ‘দেশে অহরহ নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। বাদীনি একজন প্রকৃতপক্ষে অসহায় ও নির্যাতিতা। আদালতে আসার আগে বাদীনি বিচার চেয়ে নানা জায়গায় ধর্না দেন। কোন জায়গায় ন্যায় বিচার না পেয়ে বাদীনি আমার দ্বারস্থ হলে আদালতে মামলা করি। দীর্ঘ ৪ বছর মামলা পরিচালনা করে আসামীকে বিচারের আওতায় আনতে পেরে নিজেও স্বস্তি প্রকাশ করছি।’
মামলার বাদী রনি আক্তার সাথী বলেন, সালাহ উদ্দিন একজন যৌতুকলোভী প্রতারক। সে নিজের সন্তানকে পর্যন্ত অস্বীকার করে। আমার সাথে বিবাহ বলবৎ থাকাবস্থায় প্রতারক সালাউদ্দীন আরো একটি বিবাহ করে। ওই ঘরে সন্তান ও হয়েছে। আমি অপরাধীর উপযুক্ত শাস্তি চাই।
