নিজস্ব প্রতিবেদক
কোটি টাকা ব্যয়ে চট্রগ্রাম নগরের বাকলিয়ার বির্জা খাল খনন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগর শাখা। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করেই জনকল্যাণমূলক এই কাজটি সারবে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দলটি। আর জামায়াতের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছে নগরবাসী।
সচেতন মহলের অভিমত, ক্ষমতায় না থেকেও কোন জনকল্যাণমূলক কাজের উদ্যোগ নেওয়ার নজির নেই বললেই চলে। সে জায়গায় জামায়াতে ইসলামী অবশ্যই ব্যতিক্রম। দলটি আগামী দিনে যেকোন পর্যায়ে ক্ষমতায় গেলে দেশ ও জনগণের জন্য সুফল বয়ে আনবে এমনটা আশা করাই যায়।

জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরের প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা। বর্ষা এলেই নগরবাসীকে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কোথাও কোথাও হাঁটু থেকে বুক সমান পানি জমে থাকে। দিনের পর দিন পানিবন্দি হয়ে থাকে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের মানুষ। দীর্ঘ সময় স্বৈরাচার হাসিনা সরকার ও তার ফ্যাসিস্ট দল আওয়ামী লীগের নেতারা মেয়র ও কাউন্সিলর হিসেবে ক্ষমতায় থাকলেও জলাবদ্ধতা সমস্যা দূর করতে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। উল্টো সিটি কর্পোরেশনকে লুটুপুটে খেয়েছে। নিজের আঙ্গুল ফুলে হয়েছে কলা গাছ। তবে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ব্যতিক্রমী সব উদ্যোগ নিচ্ছেন ডা. শাহাদাত হোসেন। এবার তাই রণে সহযোগী হলেন জামায়াতে ইসলামীর নেতারা।
জামায়াত নেতারা বলছেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে জনসাধারণের দুর্ভোগ দ্রুত লাঘব করতে তারা এ উদ্যোগ নিয়েছেন। এজন্য দলটি এক কোটি টাকা ব্যয় করবে। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন ও পরিষ্কার কার্যক্রম শিরোনামের এ কর্মসূচীটি আগামী ১৯ এপ্রিল উদ্বোধন করা হবে।
এর আগে এর আগে মহানগর জামায়াতের নেতৃবৃন্দ চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা মেয়রের সঙ্গে খাল খননের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। মেয়রও তাদের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
জানা যায়, নগরের বির্জা খাল খননের জন্য একটি টেকনিক্যাল টীম গঠন করেছে মহানগর জামায়াত।
সম্প্রতি দেওয়াবাজারস্থ জামায়াত অফিসে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে জলাবদ্ধতা নিরসনে গঠিত টেকনিক্যাল টিম সদস্যদের এক যৌথসভাও হয়েছে। এতে দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, সংসদীয় দলের সাবেক হুইপ, চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর ও সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরীর সভাপতিত্ব করেন।
সভায় বলা হয়েছে, বর্ষার আগেই বির্জা খাল খনন করবে জামায়াত। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি দল ও নগর জামায়াতের গঠিত টেকনিক্যাল টিম প্রকল্প স্থান পরিদর্শন ও ফিজিক্যাল স্টাডি করেছেন। সভায় আগামী ১৯ এপ্রিল (শনিবার) সকাল ৯টায় জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের উদ্বোধনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী নায়েবে আমীর ড. আ জ ম ওবায়েদুল্লাহ, মহানগরী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, নগর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহ ও ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুছ, নগর সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক ওর্য়াড কাউন্সিলর ও চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান, টেকনিক্যাল টিম দায়িত্বশীল ইঞ্জিনিয়ার মানজারে খোরশেদ, ইঞ্জিনিয়ার মোমিনুল হক, ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ লোকমান, ইঞ্জিনিয়ার ফাহমি, ইঞ্জিনিয়ার টিপু ও ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ জিল্লুর রহমান, জামায়াত নেতা আবু বকর ছিদ্দিক, হামেদ হাসান ইলাহী, সুলতান আহমদ, ইঞ্জিনিয়ার সরওয়ার আলম প্রমুখ।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম নগরীর দুঃখ বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা। সাধারণ মানুষের দুঃখ দুর্দশা লাঘবে জামায়াতে ইসলামী দেশের বর্তমান সরকারকে এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে দেশের উন্নয়নের কাজে সহযোগিতার লক্ষ্যে জামায়াতের অর্থায়নে এ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। তিনি এলাকার সকল জনগণ, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সর্বস্তরের মানুষকে বাকলিয়া বির্জাখাল খনন কাজে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান। খাল খনন ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কাজে লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়ার জন্য শাহজাহান চৌধুরী চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে আহবান জানান।
এদিকে এদিকে নগর জামায়াতের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন চট্টগ্রামবাসী। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অফলাইনেও এ উদ্যোগের প্রশংসা করছেন। মোঃ সাব্বির হোসেন নামে একজন লিখেছেন, খাল খনন করা সিটি কর্পোরেশন কিংবা সিডিএ’র কাজ। কিন্তু যে দল এখনো কোনো ক্ষমতায় যায়নি সে দলই এ উদ্যোগ নিল। নিঃসন্দেহে এটি একটি ভালো উদ্যোগ এবং প্রশংসার দাবিদার।
মো. আলাউদ্দিন হাসান নামের একজন ফেসবুকে লিখেছেন, সাধারণ নাগরিক হিসেবে অনুধাবন করি, অন্যান্যদেরকে ক্ষমতায় যেতে না পারলে মন খারাপ করতে দেখা যায়। কিন্তু জামায়াতের নেতারা ক্ষমতায় না গেলেও নানা সামাজিক কাজ চালিয়ে যান এবং সেগুলো হয় মানুষের কল্যাণ।
মহিউদ্দিন মুহিব নামে একজন লিখেন, ইতিপূর্বে ভোটবিহীন মেয়র রেজাউল জলবদ্ধতা দূর করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। এবার বোধহয় নগরবাসীর কষ্ট কমবে। আমাদেরকে আর পানিতে হাবুডুবু খেয়ে অফিসে যেতে হবে না। একদিকে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন অপরদিকে জামায়াত। নিশ্চয়ই এ দুইয়ের উদ্যোগে আমরা সুফল ভোগ করব। রাজনীতি হোক কল্যাণের, রাজনীতি হোক মানুষের জন্য, রাজনীতি হোক দেশের জন্য, উন্নয়নের জন্য। সেখানে কোন মান, অভিমান, দ্বন্দ্ব, বিভেদ, প্রভাবের প্রতিযোগিতা যেন না থাকে। উন্নয়নে যেন আমরা সব দল এক থাকি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, চট্টগ্রাম নগরীর উন্নয়ন ও জলবদ্ধতা নিরসনে দল মত নির্বিশেষে সকলের এগিয়ে আসা উচিত। সরকার, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কারো পক্ষে এককভাবে এই কাজ সম্পাদন করা একার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরী সরকার, সিটি কর্পোরেশন এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ সকলকে এগিয়ে আসতে সর্বস্তরের জনগণ ও জামায়াতের সকল জনশক্তিকে সহযোগিতা করতে হবে। চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাজে বাকলিয়া বির্যা খাল খনন ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা পরিচালনা করবে।
