বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২

ভারতীয় নৌবাহিনী কর্তৃক ‘এমভি আব্দুল্লাহ’ উদ্ধারের খবরটি সত্য নয়

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৪ | ৯:০৩ অপরাহ্ণ আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২৪ | ৯:০৪ অপরাহ্ণ
ভারতীয় নৌবাহিনী কর্তৃক ‘এমভি আব্দুল্লাহ’ উদ্ধারের খবরটি সত্য নয়

বিশেষ প্রতিনিধি 

বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আবদুল্লাহকে ভারতের নৌবাহিনী উদ্ধার করেছে বলে প্রচার করছে দেশটির বিভিন্ন মিডিয়া।বাংলাদেশের কয়েকটি গণমাধ্যমও এই বিষয়টি ফলাও করেছে। তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছে এমভি আব্দুল্লাহ’র মালিকপক্ষ ও শিপিং সংশ্লিষ্টরা।জিম্মিদের স্বজনরাও জানিয়েছেন একই কথা।

শনিবার ইন্ডিয়ান টুডে,ইন্ডিয়ান একপ্রেসসহ ভারতের কয়েকটি মিডিয়ায় বলা হয়, ছিনতাইকৃত বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহকে উদ্ধার করেছে ভারতীয় নৌবাহিনী।যদিও সেসব সংবাদের ভেতরে এই বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা নাই।পরে জানা যায়, মাল্টিজ পতাকাবাহী একটি একটি জিম্মি জাহাজকে উদ্ধারে ভারতের নৌবাহিনীর প্রচেষ্টাকেই দেশটির মিডিয়া এমভি আব্দুল্লাহের সাথে মিলিয়ে ফেলেছে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে এমভি আব্দুল্লাহ’র মালিকপক্ষ কবির গ্রুপের মিডিয়া এডভাইজার মিজানুল ইসলাম  বলেন, ওই মিডিয়াগুলো কোথা থেকে এসব লিখেছে জানিনা। তবে বিষয়টি মিথ্যা।জিম্মি জাহাজ সোমালিয়ার উপকূল থেকে ৪ নটিক্যাল মেইল দূরে নোঙর করা আছে।আজকে ( শনিবার) এপর্যন্ত নাবিকদের সাথে আময়াদের কোন যোগাযোগ হয়নি।জলদস্যুদের সাথেও কথা হয়নি।’

বাংলাদেশ মেরিন অফিসার্স এসোসিয়েশনের সেক্রেটারি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘ জিম্মি জাহাজ উদ্ধার করা হয়েছে বলে যেটা লেখা হচ্ছে সেটা গুজব। তারা গত ১৪ তারিখ রেসকিউ করার চেষ্টা করেছিল শুনেছি।তবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।আর এই চেষ্টাকেই মিডিয়া উদ্ধার হয়েছে বলে প্রচার করছে হয়তো।

এদিকে জাহাজ উদ্ধার হয়েছে কি-না জানতে চাইলে জিম্মি নাবিক নুরুদ্দিনের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন,’ এটা সত্য নয়।মিডিয়া এসব ভুলভাল বিষয় কোথায় থেকে নিয়ে আসে,সেটি বোধগম্য হচ্ছে না।’

জানা যায়, শুক্রবার ভারতীয় নৌবাহিনীর তাদের অফিসিয়াল এক্সে ( সাবেক টুইটার) একটি ভিডিও পোস্ট করে।সেই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মাল্টিজ পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ থেকে ভারতীয় নৌবাহিনীর হেলিকপ্টারে গুলি চালিয়েছে সোমালিয়ার জলদস্যুরা।পরে ভারতীয় নৌবাহিনী সরে যায়।এই মাল্টিজ রুয়েন কার্গো জাহাজটি গত ১৪ ডিসেম্বর ছিনতাই করেছিল সোমালিয়ান জলদস্যুরা। মূলত এই জিম্মি জাহাজটিকে আটকাতে অভিযান চালাচ্ছিল ভারতীয় নৌবাহিনী। ধারণা করা হচ্ছে, এই রুয়েন উদ্ধারের চেষ্টাকেই  বাংলাদেশের  জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহ’র সাথে মিলিয়ে ফেলেছে ভারতের মিডিয়া।

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares