সাম্পান ডেস্ক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বাঁধা উপেক্ষা করে আইআইইউসির সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রোডাক্টিভি রমাদান শীর্ষক আলোচনা সভা ও গণ ইফতার কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে।
দেশের দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে রমজান মাসে ইফতার পার্টির ওপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে এই গণ-ইফতার কর্মসূচি পালন করেছে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১৮ মার্চ) সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে প্রোডাক্টিভ রমাদান শীর্ষক আলোচনা সভা ও এই গণ-ইফতার কর্মসূচিতে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী। গণ- ইফতারে অংশ নিতে দুপুর থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে জড়ো হতে থাকেন। খবরটি তখন পুরো বিশ্বিবদ্যালয় ছড়িয়ে পড়ে।তবে অনুমতি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের কর্মসূচি করতে দেওয়া হবে না জানান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।এ সময় প্রক্টরিয়াল বডি সাধারণ শিক্ষার্থীদের দ্রুত ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে নির্দেশ দেন। বিশ্ববিদ্যালয় ফটকে শুরু করেন পুলিশ দিয়ে তল্লাশী। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে অনড়ভাবে অবস্থান নেন। এ সময় প্রক্টরিয়াল বডি এসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের গণ ইফতার বন্ধ করতে বলেন। অনুমতি ছাড়া এমন কর্মসূচি পালন করা যাবে না বলে জানান প্রক্টরিয়াল বডি। এক পর্যায়ে প্রক্টরিয়াল বডির সাথে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।পরে অনুমতি না পেয়ে আছরের নামাজ শেষে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকের বাহিরে খোলা আকাশে গণ ইফতার কর্মসূচির আয়োজন করেন।
গণ ইফতারে আংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, রমজান মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইফতার কর্মসূচিতে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে গণ ইফতারের আয়োজন করেন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি ছিলে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে প্রোডাক্টিভি রমাদান শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার কর্মসূচি সভা পালিন করার। এটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর বডির সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয় শিক্ষার্থীদের।পরবর্তীতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের গণ দাবির মুখে কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সপোর্ট মাঠে অনুমতি দিতে বাধ্য হয়।
আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইফতেখার উদ্দিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে গণ ইফতার কর্মসূচির পালনের কোনো অনুমতি ছিলো না। এমন কর্মসূচি পালন করতে অনুমতি নিতে হয়।
গণ ইফতারে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘ইফতার মাহফিল মুসলিমদের হাজার বছরের ঐতিহ্য। এরকম একটি অনুষ্ঠানে বাঁধা প্রদান অনভিপ্রেত। এরকম অনুষ্ঠানে বাঁধা প্রদান মূলত ইসলামী তাহজীব তামাদ্দুনের প্রতি আঘাত হানা।’
প্রসঙ্গত, গত রোববার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা উল্লেখ করে ক্যাম্পাসে ইফতার পার্টি আয়োজন না করার অনুরোধ জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)। পরদিন সোমবার নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) থেকেও একই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা গণইফতার কর্মসূচি পালন করছে।
