বিশেষ প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়া জাহেদিয়া মাদ্রাসা। এটি বুধবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া প্রথম দফা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের একটি ভোটকেন্দ্র । কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ওমর ফারুক দুপুর ১১টায় জানান, এপর্যন্ত ভোট কাস্ট হয়েছে মাত্র এক শতাংশ। সকালের দিকে অল্পকিছু ভোটার দেখা গেলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটার উপস্থিতি একেবারে নেই।
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে চট্টগ্রাম জেলার ৩টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে । নির্বাচনে বড় কোন সহিংসতা না হলেও ভোটার উপস্থিতি ছিলো একেবারে কম ।সরজমিনে মিরসরাই , সন্দ্বীপ ও সীতাকুণ্ড – এই ৩ উপজেলায় দেখা যায়, স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বেশ আনাগোনা থাকলেও সাধারণ মানুষের মানুষের উপস্থিতি ছিলো একেবারেই কম ।অনেক কেন্দ্রে দলীয় নেতাকর্মীদেরও দেখা যায়নি।আবহাওয়া ভালো না থাকায় এই অবস্থা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা । এরমধ্যেও বিভিন্ন কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়ার তথ্য পাওয়া গেছে ।
মিরসরাই উপজেলার কিছু কেন্দ্রে সকালে ভোটার উপস্থিতি থাকলেও বেলা হওয়ার সাথে সাথেই বেশির ভাগ কেন্দ্র ফাঁকা হয়ে যায়।বিএনপি জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলোর নির্বাচন বয়কটের পাশাপাশি থেমে থেমে বৃষ্টি পড়ার কারণেও অনেকটা ফাঁকা ছিলো ভোটকেন্দ্র ।অধিকাংশ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পার করেছেন অলস সময় ।
বুড়া হুজুর মাদরাসা কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মেজবাহ উল হক দুপুর ১ টায় জানান, সাড়ে চার হাজার ভোটের মধ্যে ৫০০ ভোট কাস্ট হয়েছে। উপস্থিতি অত্যন্ত নাজুক।বারিয়ারহাট ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের প্রিজাইড়িং অফিসার বলেন, বিকাল ৩.৩৫ মিনিট পর্যন্ত ১১% ভোট কাস্ট হয়েছে। খিল হিঙ্গুলী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সাহেদ খান বলেন, ভোটার উপস্থিতি নগণ্য।
মঘাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা লিটন চন্দ্র নাথ জানান, সকাল ১০টা পর্যন্ত ৩৬৫১ ভোটারের মধ্যে মোট ভোট কাস্ট ২৫৫। কেন্দ্রের বাইরে গোলযোগের ঘটনা শুনেছি। তবে কেন্দ্রের মধ্যে কোনো সমস্যা হয়নি।
এদিকে এই উপজেলার উত্তর আমবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র থেকে একজন প্রিসাইডিং অফিসার ও দুজন পোলিং অফিসারকে আটক করেন দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এ উপজেলায় ব্যাপক জাল ভোট দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।
দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মোট ৮৬ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় ।এবারের নির্বাচনে সন্দ্বীপ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৫ জন প্রার্থী থাকলেও মাঠের লড়াইয়ে রয়েছেন দুই জন। তারা হলেন- আনারস প্রতীকের এস এম আনোয়ার হোসেন ও কাপ-পিরিচ প্রতীকের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাঈন উদ্দীন মিশন। এছাড়া মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২ জন। তবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ওমর ফারুক। এখানে মোট ভোটার দুই লাখ ৪৫ হাজার ৬৭৬ জন।
এরমধ্যে সরজমিনে ৩টি কেন্দ্রে দেখা যায় , ভোটার উপস্থিতি ছিলো একেবারেই কম। এরমধ্যে সকাল দশটা পর্যন্ত মধ্য সন্তোষপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩২০০ ভোটারের মধ্যে ভোট পড়েছে মাত্র ২০টি। সন্তোষপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৬৬৭ ভোটারের মধ্যে সকাল থেকে ভোট পড়ছে ১০৫টি এবং উত্তর সন্তোষপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৪৫০ ভোটারের মধ্যে ভোট পড়েছে ৮৪টি। সকাল দশটা পর্যন্ত এই তিন কেন্দ্রে নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী ভোট পড়েছে মাত্র এক শতাংশ। তিন কেন্দ্রে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী মাঈন উদ্দীন মিশনের কোনো এজেন্ট পাওয়া যায়নি।
এদিকে সীতাকুণ্ড উপজেলায়ও ভোটার উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো কম। এখানে ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ২৪ হাজার ২৪০ জন। এরমধ্যে চেয়ারম্যান পদে দুই জন, পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুই জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
এখানে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দিতা করেছেন বাশঁবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আরিফুল আলম চৌধুরী রাজু ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মহিউদ্দিন আহমেদ মঞ্জু। ভোটের মাঠে রাজুর কর্মী সমর্থকদের দেখা গেলেও মঞ্জুর কর্মী সমর্থকদের তেমন একটা চোখে পড়েনি। তাঁর নিজ ইউনিয়ন সৈয়দপুরের ভোটকেন্দ্রগুলোতে কোন নির্বাচনী এজেন্ট দেখা যায়নি।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে মহিউদ্দিন আহমেদ মঞ্জু বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোঃ আরিফুল আলম চৌধুরী রাজুর উগ্র কর্মীদের ভয়ে বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের কোন কেন্দ্রে আমার এজেন্ট যায়নি । তবে একটি পৌসভাসহ ৮ টি ইউনিয়নের ভোটকেন্দ্রে গুলোতে আমার এজেন্ট আছে ।
