নিজস্ব প্রতিবেদক
গায়ে জড়ানো বিভিন্ন রঙের টি-শার্ট,হাতে রঙ-বেরঙের ব্যানার-ফেস্টুন। মুহুর্মুহু স্লোগানে আর একসঙ্গে ছুটে চলা। চট্টগ্রামের বহুল আকাঙ্ক্ষিত প্রধানমন্ত্রীর মহাসমাবেশ শেষ হয়েছে।সমাবেশে কয়েক লক্ষ নেতাকর্মী ও বিভিন্ন পেশার মানুষ, ছাত্র ছাত্রী আর শ্রমজীবী মানুষ উপস্থিত ছিলেন।সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্যের পাশাপাশি ২৯ টি প্রকল্পে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
ভাটিয়ারীর মিলিটারী একাডেমির প্রোগ্রাম শেষে প্রধানমন্ত্রী বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন। তবে দুপুর ২ টায় সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়।চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন।
চট্টগ্রাম উত্তর- দক্ষিণ জেলা ও মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম আমাদের সবচেয়ে প্রিয় একটা জায়গা ছিল। এখানে আসলে মনে পড়ে সকল নেতাকর্মীদের কথা। এই চট্টগ্রাম আমাদের সমস্ত আন্দোলন সংগ্রামের সূতিকাগার। চট্টগ্রামের যে নেতারা সারাজীবন তারা সংগ্রাম করেছেন। আজকে এখানে আসতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। করোনার কারণে দীর্ঘদিন জনসভা করতে পারিনি। তাই আজকে আপনাদের কাছে এসে হাজির হয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি এই চট্টগ্রামের আমাদের প্রয়াত নেতাদের। এমএ আজিজ, হান্নান সাহেব, জহুর আহমেদ চৌধুরী, আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু, মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ যে নেতারা আজকে আর নেই। যাদেরকে চাচা বলে ডাকতাম। তাদের বাড়িতে যেতাম। আজকে কেউ আর বেঁচে নেই। তাদের সকলের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। তাদেরকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি।’
শেখ হাসিনা বলেন, চট্টগ্রামেও তারা বারবার গ্রেনেড মেরেছে, গুলি চালিয়েছে। লালদীঘির ময়দানে সমাবেশ করতে গেছি সেখানে তারা গুলি চালিয়েছে। সেদিন যে পুলিশ অফিসার গুলি চালিয়েছিল খালেদা জিয়া তাকে প্রশোমন দিয়েছিল। শুধু এখানে না, সারা বাংলাদেশে ৬৩টি জেলায়, ৫০০ জায়গায় বোমা হামলা করেছে এই বিএনপি। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস তারা সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশের মানুষকে শান্তিতে থাকতে দেয়নি। তারা মানুষের শান্তি চায় না। ক্ষমতায় থেকে কী করেছে, দু’হাতে লুটপাত। জনগণের অর্থ পাচার করেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘খালেদা জিয়া জনগণের ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসেছিল। সে জন্য জনগণ মেনে নেয়নি। তাই তিনি বাধ্য হন পদত্যাগ করতে। সে কথা বিএনপির মনে রাখা উচিত। ওরা ভোটে যেতে চায় অবৈধ উপায়ে। চট্টগ্রামের মানুষের জন্য ২৯টি প্রকল্প উদ্বোধন করেছি। এগুলো আপনাদের জন্য উপহার।’
বিএনপি জনগণের অর্থ পাচার করেছে দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা উন্নয়ন করি। বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করি। কিন্তু বিএনপি শুধু এগুলোর বিরোধিতা করে। তারেক রহমান নামে কুলাঙ্গার বিদেশে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। বোমাবাজি করছে। সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে।’
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘মানুষ পুড়িয়ে মারার হিসাব একদিন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে দিতে হবে। বিএনপি দেশের ক্ষতি করে। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই দেশের উন্নয়ন হয়। এই চট্টগ্রামে আমরা ব্যাপক উন্নয়ন করেছি।’
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান যখন মারা যান, ৪০ দিন পর্যন্ত আমরা শুনেছি, জিয়া কিছু তার পরিবারের জন্য রেখে যায় নি। একটা ভাঙা স্যুটকেস আর ছেঁড়া গেঞ্জি ছাড়া নাকি কিছুই রেখে যায়নি। আমার প্রশ্ন, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসতে না আসতেই হাওয়া ভবন খুলে তার ছেলে যে চাঁদাবাজি, অর্থ সংগ্রহ এবং অর্থ পাচার করে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছে, ওগুলো কোথায় থেকে এলো? ভাঙ্গা স্যুটকেস তো আর জাদুর বাক্স হয়ে যায় নি
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের জন্য কাজ করে। আওয়ামী লীগ এ দেশের স্বাধীনতা এনেছে। এ চট্টগ্রামে প্রথম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আমরা করেছি। ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন করেছি। ঢাকা থেকে কক্সাবাজার আমরা রাস্তা করছি, তাছাড়া রেললাইন করছি।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান যখন মারা যান, ৪০ দিন পর্যন্ত আমরা শুনেছি, জিয়া কিছু তার পরিবারের জন্য রেখে যায় নি। একটা ভাঙা স্যুটকেস আর ছেঁড়া গেঞ্জি ছাড়া নাকি কিছুই রেখে যায়নি। আমার প্রশ্ন, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসতে না আসতেই হাওয়া ভবন খুলে তার ছেলে যে চাঁদাবাজি, অর্থ সংগ্রহ এবং অর্থ পাচার করে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছে, ওগুলো কোথায় থেকে এলো? ভাঙ্গা স্যুটকেস তো আর জাদুর বাক্স হয়ে যায় নি।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের জন্য কাজ করে। আওয়ামী লীগ এ দেশের স্বাধীনতা এনেছে। এ চট্টগ্রামে প্রথম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আমরা করেছি। ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন করেছি। ঢাকা থেকে কক্সাবাজার আমরা রাস্তা করছি, তাছাড়া রেললাইন করছি।
নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অনীহার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওরা জানে ইলেকশন হলে জনগণ তাদের ভোট দেবে না। তাই তারা ইলেকশন চায় না তারা সরকার উৎখাত করে, এমন কিছু আসুক যারা একেবারে নাগরদোলায় করে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে এটাই তারা আশা করে, এটাই তাদের বাস্তবতা।তারা জনগণের তোয়াক্কা করে না।জিয়াউর রহমান যেমন জাতির পিতাকে হত্যা করে, সংবিধান লঙ্ঘন করে, সেনা আইন লঙ্ঘন করে ক্ষমতা দখল করেছিল। ওদের ধারণা ওইভাবেই তারা ক্ষমতায় যাবে।
শেখ হাসিনা বলেন, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, সেই ১০ ডিসেম্বর বিএনপির খুব প্রিয় একটা তারিখ। বোধ হয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পদলেহনের দোসর ছিল বলেই ১০ ডিসেম্বর তারা ঢাকা শহর নাকি দখল করবে। আর আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাত করবে।
তিনি বলেন, আমি তাদের বলে দিতে চাই, খালেদা জিয়া ৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি জনগণের ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসেছিল। আর ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসেছিল বলেই তাকে বাংলাদেশের মানুষ মেনে নেয়নি। সারা বাংলাদেশ ফুঁসে উঠেছিল। জনতার মঞ্চ করেছিলাম আমরা। খালেদা জিয়া বাধ্য হয়েছিল পদত্যাগ করতে। দেড় মাসও যায়নি, খালেদা জিয়া পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিল। সে কথা বিএনপির মনে রাখা উচিত। জনগণের ভোট যদি কেউ চুরি করে বাংলাদেশের মানুষ তা মেনে নেয় না। ওরা তা ভুলে গেছে।
বিএনপি-জামায়াত, যুদ্ধাপরাধী, স্বাধীনতাবিরোধীরা যাতে আর ক্ষমতায় আসতে না পারে সেজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছি আমি, আর সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে অপপ্রচার করছে। রিজার্ভ এবং ব্যাংকে টাকা নেই বলে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। অথচ এই কয়েকদিনে যারা টাকা তুলতে গেছে তারা সবাই তো টাকা তুলতে পেরেছে। আমাদের এখনো ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রির্জাভ আছে।
সকলের হাতে মোবাইল ফোন আওয়ামী লীগ সরকার পৌঁছে দিয়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেন , ‘আপনাদের হাতে মোবাইল ফোন আছে.এগুলো কে দিয়েছে? এগুলো আমরা দিয়েছি। বিএনপির আমলে দিতে পারেনি।
আওয়ামী লীগের উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন ও নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের পরিচালনায় সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক ও মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ও বাহাউদ্দিন নাছিম, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সভাপতি এম এ সালাম এবং দক্ষিণের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ বক্তব্য রাখেন।
