নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সম্মেলন শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে সভাপতি- সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন প্রায় ডজনখানেক ছাত্রনেতা। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী- ছাত্র রাজনীতির নেতৃত্বে আসতে চাইলে প্রার্থী অন্য কোন সংগঠনের নেতৃত্বে থাকতে পারবেন না। তবে ছদাহা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী রাশেদুল ইসলাম ইমন একজন ব্যবসায়ী নেতা।তিনি বর্তমানে সাতকানিয়ার কেরানিহাট নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়া অভিযুক্ত ইমন ছদাহাতেই জন্মগ্রহণ করেননি। তার বাড়ি পার্শ্ববর্তী চন্দনাইশ উপজেলার ধোপাছড়ি ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডে। দুই মাস আগে ভোটার তালিকায় ঠিকানা পরিবর্তন করে হয়ে যান ছদাহার স্থায়ী বাসিন্দা। যদিও তার পিতা মাতার ঠিকানাতে এখনো চন্দনাইশের ঠিকানায় বিদ্যামান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছদাহা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের এক সদস্য বলেন, অন্য এলাকা থেকে কাউকে এনে এখানে ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হলে সে দলের জন্য কোন ভূমিকা রাখতে পারবে না। কারণ সে এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন না। ফলশ্রুতিতে তার সাংগঠনিক সক্ষমতা নেই। এছাড়াও ইমন একজন ব্যবসায়ী নেতা। সে ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে আসা মানে ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রকে সরাসরি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন।
অপর একজন বলেন, ইমন রাজনীতি করুক অসুবিধা নেই। কিন্তু এক উপজেলা থেকে অল্প সময়ে অন্য উপজেলায় এসে নেতৃত্বে আসা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। কারন এই ইউনিয়নে তার কোন সাংগঠনিক সক্ষমতা নেই। তাছাড়া এটি নির্বাচনের বছর। দেখে শুনে নেতৃত্বভার না দেওয়াটাও এক প্রকার দলের জন্য ক্ষতিকর হবে।
তবে এসব বিষয়ে রাশেদুল ইসলাম ইমন বলেন, ব্যবসায়ী নেতা থেকে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসাটা হালকা গঠনতন্ত্র পরিপন্থী। কিন্তু আমি যদি ব্যবসায়ী সমিতির পদ থেকে পদত্যাগ করি তাহলে আর কোন বিতর্ক থাকে না। যেহেতু ছাত্র রাজনীতির সাথে যুক্ত সুতরাং আমি শীঘ্রই ব্যবসায়ি সমিতির পদ থেকে পদত্যাগ করবো। আর আমাদের মাঝে দৃশ্যমান অনেকেই আছেন যারা ভোটার স্থানান্তর করে নেতৃত্বে এসেছেন। সুতরাং ভোটার স্থানান্তরের বিষয়টি মূখ্য বিষয় নয়, যোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতকানিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, ছদাহাতে অনেকেই পদ প্রত্যাশী আছেন। তবে আমরা ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুসরণ করে সর্বোচ্চ যাচাই বাছাই করে কমিটি অনুমোদন দেবো। সমালোচনা সৃষ্টি হয় এমন কারো হাতে নেতৃত্ব দেওয়া হবে না।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এসএম বোরহান উদ্দিন বলেন, ছাত্রলীগ নেতা ব্যবসা করতে পারবে। তবে ব্যবসায়ি নেতা ছাত্রলীগের পদে আসাটা ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের সাথে সাংঘর্ষিক। যেহেতু এখনো কমিটি ঘোষনা করা হয়নি, আমি এ বিষয়ে উপজেলা সভাপতি সম্পাদকের সাথে কথা বলবো।
