বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

বাউল মতবাদ ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক

প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২৫ | ১:০৪ অপরাহ্ণ আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০২৫ | ১:০৪ অপরাহ্ণ
বাউল মতবাদ ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক 

বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধারা বাউল সম্প্রদায়কে কেন্দ্র করে সম্প্রতি দেশে ব্যাপক বিতর্ক ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। প্রভাবশালী বাউল সংগঠক ও শিল্পী বাউল সরকার-এর ব্যক্তিগত মতাদর্শ, আচরণ ও প্রকাশিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও মামলার ঘটনা ঘটে।

ইসলামী গবেষকরা অভিযোগ করছেন, বাউল দর্শন ইসলামের আকীদা, আমল ও মৌলিক শিক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাদের মতে, বাউলদের প্রচার-প্রসার ধর্মীয় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে এবং মুসলিম সমাজে মতভেদের জন্ম দিচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলেন, বাউল মতবাদ কোনো একক ধর্মীয় ধারা নয়; বরং শিয়া মতপ্রথা, প্রাচীন মাজুসী বিশ্বাস ও হিন্দুধর্মীয় ভাবসাধনার মিশ্রণে এটি গড়ে ওঠে। বাউল দর্শনের শেকড় নির্মাণ করেন লালন ফকির, যার জন্ম ১৭৭৪ সালে এবং মৃত্যু ১৮৯০ সালে। তাঁর সাধনা-ভাবধারা থেকেই বাউলদের বৃহৎ অনুসারী গোষ্ঠী বিস্তৃত হয়।

সমালোচকরা দাবি করছেন, লালনের ভাবধারা প্রচারের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকার নীরব সমর্থন দিয়ে এসেছে। ফলে মূলধারার ইসলামী আলেমদের পক্ষে বাউল দর্শনকে চ্যালেঞ্জ করা কঠিন হয়ে উঠছে। পাশাপাশি গ্রামীণ সমাজে সাংস্কৃতিক গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির ফলে বাউল শিল্পীরা অনেক ক্ষেত্রে ধর্মীয় ব্যাখ্যাকার হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছেন।

অন্যদিকে, বাউল শিল্পীরা বলেন, তারা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় পরিচয়ে আবদ্ধ নন; মানবধর্ম ও মানবপ্রেমই তাদের মূল ভিত্তি। আধ্যাত্মিক পরিচয়ের অংশ হিসেবে তারা ‘সরকার’সহ বিভিন্ন উপাধি ব্যবহার করে থাকেন। গবেষকদের মতে, এ উপাধির প্রচলন জনপ্রিয়তা পায় বাউল শিল্পী বিজয় সরকারের সময় থেকে।

সমালোচকদের দাবি, বর্তমান বাউল আচার-অনুশীলনের অনেকটি হিন্দু ধর্মীয় সাধনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা মুসলিম সমাজে প্রশ্ন তৈরি করছে। প্রখ্যাত ইসলামী গবেষক শায়েখ আহমদ উল্লাহসহ অনেকে বাউল মতবাদকে ইসলামের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন একটি স্বাধীন মতাদর্শ হিসেবে বিবেচনা করেন।

তবে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, সঙ্গীত ও দর্শনে বাউলদের প্রভাব অবিস্মরণীয়—এ বিষয়টি অস্বীকার করা যায় না। তবুও সাম্প্রতিক উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও ধর্মীয় সংবেদনশীলতা সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।

অনেকের মতে, দেশের ধর্মীয় মূল্যবোধ, সাংস্কৃতিক সামঞ্জস্য ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখতে বাউল আচার-অনুষ্ঠান ও মতবাদ প্রচারে আরও অধিক সতর্কতা প্রয়োজন।

এসএস

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares