বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের শহীদ বুদ্ধিজীবী পালন: তদন্ত কমিশন গঠন করে সত্য উদঘাটনের দাবি

প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | ৮:০৪ অপরাহ্ণ আপডেট: ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | ৮:০৪ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের শহীদ বুদ্ধিজীবী পালন: তদন্ত কমিশন গঠন করে সত্য উদঘাটনের দাবি
​বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের প্রাক্কালে ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর সহস্রাধিক শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, লেখক ও শিল্পীসহ বুদ্ধিজীবী পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। 
তিনি একজন নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করাকে গোটা মানবজাতিকে হত্যার শামিল আখ্যা দিয়ে এহেন জঘন্যতম মানবতাবিরোধী অপরাধের তীব্র নিন্দা জানান। তিনি জোর দাবি জানান, তদন্ত কমিশন গঠন করে সঠিকভাবে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করা এবং বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করে ইতিহাসের দায় শোধ করা হোক।
রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) বিকাল ৪:৩০টায় দেওয়ানবাজারস্থ জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
​তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ড যেমন গুরুতর অপরাধ, তেমনি ভূয়া বয়ান তৈরি করে প্রকৃত খুনিদের আড়াল করে অন্যদের উপর দায় চাপিয়ে দেয়াও জঘন্য অপরাধ। কাজেই কারা এ জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল, প্রকৃত হত্যাকারী কারা ছিলো তা আজও রহস্যময় করে রাখা হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘ দেড় যুগের ফ্যাসিবাদী শাসন কর্তৃক ভূয়া বয়ানের ভিত্তিতে মিথ্যা মামলা করে প্রচলিত সাক্ষ্য আইনকে উপেক্ষা করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিচারিক হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে জাতীয় নেতৃবৃন্দকে দুনিয়া থেকেও সরিয়ে দেয়া হয়েছে।
​নগর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে ভারতের দিকে সন্দেহের তীর ছুঁড়ে দেন। তিনি কমরেড তোয়াহার সূত্রে প্রাপ্ত ১৯৬৯ সালে কাজী জাফরের একটি বক্তব্য, “আমি পূর্ব পাকিস্তানের সবুজ মাটি রক্তে লাল করে দেবো” উল্লেখ করেন। পাশাপাশি, সৈয়দ মবনুরের ‘লাহোর থেকে কান্দাহার’ বইয়ের ১৫৬-৫৭ পৃষ্ঠায় রাও ফরমান আলীর সঙ্গে তার সাক্ষাৎকারের বিবরণ তুলে ধরে বলেন, ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডে তার ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেছিলেন, “তখন তো ঢাকা ছিল ভারতীয় সৈন্যদের নিয়ন্ত্রণে। তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করলো কে? আমি মনে করি, এব্যাপারে কাউকে দায়ী করতে হলে অবশ্যই ভারতকে করতে হবে।”
​তিনি বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের অনেকেই ছিলেন সরকারের পক্ষে বা পাকিস্তান রাষ্ট্রের ঐক্যের পক্ষে। তিনি ১৯৭১ সালের ১৭ মে তৎকালীন রাষ্ট্রের অখন্ডতার পক্ষে বিবৃতি দেওয়া ঢাকা কেন্দ্রিক ৫৫ জন এবং চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৩ জন শিক্ষকের তালিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে অনেকেই এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন, পাকিস্তানপন্থী বুদ্ধিজীবীদেরকে পাকিস্তানী বাহিনী কেন হত্যা করবে? এটি একটি অমীমাংসিত ঐতিহাসিক প্রশ্ন যা যুগ যুগ ধরে ঘুরপাক খাচ্ছে।
​নগর আমীর দৈনিক দিনকালে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে বিএনপির সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার বক্তব্য তুলে ধরে বলেন, “১৯৭১ সালের ১২ ডিসেম্বর থেকে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় এবং তাদের সামরিক কমান্ড ভেঙ্গে পড়ে। সে সময় তারা ছিল আত্মসমর্পণ ও আত্মরক্ষায় ব্যস্ত। নিজেদের জান নিয়ে যেখানে টানাটানি সেখানে অন্যকে হত্যা করার সুযোগ কই?” তিনি বিশিষ্ট সমর বিশেষজ্ঞ ও রাজনীতিবিদের মন্তব্যটিকে ঐতিহাসিকভাবে বিশ্লেষণের দাবি জানান।
​মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আরও বলেন, নিরপেক্ষ গবেষক ও বুদ্ধিজীবীদের আরো অনেকে অভিন্ন মতামত দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের শিকার বুদ্ধিজীবীরা ছিলেন পাকিস্তানপন্থী। তাদের কেউ ভারতে যাননি। জহির রায়হানের মতো অনেকে ছিলেন চীনপন্থী কমিউনিস্ট। সামরিক বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তি মাত্রই বিশ্বাস করেন যে, পাকিস্তানি সৈন্যদের নাম ব্যবহার করে অন্য কেউ তাদেরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। তিনি সন্দেহভাজন হিসেবে ভারতের নাম উচ্চারিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, ভারতে না যাওয়ায় তারা ভারতের রোষানলে পড়েছিল। শহীদুল্লাহ কায়সারের হত্যাকান্ডে জড়িত ব্যক্তি ‘জল’ চেয়েছিল, যা ভারতীয় বাঙালিদের পরিভাষা। এসব কারণে বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের তীর ভারতের প্রতি। তিনি তদন্ত কমিশন করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের আহবান জানান।
​বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহ-এর পরিচালনায় উক্ত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, ডবলমুরিং থানা আমীর ফারুকে আজম, চকবাজার থানা আমীর আহমদ খালেদুল আনোয়ার, কোতোয়ালি থানা নায়েবে আমীর অধ্যাপক আব্দুজ্জাহের প্রমুখ। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সিদ্দিকুর রহমান, চট্টগ্রাম মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য হামেদ হাসান ইলাহী, প্রফেসর মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ প্রমুখ।

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares