বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২

লোহাগাড়ায় কেন এই ট্রাজেডি?

প্রকাশ: ৩ এপ্রিল ২০২৫ | ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ৩ এপ্রিল ২০২৫ | ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
লোহাগাড়ায় কেন এই ট্রাজেডি?

নিজস্ব প্রতিবেদক 

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় এখন স্থানে পৃথক দুর্ঘটনায় ১৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। সর্বশেষ বুধবার ভোরে ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যু হয়। এর আগে সোমবার ঈদের দিন সকালে ওই স্থানেই দুর্ঘটনায় পাঁচ জনের প্রাণনহানি ঘটে। বারবার ওই স্থানে সড়ক দুর্ঘটনা প্রাণহানিতে উদ্বিগ্ন লোহাগাড়াবাসী। তবে ওই স্থানে বারবার সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উঠে এসেছে, কক্সবাজার থেকে ছুটে আসা লবণবাহী গাড়িগুলো সড়কের লবণ পোড়ে পিচ্ছিল হওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক। স্থানীয়রা এখনই এসব ঝুঁকি নিরসনের দাবি জানিয়েছেন।

সর্বশেষ বুধবার সকাল ৭টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতির জাঙ্গালিয়া এলাকায় কক্সবাজারগামী রিল্যাক্স পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে চট্টগ্রামমুখী দুটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের দ্রুত চমেক হাসপাতালে আনা হয়েছিলো। পুলিশ বলেছে, নিহত ১০ জনের মধ্যে একই পরিবারের চার সদস্য রয়েছেন। হতাহতরা সবাই ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া জেলার বাসিন্দা। এরমধ্যে দুইজন নিহত ও দুইজন আহতের স্বজনরা এখনো আসেনি।

সরজমিনে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, লাশঘরে এককোণায় পড়ে আছে আনুমানিক ১০-১১ বছর বয়সী শিশু ও আনুমানিক ৪০ বছরের বয়সী ব্যক্তির মরদেহ। একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে ৭-৮ বছরের আরেক শিশু ও বাইশ বছর বয়সী এক তরুণী।এই চারজনের কারোরই স্বজনরা হাসপাতালে আসেনি বলে জানা গেছে।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন বলেন, লোহাগাড়ার ঘটনায় আমাদের এখানে মোট পাঁচজনকে আনা হয়েছে। এরমধ্যে দুজন মারা যান। বাকী তিনজনের হাসপাতালের ২৬ ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা চলছে।

হাসপাতালের ওয়ার্ডে এক কর্মী বলেছেন, একটি শিশুর কেউ আসেনি। অল্প সময়ের জন্য চোখ খুলে সে তার নাম আরাধ্য, বাবার নাম দিলীপ ও মায়ের নাম সাধনা বলেছিল। পরে আবারো ঘুমিয়ে পড়ে শিশুটি। সংশ্লিষ্টরা জানায়, ওই দুর্ঘটনায় শিশুটির বাবা-মা দুজনই ঘটনাস্থলে মারা যায়। এতে ঘুম ভাঙলেও শিশুটি যে আর তাঁর বাবা-মায়ের কোলে ফিরবে না।

দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশের এসআই মো. আব্দুল মতিন জানান, লোহাগাড়ায় নিহত ১০ জনের মধ্যে চারজন হলেন একই পরিবারের সদস্য। এরা সবাই ঝিনাইদহ এলাকার বাসিন্দা।তারা হলেন- দিলীপ বিশ্বাস (৪৩), সাধনা বিশ্বাস (৩৭), আশীষ মণ্ডল (৫০) ও দুর্জয় মণ্ডল (১৮)। এদের মধ্যে দিলীপ বিশ্বাস ও সাধনা বিশ্বাস স্বামী-স্ত্রী। এই দম্পতির সাত বছরের মেয়ে শিশু বর্তমানে চমেক হাসপাতালে ভর্তি আছেন।চমেক হাসপাতালে ভর্তি থাকা ওই শিশুই হচ্ছে আরাধ্য। নিহতরা সবাই মাইক্রোবাসের যাত্রী।

চমেক হাসপাতালে শিশু আরাধ্যর পাশের বিছানায় আনুমানিক ২২ বছর বয়সী এক তরুণীও সংকটাপন্ন অবস্থায় বিছানায় পড়ে রয়েছে। তার হাতে মেহেদী লাগানো। তিনিও হাসপাতালে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় আছেন। কোনো সাড়াশব্দ নেই। কিছুক্ষণ পরপর তাদেরকে তদারকি করছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সেরা।

চমেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ পরিদর্শক নুরুল আলম আশেক বলেন, সকাল সাড়ে দশটায় প্রথমে আহত চারজনকে চমেক হাসপাতালে আনা হয়। এদের মধ্যে দুজন মারা যায়। নিহতদের মধ্যে ১০-১২ বছরের এক শিশু ও ৪০ বছর বয়সী এক পুরুষ রয়েছে। বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে আহত আরও একজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাকে পরে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এর আগে ঈদের দিন সোমবার সকালে লোহাগাড়ায় একই জায়গায় দুই বাসের সংঘর্ষে ৫ জন নিহত হন।

কেন বারবার একইস্থানে দূর্ঘটনা?

লোহাগাড়ার ওই স্থানের ৩ দিনের ব্যবধানে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। কেন ওই স্থানটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠেছে তা জানতে গিয়ে কয়েকটি কারণ ওঠে আসে। এগুলো হলো, এক উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকার উঁচু-নিচু পাহাড়ি সড়ক এবং বাঁক পর্যটকদের নিয়ে আসা অন্য জেলার চালকদের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। দুই হচ্ছে ঈদের ছুটিতে বাইরের জেলার চালকরা বেশি আসেন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে। কিন্তু তারা এই সড়কে গাড়ি চালাতে অভ্যস্ত নন। অনেক চালক বেশি গতিতে গাড়ি চালান। তৃতীয়, কক্সবাজার থেকে আসা লবণবাহী ট্রাক থেকে রাস্তায় লবণ পানি পড়ে পুরো পথে। এসব লবণ সড়ককে পিচ্ছিল করে তোলে। ফলে গাড়ির ব্রেক কষলেই ঘটে দুর্ঘটনা।

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares