বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

সীতাকুন্ডে চিকিৎসকের অবহেলায় নবজাতক মৃত্যুর অভিযোগ

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৪ | ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৪ | ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
সীতাকুন্ডে চিকিৎসকের অবহেলায় নবজাতক মৃত্যুর অভিযোগ

সাম্পান ডেস্ক 

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বেসরকারি একটি ক্লিনিকে চিকিৎসকের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে গত শুক্রবার (২৩ আগষ্ট) বিকেলে সীতাকুন্ড ন্যাশনাল হাসপাতালে মৃত্যু হয় ওই নবজাতকের ।

এ বিষয়ে রোববার (২৫ আগষ্ট) উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ ভুক্তভোগী এক ব্যক্তি। একই সঙ্গে চিকিৎসকের অবহেলার বিষয়টি স্বীকার করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা সিভিল সার্জনকে এক চিঠিতে জানিয়েছেন ক্লিনিকের ব্যবস্থাপক।

নবজাতকের বাবা ফরহাদ হোসেন সাকিব তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, গত বুধবার (২১ আগষ্ট) বিকালে তাঁর স্ত্রীকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করানোর সীতাকুন্ড ন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যান। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: সাদিয়া রহমান গর্ভের শিশুর অবস্থা খারাপ বলে উল্লেখ করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তির জন্য বলেন। ওই চিকিৎসক প্রথমে নরমাল ডেলিভারি হওয়া সম্ভব বললেও পরবর্তীতে তিনি সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে বাচ্চা মৃত বের করে আনেন।

তিনি অভিযোগ করেন, নরমাল ডেলিভারির কথা বলে তার স্ত্রীকে হাসপাতালে আটকে রাখা হয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডা. কানিজ নাসিমা আক্তার নামে একজন চিকিৎসকবে এনে সিজারিয়ান অপারেশন সম্পূর্ণ করা হয়।

ফরহাদ হোসেন সাকিব বলেন, ‘মূলত ডা. সাদিয়া রহমানের চরম অবহেলা সৃষ্টির কারণে সিজারিয়ান অপারেশন করতে অনেক দেরী হওয়ায় আমার বাচ্চার মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ অপারেশন সরঞ্জামের ব্যাবস্থা ছিল না এবং ডা. সাদিয়া রহমানের অপারেশনের কোন অভিজ্ঞতা ছিল না।’

এদিকে সীতাকুন্ড ন্যাশনাল হাসপাতালের ব্যবস্থাপক মো: বেলাল হোসেন জেলা সিভিল সার্জনকে পাঠানো এক চিঠিতে উল্লেখ করেন, নবজাতকের মৃত্যুতে ডা. সাদিয়া রহমানের অবহেলার বিষয়টি স্পষ্ট ভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ বিষয়ে তথ্য প্রমাণসহ ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান হাসপাতালের ব্যবস্থাপক।

তিনি বলেন, ‘ভর্তি হওয়া রোগীনি ডা. সাদিয়া রহমান ও নার্স বিবি খাদিজা এবং সহকারী নার্স শামসুন নাহারের তত্ত্বাবধনে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলেও প্রায় ২০ ঘন্টা পরে বিকেল ৪ টায় জেনারেল হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক এনে অপারেশন করালে বাচ্চাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এতে ডা. সাদিয়া রহমানের অবহেলার বিষয়টি স্পষ্ট ভাবে প্রমাণিত। আমরা সিভিল সার্জনকে ঘটনাটি তদন্ত পূর্বক দায়ি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিছি।’

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চিকিৎসক ডা. সাদিয়া রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোর রিসিভ করেন নি।

 

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares