বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

রাজনৈতিক জটের ডাকসাইটে নেতাদের হাতেই কী উঠবে নগর যুবলীগের ঝান্ডা?

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২২ | ৩:৫৪ অপরাহ্ণ আপডেট: ২৯ মে ২০২২ | ৬:০৪ অপরাহ্ণ
রাজনৈতিক জটের ডাকসাইটে নেতাদের হাতেই কী উঠবে নগর যুবলীগের  ঝান্ডা?

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামে রাজনৈতিক জটে পড়ে পদহীন অবস্থায় থাকা নেতাদের ভাগ্য খুলতে পারে এবার নগর যুবলীগের কমিটিতে। ছাত্ররাজনীতি থেকে বিদায় নিয়ে ‘মুরব্বি’ সংগঠনকে সংঘটিত করার কাজে সম্পৃক্তদের হাতে উঠতে পারে নগর যুবলীগের ঝান্ডা। এই মানদণ্ড ধরে যদি যুবলীগের নেতৃত্ব বাছাই করা হয় তাহলে এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে নগর আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী কয়েকজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা।

আবার নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আজম নাছির উদ্দিন বলয়ের নেতাকর্মীরাও তাদের সর্বোচ্চ তৎপরতা চালাচ্ছে শীর্ষ পদে আসতে।

সময়টা ২০০০-২০০১। চট্টগ্রাম নগরীর এমইএস কলেজ ছাত্রসংসদে অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচন। এতে জিএস পদে নির্বাচিত হন আরশেদুল আলম বাচ্চু। তখন তিনি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদকও। চট্টগ্রাম নগর আওয়ালী লীগের প্রয়াত সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সরাসরি কর্মী হিসেবে মাঠে থেকে নগরীর ৪১ ওয়ার্ডজুড়ে বাচ্চু তৈরী করেছেন রাজনৈতিক ‘সাম্রাজ্য’। ছাত্রলীগ, যুবলীগের বড় একটি অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেখা যায় তাকে আলাদা চোখে!

ছাত্রলীগের নগর কমিটির দায়িত্ব ছাড়লেও রাজনীতি মাঠ ছাড়েননি বাচ্চু। বড় পরিসরের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে নগরজুড়ে অবস্থান তৈরি করলেও তার এখন তেমন কোনো বড় পদ নেই। এবার প্রায় দুই যুগ আগে ছাত্ররাজনীতিতে হাতেখড়ি হওয়া আরশেদুল আলম বাচ্চু আসতে চান চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের নেতৃত্বে।

শুধু আরশেদুল আলম বাচ্চুই নন, চট্টগ্রাম নগর যুবলীগের নেতৃত্বে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সাবেক নেতারাই।

এম আর আজিম। নগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি। দীর্ঘদিন ধরে তিনিও আছেন রাজনীতির মাঠে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বোর্ড সদস্যও ছিলেন একদফা। তিনিও এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলয়ের নেতা হিসেবে পরিচিত। নগরজুড়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অবস্থান না থাকলেও সজ্জন নেতা হিসেবে এমআর আজিমের নাম যুবলীগের সম্মেলনের আগমুহূর্তে এসেছে আলোচনায়।

আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলোচনা হয় এ বিষয়ে। তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে যুবলীগের কমিটি না হওয়ায় ছাত্ররাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়া বড় একটি অংশ পড়ে গেছেন ‘রাজনৈতিক জটে’ এই জটে পড়ে পদহীন অবস্থাতেই কাটালেন এক দশকের বেশি সময় ধরে ‘মুরব্বি’ সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা।

জানা গেছে, দুটি বলয়ের রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে যুবলীগের রাজনীতির হিসেবনিকেশ চলছে। এক্ষেত্রে প্রয়াত নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের অবস্থান শক্ত। নেতাকর্মীর সংখ্যা ও পলিসিগত কারণে মাঠের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলয়ের হাতেই। তাদের ছায়া হিসেবে আছেন মহিউদ্দিন চৌধুরী পুত্র ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলও।

আবার চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আজম নাছির উদ্দিনের অনুসারী সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরাও নগর যুবলীগের পদে আসতে নেমেছেন ‘তদবিরের’ মাঠে।

এদের মধ্যে আলোচনায় আছেন দিদারুল আলম, হাসান মুরাদ বিপ্লব। ঠিকাদার হিসেবে আলোচিত চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক স্টিয়ারিং কমিটি সদস্য দিদারুল আলম নগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আজম নাছির উদ্দিনের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। যুবলীগের তৃণমূলে তারা আছে বিশেষ একটা অবস্থান।

অন্যদিকে ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে উঠে আসা হাসান মুরাদ বিপ্লব বিগত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর বিপক্ষে অংশ নিয়ে বিজয়ী হন ফিরিঙ্গিবাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে। দলীয় সিদ্ধান্ত না মানায় যুবলীগের শীর্ষ পদে আসতে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক স্টিয়ারিং কমিটির এই নেতাকে ডিঙাতে হতে পারে কঠিন চ্যালেঞ্জ।

এর মধ্যে গত ২৮ মে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রথমবারের মতো। ২৯ মে অনুষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবলীগের সম্মেলন। আর আজ রাত পোহালেই ৩০ মে চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সম্মেলন। এ সম্মেলনকে সামনে রেখে গত ২ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করেছে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি। যারমধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সভাপতি পদে ৩৫, সাধারণ সম্পাদক পদে আসতে নিজেদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন ৭০ জন।

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares