সাম্পান ডেস্ক
জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেছেন, বিএনপির ১০ দফা দাবি এখন জনগনের দাবিতে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগ ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতায় এসে দেশকে তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত করেছে। মানুষ আজ নিঃশ্ব হয়ে গেছে। বাজারে গেলে মানুষের চোখের পানি চলে আসছে, মানুষ এক বেলা খেয়ে আরেক বেলা অনাহারে থাকছে। দিনদিন এমন পরিস্থিতি সরকারি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে। দেশের জনগণ ভালো নেই, নিত্যপ্রয়োজনী দ্রব্যে মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস নেমে এসেছে। কিন্তু সরকারের সেদিকে নজর নেই, কারণ জনগণের ভোটে তারা ক্ষমতায় আসেনি। ভোট ডাকাতির নির্বাচনে ক্ষমতায় এসে জনগণের উপর আওয়ামী লীগের লুটপাটের দায়-দেনা চাপিয়ে দিচ্ছে। জনগণ আওয়ামী ফ্যাসিবাদ থেকে রক্ষা পেতে চায়। জনগণ জেগে উঠেছে, এলাকায় এলাকায় এখন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জোট হচ্ছে। এই সরকারের পতন ঘটাতে মানুষ নেমে এসেছে। অনতিবিলম্বে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার দাবি মেনে নিয়ে জনগণের চোখের ভাষা বুঝতে শিখুন, না হলে পালানোর সব পথে বন্ধ হয়ে যাবে। জনগণের অধিকার আদায়ে, ১০ দফা দাবি আদায়ে আগামী শুক্রবার বিএনপির জনসমাবেশ সফল করুন।
আজ, ১৭ মে বুধবার বিকালে আগামী ১৯ মে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও ১০ দফা দাবিতে সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য এ সব কথা বলেন।
এসময় সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, আওয়ামী লীগ কথায় কথায় সংবিধানের দোহাই দিচ্ছে, জনগণের অধিকারের কথা বলছে। আওয়ামী লীগ ভোট ডাকাতির নির্বাচনে ক্ষমতায় এসে নিজেদের ইচ্ছে মতো সংবিধান সংশোধন করেছে। সংবিধানের দোহাই দিয়ে জনগণের ভোটাধিকার ডাকাতি করেছে। এবারও তারা ভোটা ডাকাতির নির্বাচনের কথা ভাবছে।জনগণের জন্য এ দেশের সংবিধান, জনগণের জন্যই সংবিধান সংশোধন করতে হবে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। আওয়ামীলীগকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে। আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রেখে কোন নির্বাচন এ দেশে আর হতে দেওয়া হবে না। জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার করার জন্য, জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য বিএনপির চলমান এই আন্দোলন সামনে আরো বেগবান হবে।বিএনপি জনগনের অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাজপথে আন্দোলন করছে। অধিকার আদায় না করে আমরা ঘরে ফিরে যাবো না।জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করে রাজপথ ছাড়বো।
বিশেষ অতিথি বক্তব্যে কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এর নাজিম উদ্দিন বলেন,এই সরকারের পায়ের তলায় মাটি নেই।তাই আওয়ামী সরকার একদলীয় নির্বাচনের চিন্তা করছে। শ্রমিক দলের নেতৃবৃন্দদের ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনের এগিয়ে আসতে হবে।আগামী শুক্রবার কেন্দ্রঘোষিত জনসমাবেশ সফল করার জন্য সর্বস্তরের শ্রমিক জনতার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর বলেছেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার আরেকটি তামাশার নির্বাচন করার প্রন্ততি নিচ্ছে। সুষ্ঠ ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের কথা বললেই তাদের মাথা নষ্ট হয়ে যায়। তারা জানে সুষ্ঠ ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচন হলে ৫টি আসনও পাবেনা। তাই তারা প্রশাসনকে ব্যবহার করে একদলীয় ভাবে তাদের অধিনে নির্বাচন করতে চায়। আগামী শুক্রবার চট্টগ্রামের জনসভা সফল করার জন্য সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের এগিয়ে আসতে হবে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ হারুন বলেছেন, আমরা বলছি ২০১৪ ও ২০১৮ মত নির্বাচনের চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিন। মানুষ এখন রাজপথে নেমে এসেছে। এই গণঅভ্যুত্থান ঠেকাতে পারবেন না। যারা যারা মনে করছেন, ঘরে বসে থাকবেন, তাদের বলছি। আর ঘরে বসে থাকার সময় নাই। আন্দোলনের প্রস্তুতি নিন ।
দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান বলেন , বর্তমান অবৈধ দখলদার আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছে।ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে এ সরকারকে ক্ষমতা থেকে পদত্যাগে বাধ্য করতে হবে।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা.শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এর নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ হারুন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান,প্রস্তুতি সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, সৈয়দ আজাম উদ্দিন, এসএম সাইফুল আলম,এস কে খোদা তোতন,নাজিমুর রহমান, শফিকুর রহমান স্বপন, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, ইস্কান্দর মির্জা আবদুল মান্নান,আহবায়ক কমিটির সদস্য হাজী মো. আলী, মাহবুব আলম, এস এম আবুল ফয়েজ, আবুল হাশেম, আনোয়ার হোসেন লিপু, গাজী মো. সিরাজ উল্লাহ, মঞ্জুর আলম মঞ্জু, মো. কামরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশারফ হোসেন দীপ্তি, বিভাগীয় শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ নূরউল্লাহ বাহার, মহানগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি, থানা বিএনপির সভাপতি মনজুর রহমান চৌধুরী , মোহাম্মদ আজম উদ্দিন, মোঃ হারুন, হাজী বাবুল হক, মোশারফ হোসেন ডিপ্টি, মোহাম্মদ সেকান্দর,নগর মহিলা দলের সাধারন সম্পাদক জেলী চৌধুরী,নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোঃ সাইফুল ইসলাম, থানা বিএনপির সাধারন সম্পাদক নূর হোসেন, জাকির হোসেন, আব্দুল কাদের জসিম, জসিম উদ্দিন জিয়া,মাইনুদ্দিন চৌধুরী মাইনু,তাঁতী দলের মনিরুজ্জমান টিটু, জাসাসের এম এ মুছা বাবলু,ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ অঙ্গ সংগঠনের প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
