বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

সিলেট থেকে চট্টগ্রামে আসার পথে চলন্ত ট্রেনের তরুণীকে ধর্ষণ

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৪ | ১২:২০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ২৮ জুন ২০২৪ | ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
সিলেট থেকে চট্টগ্রামে আসার পথে চলন্ত ট্রেনের তরুণীকে ধর্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক 

সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী ট্রেন উদয়ন এক্সপ্রেসে (৭২৪ নং ট্রেন) এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে চারটার দিকে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় ট্রেনটি লাকসাম এলাকা পার হচ্ছিল।তবে সন্ধ্যার পর বিষয়টি জানাজানি হয়।

ভুক্তভোগী তরুণীর বাড়ি বান্দরবান জেলায়। তবে তিনি আত্মীয়দের সঙ্গে ভৈরবে থাকেন।বাবার বাড়ি যেতে চট্টগ্রামে আসার পথে খাবারের বগিতে এই ঘটনা ঘটে।

রেলওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০ বছর বয়সী এই তরুণী উদয়ন এক্সপ্রেসের খাবারের বগিতে অবস্থান করছিলেন।এসময় এস এস কর্পোরেশনের কয়েকজন কর্মী তাকে প্রথমে উত্যক্ত করে।পরবর্তীতে ওই বগিতে ভোররাতের দিকে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী এই তরুণী।

ঘটনার পরপরই ট্রেনে খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এস এ করপোরেশনের তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করে রেলওয়ে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. জামাল (২৭), মো. শরীফ (২৮) ও মো. রাশেদ (২৭),আব্দুর রব রাসেল (২৮)।

এদিকে এ ঘটনায় খাবার সরবরাহকারী (ক্যাটারিং সার্ভিস) প্রতিষ্ঠান এস এ করপোরেশনের কার্যক্রম স্থগিত করেছে রেলওয়ে। বুধবার রাতে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের সহকারী প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আবু বক্কর সিদ্দিকীর সই করা অফিস আদেশে কার্যক্রম স্থগিত করার বিষয়টি জানানো হয়। আদেশে ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের দ্বারা ‘একটি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে মর্মে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে’ বলে উল্লেখ করা হয়।

এস এ করপোরেশন নামে ক্যাটারিং সার্ভিসের প্রতিষ্ঠানটির মালিক কুমিল্লা জেলার লাকসাম থানার মোহাম্মদ শাহ আলম। রেলের বিভিন্ন ট্রেনে ক্যাটারিং সার্ভিস ও ঠিকাদারি ব্যবসা রয়েছে তার।বিশেষ করে চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে চলাচলরত উদয়ন ও পাহাড়িকা এক্সপ্রেসে তার প্রতিষ্ঠান খাবার সরবরাহ করতো।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শহীদুল ইসলাম বলেন,অভিযুক্তদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের চাওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে আছে। তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, চলন্ত ট্রেনে ধর্ষণের ঘটনা মর্মান্তিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের পাশাপাশি ইতোমধ্যে জিআরপি থানায় ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। ট্রেনের গার্ডকেও বরখাস্ত করা হয়েছে। রেলওয়ে ইতোমধ্যে এস এস কর্পোরেশনের ক্যাটারিং লাইসেন্স অনির্দিষ্টকালের জন্য বাতিল করেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ আরও কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এদিকে এই ধর্ষণের ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এই কমিটির সদস্যরা বৃহস্পতিবার সকালে সেই ট্রেনে কর্মরত বেশ কয়েকজন কর্মচারীর সঙ্গে বৃহস্পতিবার সকালে কথা বলেছেন।

এই বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক আনিসুর রহমান বলেন, আমরা তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছেন। সেদিন উদয়ন এক্সপ্রেসে কর্মরত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেছি।আগামী সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবো । এরপর মূল ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে।

প্রসঙ্গত, দেশে চলন্ত ট্রেনে বিভিন্ন সময় শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের শিকার হয়েছেন নারী যাত্রীরা।সর্বশেষ গত ৫ বছরে এরমকম ১০টি ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে।এরমধ্যে ৮টিতেই জড়িত রেল কর্মচারীরা।

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares