নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ধর্ষণের পর এক স্কুলছাত্রীকে হত্যা ও লাশ গুম করার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শাহনেওয়াজ সিরাজ মুন্না নামে এক যুবকের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৯ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের বিচারক হালিমুল্লাহ চৌধুরী মামলার রায় ঘোষণা করেন।
একই রায়ে অপহরণের অপরাধে মুন্নাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১ লক্ষ টাকা জরিমানা এবং লাশ গুমের অপরাধে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ রায়ে দুইজনকে বেখসুর খালাস দেয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা পুলিশের পরিদর্শক (প্রসিকিউশন) জাকের হোসাইন মাহমুদ।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর স্কুলছাত্রী তাছনিম সুলতানা তুহিন হাটহাজারীর ফটিকা শাহ জালাল পাড়ার সালাম ম্যানশনের দ্বিতীয় তলার বাসা থেকে নিখোঁজ হন। এই ঘটনায় পরদিন হাটহাজারী থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন তুহিনের ভাই আকিব জাবেদ। ১৬ সেপ্টেম্বর তুহিনের পরিবারের সন্দেহের জেরে পুলিশ একই ভবনের চতুর্থ তলার শাহনেওয়াজ সিরাজ মুন্নাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদা তুহিনকে ধর্ষণ করে হত্যা ও লাশ গুমের কথা জানায় মুন্না। ওইদিন সন্ধ্যায় তুহিনের বাসার সোফা সেটের নিচ থেকে তুহিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় পরদিন হাটহাজারী থানায় মুন্না ও তার বাবা-মাকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন তুহিনের ভাই মুন্না।
পরে ২০১৯ সালের ১০ জুলাই আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে হাটহাজারী থানা পুলিশ।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রিয়াদ উদ্দিন জানান, বিচার শুরুর পর ৩১ জন স্বাক্ষীর মধ্যে ১৮ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেছেন। রায়ে অপহরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মুন্নার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড, ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড এবং লাশ গুমের অপরাধে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায় কীভাবে কার্যকর হবে তা রায়ের কপি পেলে জানা যাবে। বাকী দুই আসামির বিরুদ্ধে লাশ গুমের অভিযোগ ছিলো, তাদের বেখসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। এই বিষয়ে আমরা অসন্তুষ্ট, তাদের বিষয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করব আমরা।
