সাম্পান ডেস্ক
চট্টগ্রামে মিথ্যে মামলায় স্বাক্ষী দেওয়ার অপরাধে গোলাম মাওলা নামে এক কৃষকলীগ নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
সোমবার (২৫ মার্চ) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল -২ চট্টগ্রাম আদালতে আসামী গোলাম মাওলা আত্মসমর্পণ করতে আসেন। এদিন আদালত জামিন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আসামী গোলাম মাওলা ফটিকছড়ি উপজেলা রোসাংগীরি ইউনিয়নের মো: শাহ আলমের ছেলে। তিনি ফটিকছড়ি উপজেলা কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছে।এর আগে মামলার বাদী জাকিয়া আকতারকেও কারাগারে পাঠায় আদালত।তিনি জামিনে রয়েছেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আদালতে আমরা বলেছি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনটি নারীর প্রতি অপরাধের বিচারের জন্য. মিথ্যা অভিযোগে কাউকে বিপদগ্রস্ত করার জন্য নয়। এই আইনে মিথ্যা অভিযোগ আনা একটি মারাত্মক অপরাধ।
বাদীর করা মিথ্যা মামলায় আসামির সাজা হলে অপূরনীয় ক্ষতি হয়ে যেত। আইনের ১৭ ধারায় ওই বাদীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তিনি আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়, বলেন আইনজীবী।
জানা যায়,২০১৩ সালে বাদী জাকিয়া আক্তারের সঙ্গে গোলাম জাকারিয়ার বিবাহ হয়েছিল। সামাজিক নিয়ম মেনে এই বিবাহে ৮ লাখ টাকার কাবিন করা হয়। তাদের সংসার জীবনে ১০ বছরের একটি কন্যা সন্তান ছিল। স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে জাকিয়া আকতার গোপনে গোলাম মাওলার সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত হয়ে পড়েন। পরকীয়া প্রেমিক গোলাম মাওলার সঙ্গে যোগসাজশ করে প্রবাসী স্বামীর পাঠানো টাকা আত্মসাৎ করতেন। পরকীয়ার বিষয় জানতে পেরে প্রবাসী গোলাম জাকারিয়া স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে বলেন জাকিয়া আকতারকে।
দেশে এসে স্ত্রীকে সংসারে ফেরাতে চেষ্টা করেন গোলাম জাকারিয়া। ওই সংসারে ফিরতে বাধ্য না করতে উল্টো গোলাম জাকারিয়াসহ তার পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা হামল করার হুমকিও দেন মিথ্যে মামলার বাদী জাকিয়া আকতার।
মামলার নথি সুত্রে জানা যায়, জাকিয়া আক্তারকে সংসার জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন গোলাম জাকারিয়া। পরবর্তীতে সামাজিক ভাবে তাদের তালাক হয়। তবে, এই তালাক আর পরকীয়া প্রেমিক গোলাম মাওলার যোগসাজশে এক পর্যায়ে জাকিয়া আকতার বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল -২ চট্টগ্রাম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্বাক্ষী ছিলেন গোলাম মাওলা। ওই মামলায় আসামী করেন স্বামী গোলাম জাকারিয়া সহ তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের। পরবর্তীতে মামলাটি জুডিশিয়ারি তদন্ত হয়।
নথি সুত্রে আরও জানা যায়, ২০২০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয় আদালতে। তদন্তে মামলার উল্লেখিত ঘটনা মিথ্যে বলে উল্লেখ করেন।
তদন্তে বাদীর ভাই ও স্ত্রী, শশুড়কে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ওই সময় জাকিয়া আকতার আদালতে না রাজি দেন। পরবর্তী গোলাম জাকারিয়াকে আসামি দেখানো হয় ওই মামলা। ২০২২ সালে মামলাটি চার্জ গঠন হয়েছিল। স্বাক্ষী অনুপস্থিত থাকায় মামলা থেকে গোলাম জাকারিয়াকে মামলা থেকে খারিজ করে দেন আদালত।
পরবর্তীতে উক্ত আদালত মিথ্যে মামলায় হয়রানি করার অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারায় মামলা করেন গোলাম জাকারিয়া। মামলায় আসামি করেন বাদী জাকিয়া আকতার ও স্বাক্ষী গোলাম মাওলাকে। আর ওই মামলায় জেলে গেলেন বাদী জাকারিয়া ও স্বাক্ষী গোলাম মাওলা।
মামলার বাদী গোলাম জাকারিয়া আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বিজ্ঞ আদালত আমাদের কথা শুনেছেন এবং আমাদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যে মামলার বাদী ও স্বাক্ষীকে কারাগারে পাঠিয়েছে । আমরা ন্যায় বিচার চাই। আমি আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞ।
