সাম্পান ডেস্ক
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রন্টু দাশ পদত্যাগ করেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন।
বুধবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর ০১.০০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে তিনি স্বহস্তে তার সীল ও স্বাক্ষর সম্বলিত ইতিহাস বিভাগের একটি প্যাডে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর পদত্যাগ পত্র জমা দেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সুুত্রে জানা যায়, ইতিহাস বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় ২০১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। বিজ্ঞপ্তি অনুসারে গ্রেডিং পদ্ধতিতে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের এসএসসি বা সমমান ও এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষার উভয়টিতে ন্যূনতম জিপিএ-৩.০ পয়েন্ট এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে পৃথকভাবে ৩.৫ থাকতে হবে।
কিন্তু এই পদে আবেদন করে বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাসে যোগ্যতা শিথিল করে তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নগ্ন হস্তক্ষেপে শিক্ষক হয়েছিলেন তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রন্টু দাশ। যিনি এইচএসসিতে পেয়েছিলেন ২.৯। স্নাতকে পেয়েছেন ২.৯৪। বিভাগের প্ল্যানিং কমিটি এর প্রতিবাদ করলেও বিভাগের প্রভাবশালী এক শিক্ষকের চাপে আবেদনপত্রটি গৃহীত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলেন, ২০১৪ সালের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রন্টু দাশকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় রচনা করেছিল, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে ইতিপূর্বে ঘটেনি। অনেক মেধাবী ও সর্বোচ্চ সিজিপিএ পাওয়া প্রার্থীরা প্রভাষক পদে আবেদন করলেও প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের নগ্ন থাবায় সেদিন শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করে খুনি রন্টু দাশকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফলে বঞ্চিত হয়েছিল প্রকৃত মেধাবীরা। রন্টু দাশের সবচেয়ে বড় যোগ্যতা হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছিল সে দুজন মেধাবী ছাত্রকে কুপিয়ে হত্যার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মোঃ আলী ওবায়দুল্লাহ জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ডিপার্টমেন্টে যোগ্যতা শিথিল করে ছাত্রলীগের ক্যাডারদের অবৈধভাবে নিয়োগ দিয়েছেন চবি প্রশাসন। আমরা সবার বিরুদ্ধে একশনে যাবো। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে প্রতিবাদ করব।
আমরা এটাও শুনেছি যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক শিরিন আকতারের আমলে অনেক শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী অবৈধভাবে এবং চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন। অবিলম্বে তাদের নিয়োগ বাতিল করতে হবে।
প্রশাসনের কাছে আমরা দাবি জানাচ্ছি অবৈধ নিয়োগ বাতিল করে মেধাবীদের নিয়োগ দেন। অন্যথায় আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবো।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে মোনায়েম শরীফ বলেন, এই অযোগ্য শিক্ষককে বাঁচাতে কিছু স্বৈরাচারীর দোসর মরিয়া হয়ে উঠেছে। আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারি কৌশল হিসেবে তাকে বাঁচাতে এ পদত্যাগ পত্র দেয়া হয়। তাকে রক্ষা করার জন্য কিছু শিক্ষক উঠে পড়ে লেগেছে এবং বিভিন্ন তৎপরতা দেখাচ্ছে। এর প্রতিবাদে তাকে চাকরিচ্যুত করতে বিকেল ৫.০০ টায় ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্টে মানব বন্ধন করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধনে তাকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে বিচারকার্য সম্পাদন করার তীব্র দাবি জানান সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
এম আর এইচ
