ইবনে জহুর, বিশেষ প্রতিনিধি
গায়ে জড়ানো বিভিন্ন রঙের টি-শার্ট,হাতে রঙ-বেরঙের ব্যানার-ফেস্টুন। মুহুর্মুহু স্লোগান আর একসঙ্গে ছুটে চলা। চট্টগ্রামের বহুল আকাঙ্ক্ষিত প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশ শেষ হয়েছে।সমাবেশে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি স্কুল কলেজের ছাত্রী,সরকারি চাকুরে আর শ্রমজীবী মানুষ উপস্থিত ছিলেন।সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্যের পাশাপাশি ২৯টি প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। সমাবেশে কয়েক লক্ষ নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। আলোচিত এই সমাবেশের কয়েকটি দিক তুলে ধরা হলো।
সকাল থেকেই মিছিলের নগরী চট্টগ্রাম

পলোগ্রাউন্ড মাঠে সমাবেশ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় বেলা দেড়টায় । তবে ১২ টার মধ্যে মঞ্চের সামনের অংশ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। এরমধ্যে সকাল থেকেই মিছিলের নগরীতে পরিণত হয় বন্দরনগরী । বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যানার ফেস্টুন সহকারে মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলের দিকে আসতে থাকেন নেতাকর্মীরা। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গাড়ি বহর নিয়ে শহরে প্রবেশ করে তারা।অনেকে আবার কয়েকদিন আগেই চলে এসেছিলেন চট্টগ্রাম নগরে।এরমধ্যে দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপ থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ট্রলার ও বোটে করে শনিবার বিকেলে সীতাকুন্ড ঘাটে এসে জড়ো হয়। পরে বাস যোগে নগরীতে এসে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও কমিউনিটি সেন্টারে উঠেন তারা।

শহরের অধিকাংশ গার্মেন্টস ছিলো বন্ধ :
সমাবেশের একটি বড় দিক ছিলো নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যাক শ্রমজীবী মানুষের উপস্থিতি।তাদের অধিকাংশ ছিলো গার্মেন্টস কর্মী।প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে চট্টগ্রাম শহরের অধিকাংশ গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ থাকার সুযোগে তারা প্রধানমন্ত্রীকে এক নজরে দেখতে ভীড় করেছিলেন সমাবেশে।তবে নেতারা নিজেদের কোটা পূর্ণ করতে টাকার বিনিময়ে এসব শ্রমজীবী মানুষদের সমাবেশে এনেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

শিশু কিশোরদের মিলনমেলা
প্রধানমন্ত্রী আগমনকে কেন্দ্র করে করে নগরীর প্রায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিলো।যে কারণে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের অনেকেই সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনতে এসেছেন।এরমধ্যে এই সব শিশু কিশোরদের জন্য ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ৫ লাখ চকলেটের ব্যবস্থা করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রবেশস্থলে চবির চারুকলা শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটকে শহর থেকে হাটহাজারীর মূল ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য আন্দোলন করছিল শিক্ষার্থীরা।দীর্ঘ এক মাস ধরে আন্দোলন করেও তারা কোন দাবি আদায় করাতে পারেনি।এবার প্রধানমন্ত্রী এম আজিজ স্টেডিয়ামে হেলিকপ্টার থেকে নেমে পলোগ্রাউন্ড মাঠে গাড়িতে করে প্রবেশের মুখে কিছু শিক্ষার্থী তাদের দাবি দাওয়া লিখে ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে দাঁড়িয়ে যান।পরে পুলিশ তাদেরকে কয়েকবারের চেষ্টায় সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।

প্রধানমন্ত্রীর চাটগাঁইয়া’ বক্তব্য :
সমাবেশে বক্তব্য দিতে এসে শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামবাসীর উদ্দেশে বলেছেন, ‘অনেরা ক্যান আছন? বেয়াগ্গুন গম আছন নি? তোয়ারার লাই আর পেট পুরের, তাই আজ আই আইছি।’ তখন উপস্থিত জনতা বলে উঠেন, ‘আঁরা গম আছি।’
মিছিল নিয়ে আসার পথে আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু
পলোগ্রাউন্ড সমাবেশে মিছিল নিয়ে আসার পথে স্ট্রোক করে জহিরুল ইসলাম বাচা মিয়া (৫০) নামের এক আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু হয়।বাচা মিয়া চন্দনাইশ উপজেলার ৮নং উত্তর হাশিমপুর ইউনিয়নের দুলাল মিয়ার পুত্র।তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। সদরঘাট থানাধীন শাজাহান হোটেলের সামনে চট্টগ্রাম ১৪নং সংসদীয় আসনের এমপি নজরুল ইসলাম চৌধুরী’র সাথে প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশে যাওয়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন বাচা মিয়া।পরে তাকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।সেখানে কিছুক্ষণ পরই তিনি মারা যান।

ক্ষুব্ধ স্থানীয় সাংবাদিকরা:
ঢাকা থেকে আসা প্রধানমন্ত্রী বিটের সাংবাদিকদের পাশাপাশি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর চট্টগ্রাম অফিস থেকে একজন করে প্রতিনিধিকে সমাবেশের ভেতর সংগ্রহের জন্য অনুমতিপত্র দেয়া হয়। এছাড়া চট্টগ্রামের ৪ টি আঞ্চলিক পত্রিকা থেকে মোট ৮ জনকে দেয়া হয় এই অনুমতিপত্র। সব মিলিয়ে চট্টগ্রামের ৫৯ জন সাংবাদিককে এই অনুমতি দেয়া হয়।তবে চট্টগ্রামে কর্মরত জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন পত্রিকার কাউকে এই অনুমতিপত্র দেয়া হয়নি।যে কারণে ক্ষুব্ধ গণমাধ্যম কর্মীদের অনেকে সংবাদ কাভার করতে যাননি।আবার অনেকে গিয়ে রাস্তায় বসে নিউজ কাভার করেন।

জেলার ১৪ এমপির সমর্থকদের আলাদা ড্রেসকোড:
জনসভায় আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত জেলার ১৪ জন এমপি বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে সমাবেশে আসেন। এই ১৪ জন এমপির সমর্থকদের জন্য রাখা হয়েছিল আলাদা রঙের ড্রেস কোড। যে কারণে কার চেয়ে কে বেশি লোক আনতে পারে, তার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা ছিলো এমপিদের। এছাড়া যুবলীগের চট্টগ্রাম মহানগর ও উত্তর জেলা কমিটির পদপ্রত্যাশী নেতাদের আলাদা আলাদা ড্রেসকোড নিয়ে শোডাউন চোখে পড়েছিল সবার।

