বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২

চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে দেশ ও জাতির নিরাপত্তা সম্পৃক্ত: এস এম লুৎফর রহমান

প্রকাশ: ৮ নভেম্বর ২০২৫ | ১:১১ অপরাহ্ণ আপডেট: ৮ নভেম্বর ২০২৫ | ১:১১ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে দেশ ও জাতির নিরাপত্তা সম্পৃক্ত: এস এম লুৎফর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মোয়ারীং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) আন্তর্জাতিক দরপত্র ছাড়াই বিদেশী প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগর।

শনিবার (৮ নভেম্বর) সকাল ১০টায় প্রেস ক্লাব চত্বরে আয়োজিত এ মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান।

সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রাণশক্তি। শুধু অর্থনৈতিক নয়, এ বন্দরের সাথে জাতির স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। উন্নয়নের নামে গোপনে বিদেশী শক্তির হাতে বন্দর ইজারা দেওয়ার পায়তারা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, অতীতে এবং সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক চাপ ও গোপন সমঝোতার মাধ্যমে বন্দরকে বিদেশী কোম্পানির অধীনে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত না করে কোন সিদ্ধান্ত জাতির স্বার্থ বিরোধী বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে বিদেশী অপারেটর নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে, তবে তা অবশ্যই প্রকাশ্য দরপত্রের ভিত্তিতে হতে হবে। কোন গোপন চুক্তি বা দলিলের মাধ্যমে বন্দর হস্তান্তর করা হবে জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান।

সভায় বক্তারা বন্দরে কর্মরত শ্রমিকদের উপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা, ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার সীমিতকরণ, সিবিএ নির্বাচন বন্ধ রাখা এবং শ্রমিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন— নগর ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক হামিদুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক মুহাম্মদ নুরুন্নবী, ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মজুমদার, পাঠাগার সম্পাদক ইঞ্জি. সাইফুল ইসলামসহ বন্দর ও বিভিন্ন সেক্টরের নেতৃবৃন্দ।

শ্রমিক নেতৃবৃন্দের উত্থাপিত দাবি সমূহ:

১. শ্রমিক আইডি কার্ড থেকে মালিকের নাম প্রত্যাহার।

২. CCT ও NCT-তে কন্টেইনার ডেলিভারি শ্রমিকদের মজুরি GCB’র সমান করার ব্যবস্থা।

৩. এপ্রেইজ কন্টেইনার শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি সঠিকভাবে প্রদান।

৪. লেসিং ও আনলেসিং শ্রমিকদের কন্টেইনার ওঠানামা বোনাস প্রদান।

৫. শ্রমিকদের অবসরকালীন ভাতা এককালীন ৬০ লাখ টাকা নির্ধারণ।

৬. পোর্ট ডিউটি, ঝুঁকি ভাতা ও গৃহ নির্মাণ ঋণ অবিলম্বে বাস্তবায়ন।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হলে শ্রমিক সমাজ কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।

এসএস

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares