সম্পান ডেস্ক
আলোচিত হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হককে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও সোনারগাঁ থানায় নাশকতার অভিযোগে করা আরও তিন মামলায় জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
তাঁর জামিন আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (৯ মে) বিচারপতি হাবিবুল গনি ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট আবু রায়হান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মেহেদী হাছান চৌধুরী। এর আগে গত ৩ মে রাজধানীর পল্টন ও চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় করা পাঁচ মামলায় মামুনুল হককে জামিন দেন হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ।
প্রসঙ্গত, মামুনুল হকের বিরুদ্ধে করা ৪১টি মামলার মধ্যে মতিঝিল থানায় করা ৪টি, পল্টন থানায় ৯টি, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় ৩টি, সিদ্ধিরগঞ্জে ৩টি, হাটহাজারী মডেল থানায় ৮টি, খুলনার সোনাডাঙ্গা থানায় ১টি, কুমিল্লার চান্দিনা থানায় ১টি, রাজধানীর ভাটার থানায় ১টি, মোহাম্মদ থানায় ১টি, দারুস সালাম থানায় ৫টি ও মিরপুর মডেল থানায় ৩টি।
এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনালেও দুটি মামলা রয়েছে। এই ৪১টি মামলার মধ্যে আগে ২০টি মামলায় জামিন পেলেন তিনি। এর আগে ২০২১ সালের ১৮ এপ্রিল মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে মামুনুল হককে গ্রেফতার করে পুলিশ। সেই থেকে তিনি কারাগারে আছেন।
এদিকে, সম্প্রতি ফটিকছড়ি উপজেলার বাবুনগর, ওবাইদিয়া ও হাটহাজারী মাদরাসায় হেফাজতের বিভিন্ন নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। ধারণা করা হচ্ছে সেই বৈঠকে সমঝোতা হওয়ার পরে হেফাজত নেতাদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে।
অপরদিকে, কওমি মাদ্রাসার মাওলানাদের নিয়ে পরিচালিত রাজনৈতিক দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান চরমোনাই পীরের মেয়ের ওয়ালিমা অনুষ্ঠানে সরকার দলীয় নেতাদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
সবমিলিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতন মহল মনে করেন সরকারের সাথে কওমিদের এক প্রকার নির্বাচনী সমঝোতা হয়েছে।যার ফলে কারাগারে বন্দি কওমি আলেমরা মুক্তি পাচ্ছে।
