বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

রমজান মাসে আল্লাহ যেভাবে বান্দার গুনাহ মাফ করেন

প্রকাশ: ১ এপ্রিল ২০২৪ | ৬:২৭ অপরাহ্ণ আপডেট: ১ এপ্রিল ২০২৪ | ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
রমজান মাসে আল্লাহ যেভাবে বান্দার গুনাহ মাফ করেন

আব্দুল হান্নান চৌধুরী

আলহামদুলিল্লাহ। ধীরে ধীরে আমরা রমজানের শেষ দশকে পৌঁছে গিয়েছি।জানিনা মহান রব আমাদেরকে ক্ষমা করেছেন কিনা।তবে একজন মুমিন সবসময় আল্লাহর ক্ষমার ব্যাপারে কখনো নিরাশ হয়না।রমজানে তিনিট পর্যায় অতিক্রম করতে পারলে আশা করা যায় যে আল্লাহ বান্দার গুনাহ মাফ করেছেন।

প্রথম পর্যায় ইহতিসাব অর্থাৎ অতীত জীবনের সমস্ত কার্যক্রমের আত্ম পর্যালোচনা করা।হযরত আবু হুরায়রা (রা:)-এর হতে বর্ণিত, ‘রাসূলুল্লাহ (সা:) ঘোষণা করেছেন : ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসের রোজা ঈমান ও ইহতিসাব সহকারে রাখবে, তার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী গোনাহ মাফ হয়ে যাবে।’  (বুখারি, ইমান অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: ২৮, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৩১, হাদিস: ৩৭)। হাদীসে ঈমান ও ইহতিসাব সহকারে রোজা পালনকারীদের জন্য পূর্ববর্তী ও পরবর্তী জীবনের গোনাহমাফ হওয়ার শুভ সংবাদ প্রদান করা হয়েছে।

দ্বিতীয় পর্যায় আল্লাহর নিকট সকল পাপের জন্য ইসতেগফার অর্থাৎ ক্ষমা প্রার্থনা করা।আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনে বলছেন,

‘‘আর যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করবে কিংবা নিজের প্রতি যুলুম করবে অতঃপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে, সে আল্লাহকে পাবে ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।(সুরা আন নিসা-১১০)

হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ বলেছেন :
‘‘হে আমার বান্দারা! তোমরা রাত-দিন পাপ করে থাকো, আর আমি সমস্ত পাপ ক্ষমা করে থাকি। সুতরাং তোমরা আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিব।
’(সহিহ মুসলিম ৬৭৩)

সুরা কাসাসে মহান আল্লাহ তাআাল বলছেন,
হে আমার রব! নিশ্চয়ই আমি আমার প্রতি যুলুম করেছি। তাই আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। তাই তিনি তাকে ক্ষমা করলেন। নিশ্চয়ই তিনি বড় ক্ষমাশীল ও অতি দয়ালু।(সূরা কাসাস : ২৪)

তৃতীয় পর্যায় জীবনে আর পাপ না করার ওয়াদা করা বা তাওবা করা।এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআালা কুরআনে বলছেন,

এবং তারা সেই সকল লোক, যারা কখনও কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেললে বা (অন্য কোনোভাবে) নিজেদের প্রতি যুলুম করলে সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তার ফলে নিজেদের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে— আর আল্লাহ ছাড়া কেইবা আছে, যে গুনাহ ক্ষমা করতে পারে। আর তারা জেনেশুনে তাদের কৃতকর্মে অবিচল থাকে না। —সূরা আলে ইমরান : ১৩৫

আল্লাহ পাক কোরআনে আরো বলছেন,
তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। অতঃপর তাঁর কাছে ফিরে আস। নিশ্চয়ই আমার রব অতি দয়ালু ও অধিক মমতাময়।(সূরা হুদ : ৯০)

হযরত আগার ইবনে ইয়াসার আলমুযানী রা. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হে লোকসকল! তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা কর। কেননা আমি দিনে একশত বার তাওবা করি। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৭০২)

রমজান মাসে গুনাহ মাফের জন্য ইহতেসাব বা আত্ম পর্যালোচনা, ইস্তেগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা এরপর তাওবা বা গুনাহ থেকে ফিরে আাসার ওয়াদা।এই তিনটি ধাপ অতিক্রম করা ছাড়া আল্লাহ কখনো গুনাহ মাফ করবেননা।আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক বুঝ দান করুন এবং পাপ মুক্ত নতুন জীবন গঠনে সহায়তা করুন।

লেখক : ইসলামি গবেষক

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares