ফটিকছড়ি প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা জাহিদুল আলম চৌধুরীকে আটক ও পরবর্তীতে মুক্তি দেওয়া নিয়ে এলাকায় তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব, আর্থিক লেনদেন এবং থানার ভূমিকা— সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন স্থানীয় মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
পাইন্দং ইউনিয়নের শ্বেতকুয়া এলাকার বাসিন্দা, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মচারী জাহিদুল আলমকে ১৫ নভেম্বর রাতে আটক করে ফটিকছড়ি থানা পুলিশ। পরদিন ১৬ নভেম্বর ভোরে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে আটক জাহেদুলের এক আত্মীয় (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) দাবি করেন, দালালের মাধ্যমে ১ লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে থানা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তাদের এই অভিযোগ এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে ওসি নুর আহমদের কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, যে আত্মীয় টাকা লেনদেনের অভিযোগ করেছে, সে যদি সত্যিই টাকা দিয়ে থাকে— তাহলে আগে মিডিয়াকে জানায়নি কেন? এসব গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।
ওসি আরও জানান, সরকারি চাকরিজীবী জাহিদুলের বিরুদ্ধে তার ব্যবসায়িক অংশীদার মৌখিক অভিযোগ আনায় তাকে থানায় আনা হয়েছিল। কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকায় মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। টাকা লেনদেনের বিষয়টি সম্পূর্ণ অসত্য।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করেছেন— রাজনৈতিক প্রভাবের জোরে জাহিদুল পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে চাকরি পেয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কাউছার আকতার বলেন, জাহিদুল আলম আমাদের স্টাফ। কারও রাজনৈতিক মত থাকতেই পারে— এতে চাকরির বিষয়ে কোনো সমস্যা নেই।
ঘটনা ঘিরে এলাকায় চলছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই থানা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
এসএস
