সাম্পান ডেস্ক
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনের ঘোষিত তারিখ প্রত্যাখ্যান করেছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) ভোর পৌনে চারটায় ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী দেলোয়ার হাসান আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে আলটিমেটাম ঘোষণা করেন।
দেলোয়ার বলেন, শাকসুর ঘোষিত তারিখ আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। আগামী ১২ ডিসেম্বরের আগেই যেকোনো একদিন নতুন নির্বাচন তারিখ নির্ধারণ করতে হবে। প্রশাসনকে আজ রাত ৯টা পর্যন্ত সময় দিচ্ছি। এর মধ্যে নতুন তারিখ ঘোষণা না হলে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে কঠোর আন্দোলনে যাব আমরা। তিনি আরও জানান, শীতকালীন ছুটি বাড়ানোর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তও শিক্ষার্থীরা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এর আগে শুক্রবার রাত সোয়া ৯টায় সংবাদ সম্মেলনে ১৭ ডিসেম্বর শাকসু নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন উপাচার্য এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী। এ ঘোষণার পর শিক্ষার্থীরা রাত সাড়ে ৯টা থেকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে ভবনের ভেতর অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন উপাচার্য, সহ–উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য কর্মকর্তারা।
দিবাগত রাত একটা থেকে শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করলেও টানা ছয় ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর প্রশাসন জানান, আজ দুপুরের আগে তারা সিদ্ধান্ত জানাবেন। শিক্ষার্থীরা দুপুর পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন।
উপাচার্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, শাকসু নির্বাচন হবেই, তোমরা প্রস্তুতি শুরু করো। আমার এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। তোমাদের যৌক্তিক দাবি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত হবে।
শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে আন্দোলনস্থলে যান ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি মাসুদ রানা তুহিন। তিনি বলেন, *“শাকসু নির্বাচন নিয়ে একটি মহল প্রথম থেকেই বিরোধিতা করছে। উপাচার্য ৯ বা ১০ ডিসেম্বর নির্বাচন হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন, অথচ হঠাৎ ১৭ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হলো। এটি প্রহসন।”*
তিনি প্রশাসনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে থাকার ঘোষণা দেন।
শিক্ষার্থীদের সমালোচনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বকেয়া ফি পরিশোধে শিথিলতা দিয়েছে। শুক্রবার রাত পৌনে ১২টায় রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্বাচনে ভোটার বা প্রার্থী হওয়ার জন্য সব ধরনের পাওনা পরিশোধের বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হয়েছে।
এছাড়া শীতকালীন ছুটির সময়ও পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২১ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারির ছুটি পরিবর্তন করে ২৮ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও অফিস বন্ধ থাকবে। তবে ভর্তি পরীক্ষার কার্যক্রম যথারীতি চলবে।
উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা করছে, ১৭ ডিসেম্বর নির্বাচন হলে অনেকেই ক্যাম্পাসে থাকবে না। তাই ছুটির সময় পরিবর্তন করা হয়েছে। ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে টানাপোড়েন এখন উত্তেজনার পর্যায়ে। আজ রাত ৯টার মধ্যে সমাধান না এলে আন্দোলনের নতুন ধাপের ঘোষণা আসতে পারে।
এসএস
