বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২

মিনিটের মধ্যেই মোটরসাইকেল নিয়ে উধাও হতো তারা

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ৬:০৪ অপরাহ্ণ আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ৬:৪১ অপরাহ্ণ
মিনিটের মধ্যেই মোটরসাইকেল নিয়ে উধাও হতো  তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক

কখনো মেডিকেলের পার্কিং থেকে, আবার কখনো শপিং মলের সামনে। এরকম নগরের পাঁচলাইশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এক বিশেষ চাবি আর পদ্ধতির মাধ্যমে লক করা মোটরসাইকেল নিয়ে মিনিটের কম সময়ের মধ্যে লাপাত্তা হয়ে যেত তারা। একজন দিত পাহারা অন্যজন করতো আনলক করার কাজ। তাদের থেকে বাদ যায়নি পুলিশ সার্জেন্ট ও কারারক্ষীর মোটরসাইকেলও।এমন একটি প্রশিক্ষিত মোটরসাইকেল চোর চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।। এসময় তাদের থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডে ৭টি চোরাইকৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় পাঁচলাইশস্থ সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য তুলে ধরেন উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোখলেসুর রহমান।

গ্রেফতার চোরচক্রের সদস্যরা হলেন- সাতকানিয়া উপজেলার ৩৫ বছর বয়সঅ মো. আনোয়ার হোসেন ও ২৭ বছর বয়সী মো. সাজ্জান। কক্সবাজারের রামুর ২০ বছর বয়সী মো. জাহেদুল ইসলাম ও ২৪ বছর বয়সী মো. ইউসুপ।

সংবাদ সম্মেলনে মোখলেসুর রহমান বলেন, এই চক্রটি মুহূর্তের মধ্যেই মোটরসাইকেল চুরি করি এসব পাঠিয়ে দিত চট্টগ্রাম বাহিরে বিভিন্ন জেলায়। পরে এসব বাইক ইঞ্জিন নম্বর ও বিভিন্ন পার্টস পরিবর্তন করে বিক্রি করা হয়।

তিনি বলেন, কারারক্ষী সার্জেন্ট, মেডিকেল কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশাজীবীর চারটি মোটরসাইকেল চুরির মামলা আমাদের হাতে আসে। পরে পাঁচলাইশ থানার বেশ কয়েকজন এসআই নিয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করে অভিযানে নামে পুলিশ।

‘চুরির ঘটনাস্থলসহ আশে পাশে বিভিন্ন স্থান হতে প্রায় ৬৫০ টি সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহে করা হয়। পরে এসব পর্যালোচনা করে বিশেষ কৌশলে প্রথমর আনোয়ার ও সজ্জাকে আটক করে পুলিশ। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল সহ শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে তারা বেশ কিছু মোটর সাইকেল চুরি করিয়া কক্সবাজার রামুতে মো. ইউসুপের নিকট বিক্রয়ের জন্য নিয়েছে মর্মে স্বীকার করে।’

পরবর্তীতে বিশেষ অভিযান টিম কক্সবাজার জেলার রামু থানাধীন বিভিন্ন মূর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করিয়া মেকানিক মো. ইউসুপকে আট করে। তারই সহযোগিতায় একই দলের সদস্য মো. জাহেদুল ইসলামকেও আটক করা হয়। এবং তাদের সহযোগিতায় মোট ৭টি মোরটসাইকেল উদ্ধার হয়। চারজনকে সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতে প্রেরণ করা হবে বলে জানান তিনি।

এসময় উপপুলিশ কমিশনার চোরের হাত থেকে রক্ষার ব্যাপারে বলেন, মানুষ যাতে নিজেদের বাসা বাড়িতে যথাযথভাবে সিসি ক্যামরা স্থাপন করেন। আর মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের বলবো, আপনার যেখানে গাড়িটি পার্কিং করবেন সেখানে পাশে কেউ থাকলে তাদের বলে যাবেন। এবং নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করবেন। 

সংবাদ সম্মেলন উপস্থিত ছিলেন পাঁচলাইশ থানার ওসি নাজিম উদ্দিন, ওসি তদন্ত সাদিকুর রহমান, চক্রটি গ্রেফতারের অভিয়ানে থাকা এসআই সোহেল রানা।

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares