বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

ভোটের দিন সকাল থেকে চট্টগ্রামে যা করেছে বিএনপি- জামায়াত

প্রকাশ: ৮ জানুয়ারি ২০২৪ | ৯:৫৬ অপরাহ্ণ আপডেট: ৮ জানুয়ারি ২০২৪ | ১০:১৯ অপরাহ্ণ
ভোটের দিন সকাল থেকে চট্টগ্রামে যা করেছে বিএনপি- জামায়াত

আবু রোহামা,বিশেষ প্রতিনিধি 

হচ্ছে হচ্ছে বলে হয়ে গেলো দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আর এই নির্বাচনের ঠেকাতে সারা দেশের মতো চট্টগ্রামেও কম চেষ্টা করেনি বিএনপি জামায়াতের নেতাকর্মীরা ।এরমধ্যে ভোটের দিন সকালেও নরমে- গরমে কর্মসূচি পালন করেছে তারা। একতরফা ভোটের প্রতিবাদে কেন্দ্র ঘোষিত হরতাল কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার রাত থেকেই জেলার বিভিন্ন স্থানে মশাল মিছিল করেছে বিএনপি।এরমধ্যে ভোটের দিন রবিবার (৭ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম নগরসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করেছে তারা।আতঙ্ক সৃষ্টি করতে বিভিন্ন স্থানে ভোটকেন্দ্রে ককটেল ফাটানো হয়েছে।এরমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষেও জড়িয়েছেন তারা।আর জামায়াত শিবিরও বিভিন্ন স্থানে লিফলেট বিতরণ ও ঝটিকা মিছিল করেছে।

ভোটগ্রহণ শুরুর আধঘণ্টা পর চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁওয়ের মৌলভী পুকুর এলাকায় বিএনপির সঙ্গে বিজিবি ও পুলিশের সংঘর্ষ হয়। বিএনপির নেতাকর্মীরা এসময় স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ সালামের নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত একটি রিক্সা খালে ফেলে দেন।

জানা যায়,মৌলভী পুকুর পাড় এলাকার কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা ভোটারদেরকে ভোট দিতে বাঁধা দেন। এ সময় বিজিবি সদস্যরা এলে বিএনপিকর্মীরা তাদের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এরপর ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলে তাদের ওপরও চলে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ।এরপর তারা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এলাকায় কিছু মহিলাও তখন বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে যোগ দেন।একপর্যায়ে অতিরিক্ত ফোর্স এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আর বিএনপির নেতাকর্মীরা সটকে পড়েন।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক ও চান্দগাঁও – বোয়ালখালী আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী আবু সুফিয়ান  বলেন, আমাদের নেতাকর্মীরা মানুষজনকে ভোট না দিতে অনুরোধ করছিলেন।এটা ছিলো একেবারেই শান্তিপূর্ণ। এরমধ্যে বিজিবি ও পুলিশ বিনা উস্কানিতে নেতাকর্মীদের উপর হামলা করেছে।আর এই ঘটনায় উল্টো আমিসহ প্রায় ২৫০ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে চান্দগাঁও পুলিশ।এরমধ্যেই আটক করা হয়েছে ১২ জনকে।

এদিকে পূর্বঘোষিত হরতালের  সমর্থনে রবিবার  দুপুরে নগরীর জুবলী রোড এলাকায় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্করের নেতৃত্বে মিছিল হয়েছে।মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি আলিফ উদ্দিন রুবেলের নেতৃত্বে রবিবার দুপুরে চট্টেশ্বরী মোড় এলাকায় ও চবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমানের নেতৃত্বে কাজীর দেউরী ও আসকার দিঘীর পাড় এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।উত্তর ও দক্ষিণ জেলার বিভিন্ন স্থানেও হরতালের সমর্থনে মিছিল করা হয়। এছাড়া শনিবার রাতেই জেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ফাঁটানো হয় ককটেল।আগুন দেয়া হয়েছিলো কয়েকটি কেন্দ্রে।

এদিকে নির্বাচন বাতিল,কেয়ারটেকার সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও আমীর ডা.শফিকুর রহমানসহ সকল রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবিতে কেন্দ্র ঘোষিত ৪৮ ঘণ্টা হরতালের সমর্থনে রবিবার সকালে নগরের পাঁচলাইশ ও বায়েজিদে মিছিল করেছে জামায়াত।চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলার বিভিন্ন স্থানেও ঝটিকা মিছিল করেছে তারা।তবে এসবে কোথাও সংঘাতের খবর পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের একজন সিনিয়র নেতা  বলেন, ‘সরকার নির্বাচন করে ফেলবে সেটা ধরেই আমরা কাজ করেছি।এরমধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে এতোদিন কর্মসূচি পালন করেছি।আজকেও ( রবিবার) আমরা সর্বোচ্চ সংযম দেখিয়েছি।নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশনা ছিলো কোনভাবেই সংঘাতে যাওয়া যাবে না।আর তাদের প্রতি আরেকটা নির্দেশনা ছিলো,কারচুপির এই নির্বাচনের বিভিন্ন অসংগতিগুলো ভিডিও, ছবি আকারে নিয়ে আসতে।এটা নিয়ে আমাদের কয়েকটি সেল কাজও করেছে।আসন ভিত্তিক এরকম আমাদের সেটাপও ছিলো।’

এদিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রহসনের নির্বাচন বর্জন করে ভোটদান থেকে বিরত থাকার জন্য নগরবাসীকে অভিনন্দন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান ও সেক্রেটারী অধ্যক্ষ নুরুল আমিন। রবিবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গণমাধ্যম পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয় ,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ দেশের সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল অবৈধ সরকারের অধীনে আয়োজিত এই প্রহসনের নির্বাচন বর্জন করেছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রের উপর চরম আঘাত করেছে ফ্যাসিবাদী সরকার।

জামায়াত নেতারা বলেন,এই নির্বাচনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে গণতান্ত্রিক বিশ্ব এ দেশের মজলুম ও গণতান্ত্রিক জনগণের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। গণতান্ত্রিক বিশ্বও চায় এই দেশে সকল দলের অংশগ্রহণে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন। আজকের এই নির্বাচন বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে। গণতান্ত্রিক বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে এবং দেশকে ভবিষ্যত ভয়ানক পরিণতি থেকে রক্ষা করতে হলে এই নির্বাচন বাতিল করে অনতিবিলম্বে কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে পুনরায় নির্বাচন দিতে হবে।

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares