নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) প্রতিনিধি
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার জামছড়ি, চেরারমাঠ, ফুলতলী, চাকঢালা, বাইশারী, ঘুমধুম ও তুমব্রু এলাকার বিভিন্ন সীমান্ত রুট দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও চোরাচালান চলার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তে বসবাসরত দরিদ্র মানুষকে ব্যবহার করে ইয়াবা, আইস, স্বর্ণ ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য পাচার করছে কয়েকটি চক্র। এসব কার্যক্রমে আরকান আর্মি ও আরসাসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদক ও অস্ত্র পাচারের বিনিময়ে সীমান্তের এপার থেকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর কাছে খাদ্য, সার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হয়। আগে ধান, সীমবিচি ও হলুদের আড়ালে এসব পাচার চললেও সম্প্রতি এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অবৈধ বার্মিজ গরু।
কক্সবাজারের গর্জনিয়া গরুর বাজার নানা জটিলতায় বন্ধ থাকায় এসব গরু অন্য এলাকায় নিয়ে গিয়ে রশিদ দেখিয়ে বৈধ করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত মূল ব্যক্তিদের একজন নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের আমতলী এলাকার বাসিন্দা ছৈয়দ আলম ওরফে ‘ইয়াবা ছৈয়দ’।
অভিযোগ অনুযায়ী, ছৈয়দ আলম একসময় ইয়াবা বহনকারী হিসেবে কাজ শুরু করলেও পরে নিজেই বড় ব্যবসায়ীতে পরিণত হন। মোটরসাইকেল, সিএনজি ও বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার করে মাদক পাচার করে অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। একাধিক মামলার আসামি হলেও রাজনৈতিক প্রভাব ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে ২০২৪ সালের আগস্টের পর নিজেকে নির্যাতিত দাবি করে চাকঢালা বাজারের ইজারা নেন ছৈয়দ আলম—যা নিয়ে এলাকায় নতুন করে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মাদক ও চোরাচালান সংক্রান্ত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
