ডেস্ক রিপোর্ট:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ভাসানচর থেকে পালিয়ে আসা ৪৫ রোহিঙ্গাকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। এর মধ্যে রয়েছে ৪গর্ভবতী নারী ও ২৩ শিশু। ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে চারটি ইঞ্জিল চালিত নৌকা করে পালিয়ে আসে।
সোমবার (১২ মে) দুপুরে ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পালিয়ে ১টার সময় সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী পশ্চিমে সাগর উপকূলীয় এলাকায় পরিত্যক্ত মজিদ স্টিল শিপইয়ার্ড দিয়ে লোকালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে এসময় স্থানীয় লোকজন দেখে সন্দেহ হলে তারা তাদের আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। বিকেল সাড়ে আড়াইটার সময় পুলিশ এসে তাদের থানায় নিয়ে যায়।
ভাটিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরুল আনোয়ার বলেন, দুপুরে দিকে গর্ভবতী ৪ নারী ২৩ শিশুসহ ৪৫জন রোহিঙ্গা ভাটিয়ারীতে পরিত্যক্ত একটি শিপইয়ার্ড দিয়ে প্রবেশ করার সময় স্থানীয় লোকেরা তাদের আটকিয়ে রেখে পুলিশকে খবর দেয়। ভাসানচর ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গারা চারটি ইঞ্জিলচালিত নৌকিা করে পালিয়ে এসেছে। তাদের প্রতিজন থেকে টাকা নিয়েছে দালালরা। চার নৌকার মধ্যে তিনটি পালিয়ে গেলেও একটি নৌকা স্থানীয়রা আটক করেছে বলে জানান। মানবিক দিক বিবেচনা করে রোহিঙ্গাদের দুপুরের খাবার, নাস্তা ও পানির ব্যবস্থা করেছে স্থানীয়রা। এছাড়া তাদের থানায় নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি বাসও ভাড়া করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ভাসানচর বিভিন্ন ব্লক থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে রয়েছে নুর খলিফা, আবদুল্লা, জাহেদ হাসান, রোকেয়া, জাফর আহমেদ, নুর কাসেম, সফি আহমেদ, কাদের, ছাবিতা, শাহানুর, সাদেক, মোমিনা, ফাতেমা, নুর বেগম, জায়েদা বেগম, রশিদা খাতুন, রকিব, রিদোয়ান, ওসমান, আহসান, আনিসুর রহমান, আবদুল আমিন, শারমিনা, নুর বেগম।
কক্সবাজারের টেকনাফ রোহিঙ্গা শিবিরে যেতে তারা ভাসানচর থেকে পালিয়ে এসেছেন বলে স্থানীয় সাংবাদিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন।
নুর কাসেম, সফি আহমেদ, কাদের, ছাবিতা, শাহানুরসহ একাধিক রোহিঙ্গা জানান, বাংলাদেশ সরকার ভাসানচরে তাদের বসতি স্থাপন করে দিলেও সেখানে তারা খাবারের অভাবে খুব কষ্টে দিন যাপন করছেন। তাই তারা বাধ্য হয়ে দালালের মাধ্যমে জনপ্রতি ৬ থেকে ৮ হাজার টাকার চুক্তিতে ভাসানচর থেকে পালান। দালালেরা গতকাল রোববার গভীর রাতে চারটি নৌযানে করে তাদের নিয়ে রওনা দেন। আজ দুপুরে ভাটিয়ারি সাগর উপকূলে এলাকাবাসী তাঁদের পেলে কৌশলে দালালেরা পালিয়ে যান। পরে তারা স্থানীয় জনতার হাতে আটক হন। ভালোভাবে দিন যাপনের তাগিদে তারা পরিবার নিয়ে টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরে ফিরতে চান বলে জানান।
সীতাকুণ্ড উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো: ফখরুল ইসলাম বলেন, ভাসানচর থেকে রোহিঙ্গারা চারটি ইঞ্জিলচালিত নৌকা করে চট্টগ্রামের নতুন ব্রীজ নামক স্থানে যাচ্ছিলো। ওখান থেকে তারা টেকনাফ ক্যাম্পে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিলো। তৎমধ্যে একটি নৌকা বিকল হলে দালালরা সবাই ভাটিয়ারীতে পরিত্যক্ত একটি শিপইয়ার্ড এলাকায় নামিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় স্থানীয়রা তাদের আটক করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। তবে পরিত্যক্ত ইয়ার্ডগুলো পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে বলে জানান তিনি।
রোহিঙ্গা আটকের তথ্য জানতে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমানের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি মোবাইল রিসিভ করেনি।
তবে ঘটনাস্থলে থাকা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিল্লাল হোসেন বলেন, ভাসানচর থেকে পালিয়ে আসা ৪৫জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বিষয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্তের আলোকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।
রোহিঙ্গাদের আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর বলেন, যাচাই-বাছাই শেষে আটক রোহিঙ্গাদের পুনরায় ভাসানচরে ফেরত পাঠানো হতে পারে।
রহা
