বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগ যুবলীগের অতর্কিত হামলা-সংঘর্ষ : আহত ৪

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৪ | ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০২৪ | ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে স্থানীয় যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে।
স্থানীয় যুবলীগ ক্যাডার মোহাম্মদ হানিফের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের একটা দোকানে অতর্কিত হামলার জেরে এই ঘটনা ঘটে। এতে ৪ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম পার্কভিউ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (২১ অক্টোবর) ভোর থেকেই দফায়-দফায় সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।বর্তামানে পরিস্থিতি মোটামুটি শান্ত আছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, মধ্যরাত থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেইটের সামনে থাকা একটি দোকানের দখল নিতে আসে যুবলীগ নেতা হানিফের অনুসারীরা। পরে, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়াও দেয় তারা। শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। এরই জেরে দু’পক্ষের মধ্যে চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।

এ সময় ভাঙচুর চালানো হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট এলাকার বেশ কয়েকটি দোকানেও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ বলেন, সন্ত্রাসীরা ক্যাম্পাসে ককটেল বিস্ফোরণ করেন। এ সময়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে তারা হল থেকে বের হয়ে রেল ক্রসিংয়ের দিকে গেলে আবার ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের সহযোগিতা তেমন পাইনি।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মোনায়েম শরীফ জানান, বিগত শেখ হাসিনার আমলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলো স্থানীয় যুবলীগ নেতা হানিফ।বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে রেলওয়ের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে সবগুলো দোকানের ভাড়া নেয় হানিফ। এছাড়া তার ছোটোভাই ছাত্রলীগ নেতা মো. ইকবাল পুরো ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় ডিসের লাইন এবং ব্রডব্যান্ডের ব্যবসা করে।গত ৫ আগস্ট রাতে রেলক্রসিং এলাকায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছিল হানিফ ও তার অনুসারীরা। সেসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোজাম্মেল হকের গাড়িতেও তারা হামলা করে তারা।

হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা যে অসহযোগিতার অভিযোগ করছে সেটা সঠিক নয়। আমরা ৬টা ১৮ মিনিটে খবর পেয়েছি এবং ৬টা ২৬ মিনিটে রেল ক্রসিংয়ের এখানে উপস্থিত হয়েছি। স্থানীয়রা উত্তেজিত হয়েছিল তাদেরকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। যাতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের কোনো ঝামেলা না হয়। আর আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম স্বাভাবিক করার জন্য সবরকম সহযোগিতা করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি এখন শান্ত আছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares