রাঙামাটি প্রতিনিধি
রাঙামাটি শহরে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে চাঁদাবাজ চক্র। আঞ্চলিক সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে ব্যবসায়ী ও ঠিকাদারদের কাছ থেকে কোটি টাকার চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এতে ব্যবসায়ী মহলে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, কখনো জেএসএস, কখনো ইউপিডিএফ বা ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) পরিচয়ে ফোন কিংবা দূত পাঠিয়ে কোটি টাকার চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। টাকা না দিলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
সম্প্রতি রাঙামাটি শহরের দোয়েল চত্বর এলাকায় বিদেশি একটি সংস্থার অর্থায়নে চলমান একটি নির্মাণ প্রকল্পে গিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে সন্ত্রাসীরা। তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন রাঙামাটি কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ সাহেদ উদ্দিন। তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো।
এদিকে নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছে পার্বত্য চুক্তি বিরোধী সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। সংগঠনের মুখপাত্র অংগ্য মারমা শনিবার (২৩ আগস্ট) এক বিবৃতিতে বলেন, কতিপয় অসাধু ব্যক্তি ইউপিডিএফের সাধারণ সম্পাদক রবি শংকর চাকমা ও ‘অর্কিড’ নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করছে। এরা সংগঠনের কেউ নয়।
তিনি আরও বলেন, ইউপিডিএফের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্যই এসব চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। সংগঠনের কোনো নেতা-কর্মী আর্থিক বিষয়ে চাঁদা তোলেন না। তাই এসব প্রতারণার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং প্রয়োজনে প্রশাসনের শরাণাপন্ন হতে হবে।
রাঙামাটির সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ ভেঙে পড়বে। এতে বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত হবেন এবং সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ব্যবসায়ী সমাজ প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে—অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক, যাতে নিরাপদে ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব হয়।
এসএস
