সাম্পান ডেস্ক
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের এক বছর পূর্তির ঠিক আগ মুহূর্তে দেশের অন্যতম প্রাচীন বাংলা দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় বড় ধরনের অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। পত্রিকাটির একদল কর্মী সম্পাদক ও প্রকাশক শামীমা এ খানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে একটি সম্পাদকীয় বোর্ড গঠন করেছে।
শনিবার (২ আগস্ট) পত্রিকার কয়েকজন কর্মীকে মালিকপক্ষ চাকরিচ্যুত করার পরই এই উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের একটি অংশ মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে হাতিরঝিল থানায় মামলা দায়ের করে এবং সম্পাদককে অপসারণের ঘোষণা দেয়।
সম্পাদক শামীমা এ খান একে ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে বলেন, একটি গোষ্ঠী মব তৈরি করে জনকণ্ঠ ভবনে অনধিকার প্রবেশ করেছে এবং পত্রিকাটির ওপর অবৈধভাবে দখল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। তিনি গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবারের চীফ অপারেটিং অফিসার অবসরপ্রাপ্ত মেজর আফিজুর রহমান, এনসিপি নেতা ও পত্রিকার প্ল্যানিং অ্যাডভাইজার জয়নাল আবেদীন শিশিরসহ কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।
অভিযুক্ত আফিজুর রহমান ও জয়নাল আবেদীন শিশির বিবিসি বাংলার কাছে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। শিশির বলেন, আমরা জনকণ্ঠ দখল করিনি। এখানে কোনো মালিকানা কিংবা প্রকাশনার দায়িত্বে নেই। কর্মরত সাংবাদিকদের সম্মতিতে একটি পরিচালনা বোর্ড গঠন করেছি। তিনি আরও দাবি করেন, এই দখলের অভিযোগ আওয়ামী লীগ ও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার তৈরি করা ভাষ্য।
প্রসঙ্গত, যারা নতুন বোর্ড গঠন করেছেন, তারা সবাই ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পত্রিকাটিতে বিভিন্ন পদে নিয়োগ পান। তাদের মধ্যে অনেকে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এসএস
