বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে ‘যাকাত ও উশর’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৪ | ৩:৪৭ অপরাহ্ণ আপডেট: ১১ মার্চ ২০২৪ | ৩:৫৪ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে ‘যাকাত ও উশর’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

সাম্পান ডেস্ক 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগর শাখার  উদ্যোগে ‘যাকাত ও উশর’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

রবিবার ( ১১ মার্চ)  সকালে সংগঠনটির  চট্টগ্রাম মহানগর শাখার আমীর ও সাবেক এমপি আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেছেন, ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া সকল ক্ষেত্রে ইসলামের প্রতিটি নির্দেশনা সঠিকভাবে পালন করা সম্ভব হয় না। তিনি বলেন, যাকাত ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশকে দারিদ্র্যমূক্ত করে একটি কল্যাণ রাষ্ট্রের ভিত্তি রচনা করতে হলে দেশে একটি ইসলামী সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা এর পূর্বশর্ত। তাই ইসলাম নির্দেশিত সঠিক পন্থায় ধনীদের কাছ থেকে যাকাত আদায় করে নির্ধারিত খাতে যাকাতের অর্থ ব্যয় করতে হলে দেশে ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করতে সবাইকে কাজ করতে হবে।

 মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বললেও সরকার এখন প্রকাশ্যেই ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। অন্য সকল ধর্মের কাজে কোন বাধা না দিলেও সরকার ইসলামের কাজেই বাধা ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। সমাজ থেকে ইসলামকে দূরে সরিয়ে রাখতেই নানা অপতৎপরতা চালাচ্ছে সরকার। ।

তিনি বলেন, সরকার দারিদ্র্য বিমোচনের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করলেও যারা গরীব তাদের কপাল কোন সময়েই ফেরে না। যাকাতভিত্তিক অর্থব্যবস্থার পরিবর্তে বর্তমানে সমাজে এখন সুদভিত্তিক অর্থনীতি চালু থাকার কারণেই ধনীরা আরো ধনী হচ্ছে আর গরিবরা হচ্ছে আরও নির্যাতিত। এই অবস্থার পবিবর্তন করতে হলে যাকাতভিত্তিক অর্থব্যবস্থা চালুর কোন বিকল্প নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মাওলানা শাহজাহান  বলেন, ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে যাকাত অন্যতম। কুরআনে নামাজ ও যাকাতের কথা যুগপৎভাবে বলা হয়েছে। নামাজ আদায় করা যেমন ফরজ, ঠিক তেমনিভাবে যাকাত আদায় করাও ফরজ। তাই নামাজের মত যাকাতও গুরুত্বপূর্ণ। আর যাকাতভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধম্যেই সমাজে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তিনি ইসলামের ভিত্তিতে যাকাতভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সকলকে শরীক হওয়ার আহবান জানান।

তিনি বলেন,যাকাত কোন অনুগ্রহ বা দান খয়রাত নয়। বিত্তবান মানুষের উদ্বৃত্ত সম্পদের উপর অভাবী মানুষের হক রয়েছে। ট্যাক্স আর যাকাত এক জিনিস নয়। অনেকে এমন আছে যে,তারা নামাজ পড়তে রাজী কিন্তু যাকাত দিতে রাজী নয়। কিন্তু হযরত আবু বকর সিদ্দিক যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করে প্রমাণ করেছেন যাকাত অন্যান্য ফরজ ইবাদতের মতই। তাই যাকাত অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই। ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা ছাড়া সমাজ পরিবর্তন সম্ভব নয়। আমরা ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে সমাজ পরিবর্তন করার চেষ্টা করি বলে আমাদেরকে মৌলবাদী বলে গালি দেয়া হয়। আবার কখনো বলা হয় সাম্প্রদায়িক। কিন্তু আল্লাহর আকাশ-বাতাসতো সাম্প্রদায়িক নয়। তাই আল্লাহর বিধান কখনো সাম্প্রদায়িক হতে পারে না। যেহেতু আমরা সমাজে আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠিত করতে চাই তাই আমরাও সাম্প্রদায়িক নই। তিনি ইসলামের বিরুদ্ধে যেকোন ধরনের অপপ্রচার থেকে সকলকে সতর্ক থাকার আহবান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের সাবেক প্রো ভিসি প্রফেসর ড.আবু বকর রফিক আহমদ বলেন, যাকাত মূলত ইসলামী সমাজ ব্যবস্থার অন্যতম স্তম্ভ। আল্লাহ রাববুল আলামীন ইসলামের যে পাঁচটি রুকন দিয়েছেন তার মধ্যে যাকাত অন্যতম। যাকাতকে আল্লাহ বিত্তবানদের উপর ফরজ করে দিয়েছেন। যা অভাবগ্রস্ত ও দুঃস্থদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। যাকাত প্রদানের মাধ্যমে মালের পরিশুদ্ধি ও শ্রীবৃদ্ধি ঘটে। মূলত সম্পদ যাতে বিশেষ শ্রেণির হাতে পুঞ্জীভূত ও কুক্ষিগত না হয় সেজন্যই আল্লাহ রাববুল আলামীন বিত্তবানদের যাকাত ফরজ করে দিয়েছেন। যাকাত আদায়ের দায়িত্ব রাষ্ট্রের এবং তা হকদারদের মধ্যে পৌঁছানোর দায়িত্বও হলো রাষ্ট্রের। কিন্তু আমাদের দেশের সরকার সে দায়িত্ব পালন করে না। আসলে যাকাতভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত না থাকার কারণেই অর্থনৈতিক বৈষম্য বিদ্যমান। তাই এ বৈষম্য দূর করতে হলে ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে যাকাতভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি আর্তমানবতার কল্যাণে যাকাতভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সকলকে শরীক হওয়ার আহবান জানান।

চট্টগ্রাম ওলামা-মাশায়েখ পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ ড. সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আবু নোমান বলেন, ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে যাকাত অন্যতম। যাকাত ছাহেবে নেসাবদের উপর ফরজ করা হয়েছে। দেশকে সুখী,সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে হলে যাকাতভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার কোন বিকল্প নেই। যাকাত অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে সমাজে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে। যাকাতকে দান-খয়রাত মনে করার সুযোগ নেই। কাউকে যাকাত দেয়াকে অনুগ্রহও মনে করা যাবে না। মূলত যাকাত দরিদ্র মানুষের হক। বিত্তবানদের এ হক আদায় করতে হবে। সমাজে সার্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে যাকাতভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার কোন বিকল্প নেই।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য, চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর ও সাবেক এমপি আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী বলেন, যাকাত কোন অনুগ্রহ নয়। রাসুল (সা.) যাকাতের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন, তা ধনী ব্যক্তিদের কাছ থেকে আদায় করে অভাবগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করতে হবে। ধনীদের সম্পদের উপর আল্লাহ বিত্তহীনদের অধিকার দিয়েছেন। আর বিত্তবানদের সে হকই আদায় করতে হবে। মূলত যাকাতভিত্তিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মধ্যেই আর্তমানবতার অর্থনৈতিক মুক্তি রয়েছে। আর ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই যাকাতভিত্তিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।তিনি ইসলামী সমাজ বিনির্মাণে সকলকে আপোষহীনভাবে কাজ করার আহবান জানান।

কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে  কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য, চট্টগ্রাম মহানগরী নায়েবে আমীর ড. আ জ ম ওবায়েদুল্লাহ ও মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, মহানগরের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ, মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুজ্জামান হেলালী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরী সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান বক্তব্য রাখেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি 

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares