বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২

ভুল স্বীকার করে মাওলানা এম এ মতিনের সেই গাড়িটি ফেরত দিয়েছে কাস্টমস

প্রকাশ: ৫ মার্চ ২০২২ | ৭:৪৫ অপরাহ্ণ আপডেট: ৫ মার্চ ২০২২ | ৭:৪৫ অপরাহ্ণ
ভুল স্বীকার করে মাওলানা এম এ মতিনের সেই গাড়িটি ফেরত দিয়েছে কাস্টমস

বিশেষ প্রতিনিধি

গত ২০২০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারী চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানা এলাকার   একটি বাড়ির গ্যারেজে অভিযান চালায়  কাস্টমস গোয়েন্দা ইউনিটের একটি টিম।পরে সেখানের পার্কিংয়ে থাকা চাইনিজ ‘গ্রেট ওয়াল ‘ব্রান্ডের একটি হাভাল  গাড়ি জব্দ করে তারা।অভিযোগ,শুল্ক ফাঁকি দিয়ে গাড়িটা আমদানি করা হয়েছে।তবে প্রায় এক বছর ৭ মাস  পর  প্রমাণ হয়,গাড়িটা নিলামের মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়ার আমদানি করা হয়।এই অভিযোগ ভুল প্রমাণিত হওয়ার পর আনা হয় আরো কয়েকটি অভিযোগ। সবশেষে  দুই বছরের বেশি সময় পর গত ১ মার্চ নিজেদের ভুল স্বীকার করে গাড়িটি মালিকের কাছে  ফেরত পাঠিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে এই  দুই বছরে   কাস্টমস অফিসের সামনে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে  প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে ২৭ লাখ টাকায় কেনা এই গাড়ি।

এই গাড়ির ভুক্তভোগী মালিকের নাম মাওলানা এম এ মতিন। তিনি দেশের একজন শীর্ষ  আলেম ও তরিকতভিত্তিক দল ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব।

জানা যায়, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইসলামী ফ্রন্ট নেতা এম এ মতিনের  গাড়িটা  আটকের এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবু হানিফ মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ। গাড়িটা আটকের সময় বলা হয়, মাওলানা মতিন গাড়িটা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আমদানি করেছেন।যেখানে মাওলানা আব্দুল মতিন সর্বশেষ তৃতীয় পক্ষ থেকে গাড়িটা কিনেছেন।আর তদন্তের মাধ্যমে উঠে আসে গাড়িটা  নিলামের  যথাযথভাবে মাধ্যমে যথাযথভাবে দেশে আনা হয়েছে।

জানা যায়,আটক হওয়া গাড়িটি  ২০০৭ সালের ২২ মে মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান নামে এক ব্যক্তি কাস্টমস নিলাম থেকে কিনেন। তার কাছ থেকে একই বছরের ১১ই  অক্টোবর গাড়িটা কিনে নেন মিজানুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ী ।ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান এই গাড়ি আবার ২০০৮ সালের ২১ অক্টোবর মোহাম্মদ মুজিবুর রহিমানের কাছে বিক্রি করেন।আর মুজিবুর রহমানের কাছ থেকে সর্বশেষ ২০১১ সালের ৩১ অক্টোবর গাড়িটা কিনেন মাওলানা এম এ মতিন।

এদিকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আমদানি করার যে অভিযোগে  অভিযোগে গাড়িটা জব্দ করা হয়েছে, তার  ১ বছর ৭ মাস পর পর এসে  সেটি ভুল প্রমাণিত হওয়ার পর এবার  কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তৈরি করেন আরেকটি অজুহাত। বলা হয়, গাড়িটার চেসিস নাম্বার পাল্টে ফেলা হয়েছে। পরে দেখা যায়,গাড়িটার চেসিস নাম্বার পাল্টে ফেলা হয়েছে  ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কাস্টমসের নিলাম শাখায় এই গাড়ির নাম্বার উল্লেখ করা হয় ৮ অক্ষরের  CC64 60KY। আর মাওলানা মতিনের ওই গাড়ির চেসিস নাম্বার LGWEF3A517B063520।পরে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে, আমদানি করা গাড়ির চেসিস নাম্বার যেটি কাস্টমসের নিলাম শাখায় উল্লেখ করা হয়েছে সেটিই ভুল। আর  কোন গাড়ির চেসিস নাম্বার ৮ অক্ষরের হয়না।

জানা যায়, ২০০৭ সালে ১ম রেজিস্ট্রেশনের সময় বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ গাড়িটা সরজমিনে পরীক্ষা করে  এই গাড়ির চেসিস নাম্বার এন্ট্রি করেন। তবে নিলামের কাগজে যে ভুল চেসিস নাম্বার লেখা হয়েছে  তাদেরকে সেটি জানান নি বিআরটিএ কর্মকর্তারা।পরে কাস্টমসের চূড়ান্ত প্রতিবেদনেও সেটি উঠে আসে। সবশেষে নিজেদের ভুল হয়েছে স্বীকার করে গত ১ মার্চ প্রায় ব্যবহার অনুপযোগী গাড়িটা মালিকের কাছে ফেরত দেয়া হয়েছে।

নিজের বৈধভাবে কেনা গাড়ি নিয়ে এই ভোগান্তির বিষয়ে মাওলানা এম এ  মতিন বলেন, নিয়ম নীতি মেনেই গাড়িটি কিনেছি। তবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে  কিনেছি বলে  সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগে  একজন কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তার  নেতৃত্বে আমার গাড়িটা জব্দ করা হয়। পরে তাদের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ার পর নিজেদের বাঁচাতে তারা আরো কয়েকটি   ঠুনকো অভিযোগ দাঁড়  করান । পরে সেগুলোও মিথ্যা প্রমাণিত হয়। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে তারা গত সোমবার গাড়িটা ফেরত দেন।যদিও এরমধ্যে অযত্ন অবহেলায় গাড়িটা প্রায় ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তা আবু হানিফ মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ উউদ্দেশ্য  প্রণোদিতভাবে এই অন্যায় কাজটি করেছে।পরে এই তথ্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে সরবরাহ করে আমার সম্মানহানি করেছে।তাদের  এসব কর্মকাণ্ডে আমি আর্থিক ও মানসিকভাবে চরম ক্ষতির শিকার হয়েছি।

এদিকে বিষয়টি জানতে চাইলে চট্টগ্রাম  কাস্টমস কমিশনার ফখরুল আলম বলেন, ‘ কোন বিষয়ে অভিযোগ আসলে আমরা তদন্ত করে দেখি।এই গাড়ির  ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আমরা গাড়িটা জব্দ করেছিলাম।আর তদন্তে অভিযোগ ভুল প্রমাণিত হওয়ায় সেটি ফেরত দেয়া হয়েছে।’

তদন্তে দীর্ঘসূত্রিতার বিষয়ে তিনি বলেন,’ করোনা পরিস্থিতির কারণে আমরা অনেকদিন স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে পারিনি।আর এই গাড়ির নিলাম রেজিস্ট্রেশন, বিআরটিএ রেজিস্ট্রেশনসহ বেশ কিছু জায়গায় অসঙ্গতি ছিলো।যেকারণে তদন্ত কাজ শেষ করে বিভিন্ন  তথ্যের সংশোধন  করতে সময় লেগেছিল।

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares