নিজস্ব প্রতিবেদক
শিক্ষার্থীদের দিয়ে শ্লোগান দেওয়া, নির্বাচনী প্রচারণায় স্থানীয় সাংসদের ছবি ব্যবহার করে প্রচারণা ও ব্যানার টাঙানোসহ নানা ধরনের অভিযোগ উঠেছে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাচনের আনারস প্রতীকের প্রার্থী খোরশেদুল আলমের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে ৩/৪ বার আচরণবিধি লঙ্ঘনের মোবাইল কোর্টের অধীনে জরিমানা প্রদান করেছেন। এরপরও এলাকায় প্রভাব দেখিয়ে যাওয়াতে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দিয়েছেন আরেক প্রার্থী।
সোমবার (৩ জুন) প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে আনারস প্রতীকের প্রার্থী খোরশেদ আলমের প্রার্থীতা বাতিলের দাবিতে অভিযোগ দায়ের করেন আরেক প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী (ঘোড়া প্রতীক)।
এতে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই প্রতিনিয়ত আচরণবিধি ভঙ্গ করে ৩/৪ বার মোবাইল কোটে জরিমানার সম্মুখীন হলে ও আইনের কোনরূপ তোয়াক্কা না করে গত ৩০ মে বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে দক্ষিণ হরিণা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমল মতি শিক্ষার্থীদের আনারস প্রতীক হাতে প্রার্থীর উপস্থিতিতে স্লোগান দিতে বাধ্য করায় উক্ত আনারস প্রতীকের খোরশেদ আলম চৌধুরীর প্রার্থীতা বাতিল সহ আইনগত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।’
এ বিষয়ে ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আমি চাই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হোক। আমি বিভিন্ন ইউনিয়নে খোঁজ নিয়ে দেখেছি, আনারস প্রতীকের প্রার্থী স্থানীয়দের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তাছাড়া বহিরাগতদের দিয়ে নির্বাচনে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তাই নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দিয়েছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইনামুল হাসান বলেন, ‘এরই মধ্যে নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি মানতেও প্রার্থীদের সতর্ক করা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী উপজেলা বা পার্বত্য এলাকা থেকে যেন মানুষ আসতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখছি।’
প্রসঙ্গত, চতুর্থ ধাপে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আগামী ৫ জুন অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে মোট ভোটার ২ লাখ ২৩ হাজার ৬২৬ জন।
এতে চেয়ারম্যান পদে ৩ জন,ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।প্রার্থীদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি খোরশেদ আলম চৌধুরী ‘আনারস’ প্রতীক, চুনতি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ‘ঘোড়া’ প্রতীক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আবদুল মাবুদ ‘মোটর সাইকেল’ প্রতীক পেয়েছেন।
