বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২

পার্বত্য উপদেষ্টার ‘আদিবাসী’ দাবির প্রতিবাদে রাঙামাটিতে পিসিসিপির বিক্ষোভ

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৫ | ৬:১৯ অপরাহ্ণ আপডেট: ৩০ জুন ২০২৫ | ৬:১৯ অপরাহ্ণ
পার্বত্য উপদেষ্টার ‘আদিবাসী’ দাবির প্রতিবাদে রাঙামাটিতে পিসিসিপির বিক্ষোভ

রাঙামাটি প্রতিনিধি

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমার ‘আদিবাসী’ পরিচয় সংক্রান্ত বক্তব্য এবং সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকীর ভূমিকার প্রতিবাদে রাঙামাটিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি)।

সোমবার (৩০ জুন) পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা শাখার আয়োজনে কাঠালতলী থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বনরূপা সিএনজি স্টেশন চত্বরে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন পিসিএনপি রাঙামাটি জেলা সভাপতি মো. সোলায়মান, পিসিসিপি’র যুগ্ম সম্পাদক রবিউল ইসলাম, বরকল উপজেলা সভাপতি তসলিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা প্রচার সম্পাদক ইসমাঈল গাজী, লংগদু উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ হোসেন এবং পৌর সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম বাবু।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ২৩ জুন অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০১০’ সংশোধনের মাধ্যমে ‘নৃ-বৈচিত্র্য সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান অধ্যাদেশ, ২০২৫ (প্রস্তাবিত)’ নিয়ে আলোচনা হয়। এতে সাতটি ইনস্টিটিউটের নাম পরিবর্তন করে ‘জাতি-বৈচিত্র্য ইনস্টিটিউট’ রাখার প্রস্তাব তোলা হয়।

এছাড়া সভায় উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, “আমরা আদিবাসী শব্দটি চাচ্ছি শুধুমাত্র আমাদের আইডেন্টিফিকেশনের জন্য।” পিসিসিপি নেতারা এই বক্তব্যকে সংবিধানবিরোধী এবং বিভাজনের রাজনীতিকে উৎসাহদাতা বলে আখ্যা দেন।

তারা বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের জনগণ জাতি হিসেবে বাঙালি এবং নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশের নাগরিক। তাই একটি দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তির এমন বক্তব্য জাতিগত উত্তেজনা তৈরি করতে পারে এবং দীর্ঘদিনের সহাবস্থানের পরিবেশকে ব্যাহত করতে পারে।

বক্তারা আরও জানান, প্রস্তাবিত আইন সংশোধনে ৭(ঘ) ধারা অনুযায়ী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত ৬ জন প্রতিনিধির কথা বলা হয়েছে, যা রাজনৈতিক কাঠামোয় একপাক্ষিকতা তৈরি করে পার্বত্য বাঙালি জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলবে।

পিসিসিপি নেতৃবৃন্দ সরকারকে সতর্ক করে বলেন, সাংস্কৃতিক অধিকার হোক সম্মানিত, কিন্তু সেটিকে যেন কখনো রাষ্ট্রের একক ও অভিন্ন জাতিসত্তার বিরোধিতা করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করা হয়।

এসএস

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares