নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় অবৈধ ইট ভাটার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে সাংবাদিককে জিম্মি ও মারধরকারী ইউপি মেম্বার ও হামলার নির্দেশদাতা ইউপি চেয়ারম্যান এখনও আটক হয়নি। ভুক্তভোগী সাংবাদিকের দায়ের করা মামলার এই আসামীরা এলাকায় ঘুরাফেরা করলেও পুলিশের দাবি, তারা আত্মগোপনে থাকায় আটক করা যাচ্ছে না।
জানা যায়, হামলার শিকার হওয়ার পরের দিন সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকালে ভুুক্তভোগী সাংবাদিক আবু আজাদ বাদি হয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় হত্যা চেষ্টা, মারধর, টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়া, অপহরণ এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন।মামলায় ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মহিউদ্দিন তালুকদার মোহন (৪০), চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন চৌধুরী (৫৫), ইট ভাটার ম্যানেজার কামরান, মোহনের সহযোগী কাঞ্চন তুড়িসহ অজ্ঞাত ৫-৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।মামলার ভিত্তিতে প্রধান আসামী মোহনের সহযোগীকে আটক করা হলেও বাকিরাও এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে আছেন।
জানা যায়, মামলার প্রধান আসামী মোহন দলবল নিয়ে এলাকায় অবস্থান করছেন।আর মামলার দ্বিতীয় আসামী চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন চৌধুরী ইউপি কার্যালয়েও যাচ্ছেন নিয়মিত। এরমধ্যে গত বৃহস্পতিবার এই মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে তাদের অনুসারীরা সেখানে মানববন্ধনও করেছেন।
ন্যাক্কারজনক এই ঘটনার এক সপ্তাহ পরেও মুল আসামীরা কেন আটক হচ্ছে না জানতে চাইলে রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুব মিলকী বলেন, আবু আজাদের মামলার ভিত্তিতে এক আসামীকে আটক করা হয়েছে।বাকি আসামীরা আত্মগোপনে চলে গেছেন।তাই তাদেরকে আটক করা যাচ্ছে না।তবে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।
এদিকে শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী ও রাঙ্গুনিয়া থেকে নির্বাচিত এমপি ড. হাসান মাহমুদ বলেন,“সাংবাদিককে মারধর করেছে সেটা আমি জানি। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিরা গ্রেফতার হবে। সাংবাদিক হোক আর যেই হোক, যে কাউকে মারধর করা দণ্ডনীয় অপরাধ। আমি যতটুকু জানি, পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করেছে (একজন গ্রেফতার হয়েছে)।”
প্রসঙ্গত, গত রোববার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে রাঙ্গুনিয়ায় অবৈধ ইট ভাটার ছবি তোলায় স্থানীয় ইউপি সদস্য ও যুবলীগ নেতা মহিউদ্দীন তালুকদার মোহনসহ ৫-৬ জন পিস্তল ঠেকিয়ে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার স্টাফ করেসপন্ডেন্ট আবু আজাদকে মারধর করে। অস্ত্রের মুখে মোহন ওই সাংবাদিককে গাড়িতে তুলে স্থানীয় মঘাছড়ি বাজারে নিয়েও কয়েক দফা পেটায়। এরপর তার কার্যালয়ে বেঁধে রেখে নির্যাতন করে। তার মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলে এবং মানিব্যাগ ও আইডি কার্ড- সব কেড়ে নিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। মারধরের এক পর্যায়ে মোহনের মোবাইল ফোন দিয়ে আবু আজাদের সঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সঙ্গে ফোনে কথাও বলে। এরপর ওই সাংবাদিকের পকেটে মোহন নিজের ভিজিটিং কার্ড ঢুকিয়ে দিয়ে ক্ষমতা থাকলে কিছু করতে বলে হুমকিও দেয়।এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজ।তারা সন্ত্রাসীদের আটক করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশও করেছেন।
