প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৫ | ৬:৫৪ অপরাহ্ণ আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০২৫ | ৬:৫৪ অপরাহ্ণ
সাম্পান ডেস্ক
বহুল আলোচিত নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে আপিল শুনানি শুরু হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।
আবেদনের পক্ষে শুনানি করছেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া, আর রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত রয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে করা আবেদনের শুনানি শেষে আপিলের অনুমতি দেন আদালত।
পরবর্তীতে ড. বদিউল আলম মজুমদার, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ পাঁচজন আপিল করেন।
সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৯৬ সালে অন্তর্ভুক্ত হয়। তবে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৯৮ সালে হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী এম সলিম উল্লাহসহ তিনজন।
২০০৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট রায় দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে বৈধ ঘোষণা করেন। কিন্তু সেই রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৫ সালে আপিল করা হয়।
দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১১ সালের ১০ মে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে রায় দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত হয় এবং ২০১১ সালের ৩০ জুন পাস হয় পঞ্চদশ সংশোধনী আইন, যা ৩ জুলাই গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এ রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন বিশিষ্ট নাগরিক।
এরপর ১৬ অক্টোবর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ২৩ অক্টোবর জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার পৃথকভাবে রিভিউ আবেদন করেন।
এছাড়া নওগাঁর বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনও একই রায়ের পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল সংক্রান্ত এই আপিলের শুনানি এখন রাজনৈতিক অঙ্গনসহ দেশজুড়ে গভীর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
এসএস
