বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

নিজেকে আর লুকিয়ে রাখতে পারলেন না নারায়ন রক্ষিত

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২২ | ৬:৪৭ অপরাহ্ণ আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২২ | ৭:৩২ অপরাহ্ণ
নিজেকে আর লুকিয়ে রাখতে পারলেন না  নারায়ন রক্ষিত

জালাল রুমি,বিশেষ প্রতিনিধি

নারায়ন রক্ষিত।পুরো নাম জয়প্রকাশ নারায়ণ রক্ষিত। বাড়ি আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর এলাকায়।নেই কোন নির্দিষ্ট পেশা। তবে নির্বাচন আসলেই ব্যস্ততা বেড়ে যায় তার।স্থানীয় ও জাতীয় – দুটোতেই প্রার্থী হন তিনি।বলতে গেলে নির্বাচন করায় তার পেশা।বরাবরের মতো আসন্ন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচনেও প্রার্থী হয়েছেন।তবে এই নির্বাচনেই বেশি আলোচনায় আসেন তিনি।কারণ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পরেই রহস্যজনকভাবে নিরুদ্দেশ হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। এরমধ্যে তার প্রার্থীতা প্রস্তাবকারীকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ এসেছে।তবে নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে হঠাৎ প্রকাশ্যে চলে এসেছেন তিনি।এসে জানালেন,ভোটারদের চাপে নিজেকে আর লুকিয়ে পারেন নি।ভয়ভীতি পিছু ঠেলে নেমেছেন নির্বাচনী প্রচারণায়।

জানা যায়, ‘পেশাদার নির্বাচনী প্রার্থী’ নারায়ণ রক্ষিত বাংলাদেশ স্বাধীনতা পার্টি নামে একটি দলের মহাসচিব। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ থেকে শুরু করে সব নির্বাচনে প্রার্থী হন তিনি।তবে কোন নির্বাচনে জিততে পারেন নি। এমনকি সব নির্বাচনেই জামানত বাজেয়াপ্ত হয় তার।এরমধ্যে সর্বশেষ ১৫ সেপ্টেম্বর জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা যাচাই-বাছাই শেষে মনোনয়ন পত্র বাতিল করলেও পরে ফেরত দেন।তবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েই অনেকটা নিরুদ্দেশ হয়ে যান তিনি। যদিও মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে কাগজে কলমে তিনি চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা এটিএম পেয়ারুল ইসলামের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হেভিওয়েট প্রার্থী হয়েও দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর এটিএম পেয়ারুল ইসলাম জোরেশোরেই প্রচারণা শুরু করেন।আর মনোনয়নপত্র জমা দিয়েই ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর বন্ধ করে আড়ালে চলে যান নারায়ন। তার খোঁজ নিতে গ্রামের বাড়িতে গিয়েও কাউকে পাওয়া যায়নি।তবে নির্বাচন কয়েকদিন বাকি থাকতেই গত মঙ্গলবার প্রকাশ্যে আসেন তিনি।এসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রচারণার কয়েকটি ছবি দেন।আর নিজের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরটিও চালু করেন।

এদিকে এতদিন কোথায় ছিলেন জানতে চাইলে নারায়ন রক্ষিত সাম্পান নিউজকে বলেন, আমি বিভিন্ন এলাকার চেয়ারম্যান মেম্বারদের অনুরোধে প্রার্থী হয়েছিলাম।কিন্তু আমার প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়ারুল সাহেব আমাকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের হুমকি ধুমকি দিচ্ছিলেন।এমনকি আমাকে মেরে ফেলারও হুমকি দেন।আমার পক্ষে নাম প্রস্তাবকারী দুইজনকে গুমও করেছে তারা।পরে বাধ্য হয়ে ছেড়ে দিয়েছিল।আমাকে পেলেও গুম করেতে পারে। তাই আমি আত্মগোপন করে ঢাকায় চলে এসেছিলাম।তবে এখন আমার ভোটারদের অনুরোধে আড়াল থেকে বের হয়েছি।এখন এসে আবার প্রকাশ্যে প্রচারণা চালাচ্ছি।

সব নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।তাই বিভিন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি।তবে কালো টাকা আর পেশিশক্তির কাছে বারবার হেরে গেছি।তবে এবার আর পেশিশক্তির কাজ হবে না।গাইবান্ধার ভোটের মধ্যেই এটা আপনারা বুঝতে পারছেন।আর স্বচ্ছভাবে ভোট হলে আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।আমি এবার নিরব ভোট বিপ্লব করবো।প্রতিদিন ভোটার মানে বিভিন্ন জায়গার চেয়ারম্যান মেম্বাররা আমাকে ফোন দিচ্ছেন। তারা বলছেন আমার জয় শতভাগ নিশ্চিত।

নিজেকে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে তিনি বলেন ‘ মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বয়স ছিলো ১৩ বছর।ওই বয়সেই আমি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম।আমার দুই মামা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন।আর তারাই আমাকে আওয়ামী লীগের নাম দিয়ে ভয় লাগান। আর আমিই আসল আওয়ামী লীগ।শেখ হাসিনার জন্য ২০ বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছি আমি।

এখন কোন হুমকি ধামকি পাচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সাথে কথা বলেছি।তারা আমাকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়েছেন।একইসাথে জেলার নির্বাচন কর্মকর্তা বরাবর একটা লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। ভারতীয় হাইকমিশনকেও জানাবো।আশা করি এরা আর ঝামেলা করার সাহস পাবে না।তাই এখন মাঠে এসেছি।তবে এখন আর হুমকি না দিলেও প্রলোভন দিচ্ছে।নির্বাচন থেকে সরে যেতে ২ কোটি টাকার প্রস্তাব দিয়েছে।তবে আমি এসবে কান দিবো না।’

নারায়ন বলেন, ‘এখন শুনছি আমাকে গ্রেফতার করানো হবে। তবে আমাকে গ্রেফতার করলে আমি চট্টগ্রামের নেলসন ম্যান্ডেলা হয়ে যাবো।জনতা আমাকে জেলের তালা ভেঙ্গে বের করবে।চারদিকে শুধু আমার জয়ধ্বনি চলবে।’

নারায়ণ রক্ষিতের লিখিত অভিযোগ পেয়েছে কিনা জানতে জেলা প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা ও এই নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা হাসানুজ্জামানকে ফোন দেয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।তবে জেলার সহকারী নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এরকম কোন লিখিত অভিযোগ আমরা পায়নি।অভিযোগ পেলে করণীয় ঠিক করবো।

এদিকে নারায়ণ রক্ষিতের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এটিএম পেয়ারুল ইসলাম বলেন, এই লোক কখন কি বলেন হয়তো তা নিজেও জানেন না।আলোচনায় আসার জন্য তিনি এসব বলছেন।আমি চাই উনি মাঠে এসে প্রচারণা চালাক। আর এটা না করে তিনি আজগুবি কথা বলছেন।

উল্লেখ্য, আগামী ১৭ অক্টোবর চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।নির্বাচনে মোট ২২ টি পদে ৭০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।এতে এই জেলার আওতাধীন স্থানীয় সরকারের মোট দুই হাজার ৭৩০ জন নির্বাচিত প্রতিনিধি ইভিএমের মাধ্যমে ভোট দেবেন।

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares