নিজস্ব প্রতিবেদক
একটি ছোট শিশুর কান্না হয়তো শুধু তার না, কখনো কখনো একটি সমাজের ব্যর্থতার প্রতিধ্বনি হয়ে ওঠে—যখন সেই কান্না আসে প্রতিরোধযোগ্য কোনো রোগে আক্রান্ত হয়ে। এমন বিপর্যয় যেন আর না হয়, সেই আশায় চট্টগ্রামের পেনিনসুলা হোটেলে জমেছিল একঝাঁক দেশি-বিদেশি শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মোড়কে।
শুক্রবার (২০ জুন) রাতের সেই আয়োজনে বক্তারা শুধু টিকাদানের পরিসংখ্যান নয়, শোনালেন আশা ও আশঙ্কার গল্প। ‘Expanding Protection Against Childhood Infectious Diseases Through Vaccination’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মূল প্রবন্ধে ফিলিপাইনের অধ্যাপক ড. আনা লিসা টি. ওং-লিম বললেন, “একটি সময়মতো দেওয়া টিকা হয়তো কোনো শিশুকে কেবল বাঁচায় না, বাঁচায় একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎকেও।”
পাশাপাশি আলোচনায় উঠে এলো আরও একটি প্রশ্ন—সব শিশুর জন্য কি সেই টিকা সমানভাবে পৌঁছে যাচ্ছে?
বিশিষ্ট বাংলাদেশি শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা জানালেন, নিউমোনিয়া থেকে শুরু করে টাইফয়েড, হেপাটাইটিস-এ, ইনফ্লুয়েঞ্জা—সবই প্রতিরোধযোগ্য, কিন্তু এখনও জাতীয় ইপিআই প্রোগ্রামের বাইরের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিকা সীমিত পরিসরে শুধু বেসরকারি পর্যায়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে গড়ে উঠছে এক ধরনের স্বাস্থ্য বৈষম্য, যা ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে ভবিষ্যতে।
“টিকাদান কেবল বিজ্ঞান নয়, এটি ন্যায়ের প্রশ্ন,” বললেন ড. চিরঞ্জীব বড়ুয়া।
সাইনোভিয়া ফার্মা পিএলসি’র ভ্যাকসিন বিভাগের সহকারী মহাব্যবস্থাপক লাকি সিনহা স্মরণ করিয়ে দেন, “শিশুদের টিকাদান একটি সামাজিক দায়বদ্ধতা। একটি জাতি কতটা সংবেদনশীল, তা বোঝা যায় তার শিশুরা কতটা সুরক্ষিত—এই মাপকাঠিতে।”
সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা সুপারিশ করেছেন, Hexaxim, Menactra, Typhim VI, Avaxim ও Vaxigrip Tetra-এর মতো টিকা যাতে ধাপে ধাপে জাতীয় কর্মসূচির আওতায় আসে, সে বিষয়ে সরকার ও বেসরকারি অংশীদারদের যৌথ পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
এখানে শুধু ওষুধ নয়, ভবিষ্যতের জন্য দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।
সম্মেলন শেষ হলেও রেখে গেল প্রশ্ন, প্রতিটি শিশুর জন্য সমান সুরক্ষা কি নিশ্চিত করতে পারছি আমরা?
