আব্দুল হান্নান চৌধুরী
সময় হওয়ার সাথে সাথে ইফতার করা এবং সময়ের সাথে সেহেরী শেষ করার মধ্যে আলাদা একটা ফজিলত আছে।
হাদিসে আছে, হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সঃ) এরশাদ করেছেন, মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমার বান্দাদের মধ্যে সেই বেশি প্রিয় যে ইফতার তাড়াতাড়ি করে।
(তিরমিজি, ২য় খণ্ড, হাদিস-৭০০)।
রাসুল (সঃ) আরও বলেন, ‘লোকেরা ততক্ষণ কল্যাণে থাকবে যতক্ষণ তারা ইফতার জলদি করবে। ’ (বুখারী, মুসলিম ১ খণ্ড-৩২১ পৃঃ মিশকাত ১৭৫ পৃঃ)
রাসূলুল্লাহ (সা.) বিলম্বে সেহরি করতে পছন্দ করতেন। তিনি আজানের আনুমানিক বিশ মিনিট পূর্ব পর্যন্ত সেহরি খেতেন।
যায়েদ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে সাহরী খাই এরপর তিনি সালাতের জন্য দাঁড়ান। বর্ণনাকারী বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, আযান ও সাহরীর মাঝে কতটুকু ব্যবধান ছিল? তিনি বললেন, পঞ্চাশ আয়াত (পাঠ করা) পরিমাণ। সহীহ বুখারী ১৯২১ (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭৯৬)
আমাদের দেশে আজানের সাথে সাথে ইফতার শুরু এবং সেহেরী শেষ করার একটা ঐতিহ্য রয়েছে।তবে এ ক্ষেত্রে সময় অনুযায়ী যদি আজান পরিচালনা না হয় তাহলে তাড়াতাড়ি ইফতার এবং শেষ সময়ে সেহেরী খাওয়ার ফজিলত থেকে রোজাদাররা বঞ্চিত হবে।তাই সকলের উচিত সময়ের দিকে লক্ষ্য রেখেই ইফতার শুরু এবং সেহেরী শেষ করা।আল্লাহ আমাদের সবাইকে বুঝার তৌফিক দান করুন।
লেখক : ইসলামী গবেষক
