সাম্পান ডেস্ক
যততত্র কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয় ও কওমি মাদরাসা চালুকে নিরুৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি নজরদারিতে রাখার অনুরোধ করেছেন তিনি।
রোববার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ‘শিক্ষার মানোন্নয়নে করণীয়’ বিষয়ে এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় কিন্ডারগার্টেন স্কুলের মতো যততত্র মাদরাসা হচ্ছে, একজন জনপ্রতিনিধির এমন বক্তব্যে জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এগুলোর বেশিরভাগই কওমি মাদরাসা। বেশিরভাগ অনিবন্ধিত। সেগুলোর কোনো রেজিস্ট্রেশনও নেই। হাটহাজারিতে আমাদের যে বড় মাদরাসা আছে, সেখান থেকে অনুমোদন নিয়ে এসে নূরানি মাদরাসাগুলো খোলা হয়।’
‘ওদের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। আমরা তাদের কাছে নূরানি মাদরাসা কী পরিমাণ অনুমোদন দিয়েছে, সেটার ডাটাবেইজ চেয়েছি। অনেকগুলোর অনুমোদনও নেই, কিন্তু চালিয়ে নিচ্ছে, চলছে। ভিক্ষাবৃত্তির কাজে লাগিয়ে দিচ্ছে কিছু শিশুকে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘এবতেদায়ি মাদরাসা কিংবা কিন্ডারগার্টেন স্কুল- এগুলো খোলার আগে সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু এটা ওরা নেয় না। সামাজিক বাস্তবতায় একটা বিদ্যালয় চালু হয়ে যাওয়ার পর বন্ধ করে দেওয়াটা অনেক চ্যালেঞ্জিং। খুলে দেওয়ার পরে, কাগজপত্র যদি না-ও থাকে, তবুও একটা সোশ্যাল প্রেশার তৈরি হয় যে, এই বাচ্চাগুলো কোথায় যাবে। এটা অমানবিক বলা হয়ে থাকে সামাজিকভাবে। যেসব অভিভাবক এসব প্রতিষ্ঠানের সুবিধা নিচ্ছেন, সেটা এবতেদায়ি হোক আর কিন্ডারগার্টেন হোক, তাদের কারণে আমরা আর বন্ধ করতে পারি না।’
জনপ্রতিনিধিদের কঠোর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের মনিটরিংটা করতে হবে মূলত। খোলার শুরুতেই, যখন উদ্যোক্তারা আপনাদের কাছে যাবেন, তখনই আপনারা তাদের নিরুৎসাহিত করবেন। আপনি মাদরাসা খুলছেন, কিন্ডারগার্টেন খুলছেন, আপনি কে, আপনার ডিটেইলসটা কী, আপনার ব্যাকগ্রাউন্ড কী, জানতে চাইবেন অবশ্যই।’
‘রাতারাতি ফ্লোর ভাড়া করে শুরু করে দেওয়া হল, এভাবে তো চলতে পারে না। অভিভাবকদের বলতে হবে- আশেপাশে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে তো আসন খালি আছে, আপনি সেখানে আপনার সন্তানকে নিয়ে যাচ্ছেন না কেন? আমাদের সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান, তৃণমূল পর্যায় থেকে আমাদের যারা জনপ্রতিনিধি আছেন, তাদের এসব বিষয় মনিটরিং করতে হবে।’
এছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উপস্থিতিও কঠোরভাবে মনিটরিংয়ের জন্য জনপ্রতিনিধিদের অনুরোধ করেছেন মন্ত্রী।
ধর্মীয় শিক্ষার জন্য শিশুদের সরকারি আলিয়া মাদরাসায় পাঠানো আহ্বান জানিয়ে মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘আমাদের দেশে সরকারি সিলেবাস দ্বারা পরিচালিত আলিয়া মাদরাসা আছে। সেখানে ন্যাশনাল কারিকুলাম পড়ানো হয়। বিশেষায়িত তিনটা সাবজেক্টও পড়ানো হচ্ছে। সুতরাং আলিয়া মাদরাসা থাকতে কেন আমরা যততত্র নূরানি মাদরাসা খুলব। কেউ যদি পড়তে চায়, সে আলিয়া মাদরাসায় গিয়ে পড়বে।’
‘হেফজ পড়ানোর নামে মাদরাসা খোলা হয়, কিন্তু সেটা রেগুলার স্কুলিংয়ের বাইরে বৈকালিক বিদ্যালয় হয়ে যায়। বিশেষায়িত ধর্মীয় শিক্ষাও যদি কেউ দিতে চান, তা-ও রেগুলোর স্কুলিংয়ের আওয়ারেই দিতে হবে।’
জনপ্রতিনিধি, জেলা প্রশাসন এবং শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে নিয়মিত বৈঠক করা হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।
নতুন পাঠ্যক্রম নিয়ে অপপ্রচার মোকাবেলায় জনপ্রতিনিধিদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নতুন কারিকুলাম, মূল্যায়ন পদ্ধতিটা এ বছর থেকে মাত্র শুরু হয়েছে। এখনও প্রথম মাস শেষ হয়নি। কিন্তু শুরু হওয়ার আগেই আলোচনা-সমালোচনা, অপপ্রচার। পদ্মা সেতুর কাজ শুরুর আগেই ব্যাপক অপপ্রচার শুরু হয়েছিল। এখনও তো ক্লাসই সেভাবে শুরু হয়নি। অন্য দেশের ভিডিও জোড়াতালি দিয়ে কন্টেন্ট বানানো হয়েছে। পাঠ্যবইয়ে কিছু সমস্যা আছে, সেটা আমাদের নজরে এসেছে।’
সভায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী, সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী, আবদুচ ছালাম, মো. মহিউদ্দিন বাচ্চু ও এম এ মোতালেব এবং বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানরা বক্তব্য দেন।
