বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২

চট্টগ্রামে ১৯৬৫ ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১৪৯১টিই ঝুঁকিপূর্ণ

প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬ | ১২:৪২ অপরাহ্ণ আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২৬ | ১২:৪২ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে ১৯৬৫ ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১৪৯১টিই ঝুঁকিপূর্ণ

জালাল উদ্দিন

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে ১ হাজার ৯৬৫টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১ হাজার ৪৯১টি আসনই ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে নিরাপত্তা বাহিনী। এর মধ্যে নগরীতে ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৪৬১টি এবং জেলাতে ঝুঁকিপূর্ণ ১ হাজার ৩০টি কেন্দ্র। পরিস্থিতি বিবেচনায় কেন্দ্রগুলোকে এবার ‘রেড’, ‘ইয়ালো’ এবং ‘গ্রিন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে ‘রেড’, কম ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো ‘ইয়ালো’ আরও ঝুঁকিমুক্ত কেন্দ্রগুলোকে বিবেচনা করা হচ্ছে ‘গ্রিন’ হিসেবে।

তথ্যসূত্র বলছে, এবার রেড চিহ্নিত ভোটকেন্দ্র ৬৫৪টি। এরমধ্যে নগরীতে ৩১০ এবং জেলাতে ৩৪৪। ইয়ালো চিহ্নিত কেন্দ্র ৮৩৭টি। নগরীতে ১৫১ এবং জেলাতে ৬৮৬। গ্রিন চিহ্নিত ভোটকেন্দ্র ৪৭৪টি। এরমধ্যে নগরীতে ১৪৬ এং জেলাতে ৩২৮।

নির্বাচন কমিশন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরামর্শ মতে ১ হাজার ৯৬৫টি কেন্দ্র আমলে নিয়ে ভোটারদের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে পরিকল্পনা করছে নগর ও জেলা পুলিশ।

নির্বাচন কমিশন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের তথ্য বলছে, এর আগের নির্বাচনগুলোতে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে বুথের সংখ্যা ছিলো ১২ হাজার ৩৮৭টি। এরমধ্যে পুরুষ বুথের সংখ্যা ৫ হাজার ৮৪৫ এবং মহিলা বুথের সংখ্যা ৬ হাজার ৬৪২টি। এবার ভোট গ্রহণে মাঠে কাজ করবেন ৪৩ হাজার ১০২ জন কর্মকর্তা। সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এসব কর্মকর্তা বাছাই করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই), চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি), চট্টগ্রাম-৩ (সন্দীপ), চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুন্ড), চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও বায়েজিদ), চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান), চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনীয়া), চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও, বোয়ালখালী ও পাঁচলাইশ আংশিক), চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া), চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী-হালিশহর-খুলশী), চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর, পতেঙ্গা, ডবলমুরিং, ইপিজেড ও সদরঘাট), চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া), চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী), চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক), চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া), চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী)।

নিরপেক্ষ নির্বাচনের কারণে নিজেকে জয়ী করতে ভোটকেন্দ্র দখলে অপচেষ্টা হতে পারে বলে মনে করছে বিভিন্ন সূত্র। যে কারণে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা বিগ্নিত হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে অভ্যন্তরীণ দলীয় কোন্দল এবং স্থানীয় প্রভাবকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করার পরিকল্পনা করছেন আইন শৃঙ্খলাবাহিনী।

তবে গণঅভুত্থ্যানে লুট হওয়া অস্ত্র এবং নির্বাচনে অংশ না নেওয়া দলগুলো এই নির্বাচনের জন্য বড় ঝুঁকি বলে মনে করছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, নির্বাচনের আগে লুট হওয়া এসব অস্ত্র শতভাগ উদ্ধার করতে না পারলে নির্বাচনের পরিবেশ ভিন্ন হতে পারে।

প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো তথ্য না পাওয়া গেলেও সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, সংসদীয় আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি), চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও বায়েজিদ), চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান), চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনীয়া), চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া), চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী-হালিশহর-খুলশী), চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর, পতেঙ্গা, ডবলমুরিং, ইপিজেড ও সদরঘাট), চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া), চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক), চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া), চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী)। এছাড়া প্রতিটি আসনেই একাধিক ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন সূত্র।

জানতে চাইলে আপরাধ বিশেষজ্ঞ এমদাদুল হক বলেন, অনেক প্রার্থী আছেন যারা সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতা করেন। সেসব সন্ত্রাসীদের দিয়ে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হতে পারে। নির্বাচন যাতে কোনোভাবেই প্রভাবিত না হয় সে বিষয়টি লক্ষ রাখতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গণ অভুত্থ্যানের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো সক্রিয় হতে পারেনি। কোনো বিষয়ে তাদের সেনাবাহিনীর উপর নির্ভর হয়। নির্বাচনে পুলিশ যদি মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় না হয় তাহলে কোনোভাবেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে না।

চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ বলেন, প্রার্থীর অবস্থান, রাজনৈতিক এবং স্থানীয় প্রভাবসহ বেশ কিছু বিষয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনায় এনে সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য নিরাপত্তা বলয় তৈরি করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যেসব ভোটকেন্দ্রগুলো অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সেসব ভোটকেন্দ্রের চারপাশে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, পুলিশের পাশাপাশি আনসার, বিজিবি এবং সেনাবাহিনী আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ভোটকেন্দ্রগুলোতে সক্রিয় অবস্থানে থাকবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কি পরিমান ফোর্স থাকবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এতো আগে এ বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। আরও সময় যাক-পরিস্থিতি বিবেচনা করে ফোর্স মোতায়েন করা হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পৌনে ১৩ কোটি ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য দেশজুড়ে থাকছে ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র, যাতে থাকবে ২ লাখ ৪৫ হাজারের বেশি ভোটকক্ষ। প্রতিটি কেন্দ্রে ১৬ থেকে ১৮ জন নিরাপত্তা সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হওয়ায় প্রতি ভোটকক্ষে সিল দেওয়ার গোপনকক্ষ বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশননের তথ্য অনুযায়ী আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ৭৬১টি । তন্মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ৮ হাজার ৭৮০টি, গুরুত্বপূর্ণ ১৬ হাজার ৫৪৮টি ও সাধারণ ভোট কেন্দ্র ১৭ হাজার ৪৩৩টি।

 

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares