বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত সুদানের এল-ফাশার, ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত

প্রকাশ: ২ নভেম্বর ২০২৫ | ২:০৩ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ২ নভেম্বর ২০২৫ | ২:০৪ পূর্বাহ্ণ
মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত সুদানের এল-ফাশার, ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত

সাম্পান ডেস্ক 

সুদানের দারফুর অঞ্চলের এল-ফাশার শহর এখন এক মৃত্যু উপত্যকা। আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) দখলে নেওয়ার পর শহরটিতে শুরু হয়েছে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ। জাতিসংঘের মানবাধিকার দফতরের তথ্যমতে, শত শত নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, নারীরা পড়েছেন যৌন সহিংসতার শিকার, ঘরবাড়ি ও শরণার্থী ক্যাম্পে চলছে অগ্নিসংযোগ।

একসময় প্রাণচঞ্চল এই শহর এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় হাসপাতাল, স্কুল, এমনকি আশ্রয়কেন্দ্রও আরএসএফের হামলা থেকে রেহাই পায়নি। শুধু একটি হাসপাতালেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত পাঁচ শতাধিক মানুষ। খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকটে শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা।

আরএসএফের এক কমান্ডার অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এগুলো মিডিয়ার অতিরঞ্জন এবং সরকারের ব্যর্থতা ঢাকতে বানানো গল্প।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, দারফুরজুড়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। প্রতিবেশী দেশ চাদে আশ্রয় নিয়েছে আরও আড়াই লাখ শরণার্থী। ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস জানিয়েছে, অপুষ্টি ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে মারা যাচ্ছে বহু শিশু। জাতিসংঘের খাদ্য সংস্থা (WFP) সতর্ক করে বলেছে, দ্রুত মানবিক সহায়তা না বাড়ালে পরিস্থিতি ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে রূপ নেবে।

পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) আরএসএফকে অস্ত্র ও অর্থ সহায়তা দিচ্ছে। সুদানের সেনাবাহিনীও ইউএই-এর বিরুদ্ধে আরএসএফকে সমর্থন ও ড্রোন হামলার অভিযোগ তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ দাবি করেছে, অভিযোগের তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত ইউএই-এর সঙ্গে অস্ত্র বাণিজ্য বন্ধ রাখতে হবে। তবে ইউএই সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

শান্তি প্রক্রিয়ায়ও নেই অগ্রগতি। জাতিসংঘ ও আফ্রিকান ইউনিয়ন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, মিশর ও ইউএই মিলে যে তিন মাসের মানবিক বিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল, তা বাস্তবায়ন হয়নি। সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান ও আরএসএফ নেতা মোহাম্মদ হামদান দাগালো—এই দুই নেতার ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এখন পুরো দেশকে গৃহযুদ্ধে নিমজ্জিত করেছে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরের পতনের পর সেনাবাহিনীতে আরএসএফকে একীভূত করার প্রশ্নে মতপার্থক্য থেকেই ২০২৩ সালের এপ্রিলে এই রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে।

সূত্র: জাতিসংঘ, ডব্লিউএফপি, ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

এসএস 

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares